মোহনবাগান ৪ (ববি ২, রাহিল, শ্রেয়স)
ইস্টবেঙ্গল ১ (সিমরনজোৎ)
হকি ডার্বির রং সবুজ-মেরুন। কলকাতা প্রিমিয়ার হকি লিগের ডার্বি জিতল মোহনবাগান। ইস্টবেঙ্গলকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে টানা চার জয়ে লিগ শীর্ষে থাকল গোষ্ঠ পাল সরণির ক্লাব। জোড়া গোল করে ম্যাচের নায়ক ববি সিং ধামি।
যুবভারতী এতদিন ডার্বি দেখেছে ফুটবলে। অধুনা আই লিগ থেকে বর্তমান আইএসএল, কিংবা কলকাতা লিগ, ফেডারেশন কাপ, আইএফএ শিল্ড বা ডুরান্ড কাপ-ভারতীয় ফুটবলে প্রথমসারির সব প্রতিযোগিতায় এই স্টেডিয়ামে বহুবার মুখোমুখি হয়েছে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল। এবার হকিতেও যুবভারতী চত্বরে দেখা গেল ডার্বির লড়াই। এই প্রথমবার যুবভারতীর নবনির্মিত হকি স্টেডিয়ামের অ্যাস্ট্রোটার্ফে ম্যাচ জিতে নতুন ইতিহাস লিখল মোহনবাগান।
এদিন সদ্য প্রয়াত সমর্থক 'মোহনবাগান দিদা' শান্তি চক্রবর্তীকে স্মরণ করে গ্যালারিতে টিফো নামান সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। আর ম্যাচের প্রথম থেকে আগ্রাসী মেজাজ নিয়ে নামেন সবুজ-মেরুন খেলোয়াড়রা। মোহনবাগানের হয়ে জোড়া গোল করেছেন ববি সিং ধামি। বাকি গোলগুলি মহম্মদ রাহিল এবং শ্রেয়স ধুপের। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে গোল করেন সিমরনজোৎ সিং।
এদিন সদ্য প্রয়াত সমর্থক 'মোহনবাগান দিদা' শান্তি চক্রবর্তীকে স্মরণ করে গ্যালারিতে টিফো নামান সবুজ-মেরুন সমর্থকরা।
৪-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই খুশি মোহনবাগানের অন্যতম সেরা পারফর্মার ববি সিং ধামি। ম্যাচে জোড়া গোল করা এই খেলোয়াড় বলেন, “ভালোই লাগছে। দল জিতেছে, সেটাই সবচেয়ে বড় কথা। ডার্বিতে জয় আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।” আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে তিনি জানিয়ে দেন, দলের লক্ষ্য একটাই। টুর্নামেন্ট জয়। “এটা ডার্বি ম্যাচ ছিল। আর ডার্বির গুরুত্ব সবাই জানে। এবার আমাদের লক্ষ্য ট্রফি জেতা,” বলেন তিনি।
প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁর জবাব, “এটাই ছিল আমাদের প্রথম ডার্বি। তবে প্রস্তুতি ছিল স্বাভাবিক ম্যাচের মতোই। আমরা নিজেদের ভুল কমানোর দিকে জোর দিয়েছিলাম। নির্দিষ্ট কৌশল মেনেই খেলেছি।” তবে প্রতিযোগিতায় ক'টা গোল করেছেন, সেই হিসাব গুলিয়ে ফেললেন। বললেন, “এই ম্যাচে দু’টি গোল করেছি। আর পুরো টুর্নামেন্টে ছ’টি বা সাতটি... সঠিক হিসাবটা দেখে বলতে হবে।”
সমর্থকদের উপস্থিতি তাঁকে বাড়তি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলেও জানান তিনি। “এত সমর্থকের সামনে খেলতে পেরে খুব ভালো লেগেছে। গোটা ম্যাচে আমাদের জন্য গলা ফাটিয়েছেন তাঁরা।” যোগ করেন তিনি। নিজের জীবনের কথাও তুলে ধরেন ববি। জানান, তাঁর বাড়ি হরিয়ানায়। যদিও শিকড় উত্তরাখণ্ডে। পরিবারে রয়েছেন বাবা, মা, দাদা ও দাদু।
