shono
Advertisement

Breaking News

Dog

জীবে প্রেম...! সাপের ছোবল থেকে ৩০ শিশুকে বাঁচিয়ে মৃত্যু পথকুকুরের

গ্রামবাসীরা মৃত কুকুরটিকে আবেগঘন বিদায় জানায় এবং পূর্ণাঙ্গ আচার-অনুষ্ঠান পালনে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করে।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 12:00 PM Apr 26, 2026Updated: 12:06 PM Apr 26, 2026

পথকুকুরদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের মাথাব্যথার শেষ ছিল না। খেপে যাওয়া কুকুরদের কামড়ে জনতা বড় বিপদে পড়তে পারে, সেই আশঙ্কায় সমস্ত রাস্তার সারমেয়দের খাঁচাবন্দি করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। তা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। এসবের মাঝেই শিরোনামে ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার প্রত্যন্ত ধীরাকুলা গ্রামের 'কালী', এক পথকুকুর। সে যা করেছে, তাতে মানুষের ভয় নয়, ভরসা আরও বেড়ে গিয়েছিল। হ্যাঁ, গিয়েছিল। এখন আর নেই। তার কারণ, কালীই আর নেই যে! সাপের ছোবল থেকে ছোট পড়ুয়াদের বাঁচিয়ে কালী নিজে মৃত্যুবরণ করেছে। তার এই কীর্তির কথা এখন লোকের মুখে মুখে ঘুরছে।

Advertisement

গ্রামবাসীরা জানান, সাপটি বারবার ছোবল মারতে উদ্যত হলেও কালী সাহসিকতার সঙ্গে টানা লড়ে যায়, এতটুকুও পিছু হটেনি। এরপর কালী সাপটিকে মারতে সক্ষম হলেও লড়াইয়ের সময় তার মুখে সাপটি কামড়ে দেয়। পরে সেই বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়।

ঠিক কী ঘটেছিল? ওড়িশা টেলিভিশনের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিন কয়েক আগে ধীরাকুলা গ্রামের স্থানীয় শ্রী জগন্নাথ শিশু বিদ্যামন্দিরের ৩০ জনেরও বেশি ছাত্রছাত্রী তাদের বিদ্যালয়ের বাইরে বসেছিল। এমন সময় একটি বিষধর সাপ বিপজ্জনকভাবে ওই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের খুব কাছে চলে আসে। কোনও মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই কালী বিপদ আঁচ করতে পেরে এক মুহূর্তও না ভেবে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সে ছুটে গিয়ে সাপ ও স্কুলপড়ুয়াদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পড়ে। বীরবিক্রমে তুমুল লড়াই করে বিষধর সাপটির সঙ্গে।

গ্রামবাসীরা জানান, সাপটি বারবার ছোবল মারতে উদ্যত হলেও কালী সাহসিকতার সঙ্গে টানা লড়ে যায়, এতটুকুও পিছু হটেনি। এরপর কালী সাপটিকে মারতে সক্ষম হলেও লড়াইয়ের সময় তার মুখে সাপটি কামড়ে দেয়। পরে সেই বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়। কুকুরটির আঘাত গুরুতর ছিল, কিন্তু তার দৃঢ়তা ও অধ্যবসায় সাপটিকে শিশুদের কাছে পৌঁছতে বাধা দেয়। শেষে, সে সরীসৃপটিকে মেরে ফেলে নিশ্চিত করে কোনও শিশু সাপের ছোবলে আহত হয়নি। পথকুকুর কালীর এই আত্মত্যাগে গ্রামবাসীরা হতবাক ও কৃতজ্ঞ। তবে ধীরকুলায় কালীর মৃত্যুকে সাধারণ ভবঘুরে প্রাণীর মৃত্যু হিসেবে গণ্য করা হয়নি। গ্রামবাসীরা তাকে আবেগঘন বিদায় জানায় এবং সাধারণত মানুষের জন্য সংরক্ষিত পূর্ণাঙ্গ আচার-অনুষ্ঠান পালনে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement