ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের মুখে দলীয় সংগঠনের পরিস্থিতি থেকে প্রার্থীদের নাম, সবকিছু নিয়েই যথেষ্ট অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির। বিশেষত প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। যেসব জায়গায় প্রার্থী নিয়ে দলের অন্দরে ক্ষোভ, তার বেশিরভাগ অভিযোগ একটাই। তা হলো, সংগঠনের 'আদি' নেতাদের ব্রাত্য করে নবাগতদের টিকিট দেওয়া হয়েছে। কখনও আর জি করের নির্যাতিতার মা, কখনও কামদুনির আন্দোলনকারী টুম্পা কয়াল - ভোটের মুখে এসব ব্যক্তিত্বের দলে যোগদান এবং প্রার্থী হওয়ার জল্পনা দলের অন্দরেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে শীর্ষ নেতৃত্বকে। যদিও টুম্পার যোগদান এখনও বিবেচনাধীন। তা সত্ত্বেও প্রশ্ন উঠছে, কেন 'বহিরাগত'দের নিয়ে এত মাতামাতি?
কখনও আর জি করের নির্যাতিতার মা, কখনও কামদুনির আন্দোলনকারী টুম্পা কয়াল - ভোটের মুখে এসব ব্যক্তিত্বের দলে যোগদান এবং প্রার্থী হওয়ার জল্পনা দলের অন্দরেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে শীর্ষ নেতৃত্বকে। প্রশ্ন উঠছে, কেন 'বহিরাগত'দের নিয়ে এত মাতামাতি?
শনিবার বিজেপির সল্টলেকের সদর দপ্তরে এসেছিলেন কামদুনির আন্দোলনকারী টুম্পা কয়াল। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর সঙ্গে দেখা করে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। শমীকের সঙ্গে দেখা করার পর টুম্পা কয়াল বলেন, "রাজনীতি ছাড়া আন্দোলন করা অত্যন্ত টাফ ব্যাপার। আমি ভাবছি একটা রাজনীতির ছত্রচ্ছায়ায় এসে আন্দোলন করতে। মানুষের পাশে দাঁড়াতে। সেই কারণে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, বিজেপিতে যোগ দেব।"
এ প্রসঙ্গে শমীকের বক্তব্য, “কামদুনি আন্দোলন যখন তৈরি হয়েছিল, তখন টুম্পা তার একটা মুখ ছিল। সেই আন্দোলনের সঙ্গে বিজেপিও ছিল। আমি বহুবার ওখানে গিয়েছি। আজ সকালে টুম্পা এসেছিলেন। বহুবার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন ওদের আন্দোলন নিয়ে। এখন বিজেপিতে যোগদান করতে চান। কিন্তু আমাদের দলে যোগদানের একটা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে। আমি দলকে জানাব। দল যদি রাজি থাকে তবে আমি তাঁকে পার্টিতে শামিল করে নেব।"
শমীকের সঙ্গে দেখা করার পর টুম্পা কয়াল বলেন, "রাজনীতি ছাড়া আন্দোলন করা অত্যন্ত টাফ ব্যাপার। আমি ভাবছি একটা রাজনীতির ছত্রচ্ছায়ায় এসে আন্দোলন করতে। মানুষের পাশে দাঁড়াতে। সেই কারণে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, বিজেপিতে যোগ দেব।"
আর এখানেই উঠছে হাজার প্রশ্ন। আগেও কামদুনির আরেক আন্দোলনকারী মুখ মৌসুমী কয়ালের বিজেপি যোগ চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল। ২০২১ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাঁর টিকিট পাওয়া নিয়ে জোর জল্পনা তৈরি হলেও শেষমেশ মৌসুমীকে প্রার্থী করেনি গেরুয়া শিবির। তা নিয়ে অবশ্য ক্ষোভও কম হয়নি। এবার ছাব্বিশের ভোটের মুখে রাতারাতিই বিজেপিতে যোগ দিয়ে চমক দিয়েছেন আর জি করের নির্যাতিতার মা। পানিহাটি থেকে তাঁর এবার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। সেই তালিকায় এবার যোগ হচ্ছেন কামদুনির আরেক প্রতিবাদী টুম্পা। এসবের পর দলের অন্দরেই প্রশ্ন, বাইরে থেকে আসা সদস্যদের নিয়ে এত বাড়াবাড়ি কেন? কেনই বা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন করে আসা নেতা, কর্মীদের দল গুরুত্ব দিতে নারাজ? বঙ্গ বিজেপি কি এই কারণেই বারবার পিছিয়ে পড়ছে? এই প্রশ্নও উঠছে।
