গৌতম ব্রহ্ম: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে সফল ক্রীড়াবিদরা চাইলে পুলিশের চাকরিতে যোগ দিতে পারেন। রাজ্যের খেলাধূলোকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এমনই অভিনব পদক্ষেপ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানিয়ে দিলেন, ‘‘যারা পুরষ্কার পেলেন, তাদের মধ্যে কেউ যদি মনে করেন, একটা চাকরি পেতে ইচ্ছুক তাহলে তারা তাঁদের বায়োডাটা অরূপ বিশ্বাসের কাছে দিন। একটা স্পেশ্যাল আইন করে তাঁদের আমরা নিয়ে আসব।’’
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘আমি মুখ্যসচিবকে ইতিমধ্যেই বলেছি, কাগজপত্র রেডি করতে। আপনারা পুলিশে খুব ভাল কাজ করতে পারবেন। কারণ আপনারা খুব ফিট। আপনাদের আঠারো মাসের বদলে এক মাস ট্রেনিং দিলেই কাজ হয়ে যাবে। যোগ্যতা অনুসারে কাজ পাবেন।’’
এদিন অরূপ বিশ্বাসকে ক্রীড়াবিদদের চাকরির বিষয়টি দেখার জন্য একটা আলাদা ডেস্ক তৈরিরও নির্দেশ দেন মমতা।
[আরও পড়ুন: প্রকাশ্যে ISL ডার্বির দিনক্ষণ, পরপর দুমাসে মুখোমুখি ইস্ট-মোহন]
বৃহস্পতিবার রাজ্যের তরফে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে সফল ৩২২ জন ক্রীড়াবিদকে ‘খেলাশ্রী’ ও সাতজন পুলিশ অফিসারকে ‘শৌর্য’ পদক দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী নিজে ৭২ জনের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। আলিপুরের ‘ধনধান্য’ প্রেক্ষাগৃহে কৃতী ক্রীড়াবিদদের আর্থিক পুরস্কার ও সম্মান জ্ঞাপনের পাশাপাশি প্রাক্তন বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদদের মাসিক সাম্মানিক প্রদান করার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘ন্যাশনাল গেমস, এশিয়ান গেমস, ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক্সে কৃতী ৩২২ জন ক্রীড়াবিদকে প্রায় ৬ কোটি ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকার সম্মাননা জ্ঞাপন করা হচ্ছে। আমাদের সরকার অনেক নতুন সম্মাননা চালু করেছি। খেল সম্মান, বাংলার গৌরব, ক্রীড়াগুরু, জীবনকৃতি পুরষ্কার। এখনও পর্যন্ত ৪৬০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এই সম্মান পেয়েছেন। ১৫৬৭ জন বিশিষ্ট অবসরপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদেরও সম্মানিক দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে সাম্মানিক যাবে। আজ থেকেই তা চালু হয়ে গেল। ১ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা এই সাম্মানিক পাবেন। চার মাসের সাম্মানিকও আজ চলে যাবে তাঁদের কাছে।
মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের পিছিয়ে পড়া এলাকার ছেলেমেয়েদের খেলাধুলোর জগতে নিয়ে আসার জন্য, জঙ্গলমহল কাপ, সৈকত কাপ, রাঙামাটি কাপ, সুন্দরবন কাপ-সহ বিভিন্ন টুর্নামেন্েটর আয়োজন করে। এর মধ্যে রানার্স ও উইনার্সদের পুলিশে চাকরি দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ইতিমধ্যেই আমরা প্রায় ৪,৩০০ জন খেলোয়াড়কে চাকরি দিয়েছি। রাজ্যের ১৩২১ টি কোচিং ক্যাম্পকে চিহ্নিত করে ১ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের এখান থেকে ২১ জন এভারেস্ট জয় করেছে। অথচ স্বাধীনতার পর থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সংখ্যাটা ছিল মাত্র চার।’’ পুলিশে কাজ করা যে সম্মানজনক তা বোঝাতে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘‘কলকাতা নিরাপদতম শহর। বাংলাও আশা করি রাজীব কুমারের নেতৃত্বে খুব ভাল কাজ করবে।’’
সামনে লোকসভা নির্বাচন। দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও এপ্রিলে ভোট ধরে নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোটের রণকৌশল চূড়ান্ত করতে ইতিমধ্যেই জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের অনুষ্ঠান থেকে উত্তরবঙ্গ সফরের কথাও ঘোষণা করে দেন মমতা। বলেন, ‘‘২৮ তারিখ আমি রওনা দেব। হাসিমারা যাব। সেখান থেকে যাব কোচবিহার। ২৯ তারিখ কোচবিহারে কর্মসূচি আছে। তারপর সেখান থেকে উত্তরকন্যায় ফিরব। সেখানে জলপাইগুড়ি-আলিপুরদুয়ারের পাট্টা বিলি আছে। পরের দিন যাব রায়গঞ্জে। সেখান থেকে বালুরঘাট। তারপরের দিন যাব মালদায়। এরপর মুর্শিদাবাদ, কৃষ্ণনগরে।’’
মমতা জানান, ‘‘২৮ তারিখ থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা কর্মসূচি। ২ তারিখও হয়ে যেতে পারে।’’ তবে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, ২ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু। তিন দিন আগে থেকে বাইরে মাইক ব্যবহার করা যায় না। অর্থাৎ ৩০ জানুয়ারি থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘তাই আমরা ইনডোরে অনুষ্ঠান করব, বক্স লাগিয়ে কর্মসূচি করব। পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ার পর করব। আমরা কোনও র্যালি করছি না। র্যালি করা যায় না ওই সময়। মাইক্রোফোন ব্যবহার করা যায় না বাইরে। হল বানিয়ে নেব, কিংবা স্টেডিয়ামে করব অনুষ্ঠান।’’
