বিধানসভা ভোটের (Bengal Election 2026) আগে মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন। আজ, রবিবার কংগ্রেসে ছেড়ে বাংলার শাসক শিবিরে যোগ দিলেন লালগোলা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তিন কর্মাধ্যক্ষ-সহ আরও দু'জন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। এই পঞ্চায়েত সমিতি বাম ও কংগ্রেস জোটের অধীনে ছিল। এদিনের দলবদলের জন্য বিরোধীদের হাতে থাকা জেলার একমাত্র পঞ্চায়েত সমিতি এবার তৃণমূলের দখলে চলে গেল। এই যোগদানের ফলে ভোটের আগে লালগোলার রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় বদল আসার সম্ভাবনা, এমনই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
রবিবার জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সাংসদ খলিলুর রহমান, জাকির হোসেন ও লালগোলার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী আবদুল আজিজের উপস্থিতিতে এই দলবদল হল। পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীর, কর্মাধ্যক্ষ আজিনুর বিবি ও নজরুল ইসলাম এদিন তৃণমূলের পতাকা তুলে নেন। ছাড়াও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা শুকতারা বিবি, এলিজা বিবি-সহ আরও বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী শাসক দলে যোগ দিয়েছেন বলে খবর।
জানা গিয়েছে, এই পঞ্চায়েত সমিতির মোট আসন ৩৬। তৃণমূলের হাতে আগে ছিল ১২। কংগ্রেস ও সিপিএম পেয়েছিল ১৩ ও ৯টি আসন। এছারাও বিজেপি ও নির্দল একটি করে আসন পেয়েছিল। জোট করে বাম-কংগ্রেস ওই পঞ্চায়েত সমিতি হাতে রেখেছিল। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হন কংগ্রেসের লক্ষ্মীরানি সরকার, শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ হুমায়ন কবীর, জনস্বাস্থ্য কমাধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, মৎস ও প্রাণী কর্মাধ্যক্ষ তাজিনুর বিবি, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য শুকতারা বিবি ও এলিজা বিবি। এঁরা পাঁচজনই কংগ্রেস দলে ছিল। কিন্তু এদিনের দলবদলের ফলে তৃণমূল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল।
স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজ এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত হয়েই কংগ্রেসের বহু নেতা-কর্মী তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন। এদিন দলবদল করা নেতারাও জানান, এলাকার উন্নয়ন ও সার্বিক অগ্রগতির জন্যই তাঁরা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। কংগ্রেসের তরফে এই বিষয়ে মন্তব্য করা হয়নি।
