আসল লক্ষ্য জনসংযোগ। শান্তিপূর্ণ ভোটের (West Bengal Assembly Election) এখন থেকেই প্রত্যেকটি থানা ভাগ করা হল সেক্টরে। প্রত্যেক সেক্টরের জন্য নিয়োগ করা হচ্ছে একজন করে পুলিশ আধিকারিকও। পুলিশের সঙ্গে থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ‘সিভিল অফিসার’রাও।
লালবাজারের সূত্র জানিয়েছে, সাধারণত ভোটের কয়েকদিন আগে থেকে থানাগুলিকে সেক্টরে ভাগ করা হয়। সেক্টরগুলিতে নজরদারি চালায় টহলদার পুলিশ। কিন্তু এবার ভোটের এক মাস আগে থেকে কলকাতার থানাগুলি ভাগ করা হয়েছে সেক্টরে। আয়তন বুঝে একেকটি থানা চার থেকে পাঁচটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেকটি সেক্টরে রাখা হয়েছে দু’জন করে সিভিল অফিসারকে। সাধারণত প্রত্যেক সেক্টরে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের দু’জন কর্মী বা আধিকারিককে সেক্টর আধিকারিক হিসাবে নিয়োগ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও প্রত্যেক সেক্টরে থাকছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর একজন আধিকারিক ও একজন করে পুলিশ আধিকারিকও। পুলিশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানার অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর অথবা সাব ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিককে সেক্টরে নিয়োগ করা হচ্ছে।
পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, এই সেক্টর আধিকারিকদের টিমের সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন প্রথমে নিজেদের সেক্টর ভাল করে ঘুরে দেখেন। সেই ক্ষেত্রে শুধু গাড়িতে নয়, প্রয়োজনে পায়ে হেঁটেও তাঁদের ঘুরতে হবে। চিনে নিতে হবে পুরো রাস্তা। নিজেদের সেক্টরের ম্যাপ তাঁদের হাতে থাকবে। এমনকী, এলাকায় যতগুলি বাড়ি রয়েছে, সেগুলির বাসিন্দাদের সম্পর্কেও ধারণা রাখতে হবে সেক্টর আধিকারিকদের। এলাকা চিনে নেওয়ার পর তাঁদের পরিচয় করতে হবে এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। ভোটের আগে কেউ তাঁদের ভয় দেখাচ্ছেন কি না, ভোট (West Bengal Assembly Election) দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা রয়েছে কি না, তা-ও জানতে হবে। বাড়িতে বয়স্ক ও চলাফেরা করতে পারেন না, এমন কেউ থাকলে প্রয়োজনে তাঁদের বাড়িতে এসে ভোটপর্ব সারা যায় কি না, সেই সিদ্ধান্তও প্রয়োজনে নিতে পারেন আধিকারিকরা।
তবে সেক্টর আধিকারিকদের মূল লক্ষ্য শান্তিপূর্ণ ও অবাধ ভোট করানো। তাই নিজেদের সেক্টরে যাতে কোনও গোলমাল না হয়, সেদিকেই তাঁদের বেশি নজর দিতে বলা হয়েছে। সেই কারণে সেই এলাকায় কোনও ‘ট্রাবল মঙ্গার’ রয়েছে কি না, ভোটের আগে বা ভোটের দিন তারা কোনও গোলমাল করতে পারে কি না, সেদিকেও নজর রাখতে হচ্ছে। ভোট চলাকালীনও সারাক্ষণ নিজেদের সেক্টরে ঘুরতে হবে। কোথাও কোনও গোলমালের সম্ভাবনা দেখা দিলেই তাঁরা সংশ্লিষ্ট থানা ও বাহিনীকে খবর দেবেন, যাতে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী সেখানে পৌঁছয়। এ ছাড়াও যে সেক্টরে ভোটকেন্দ্র রয়েছে, সেখানেও বাইরে থেকে নজরদারির জন্য সেক্টর আধিকারিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
