নয়া আর্থিক বছর শুরুর পাশাপাশি অক্ষয় তৃতীয়াকে কেন্দ্র করে সোনার বাজারের চাহিদা ফের বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে স্বল্পমেয়াদে সোনায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দামের ওঠা-নামা হলেও, দীর্ঘ মেয়াদে সোনায় বিনিয়োগ (Gold Investment) লাভজনক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি এই ইস্যুতে এক রিপোর্ট পেশ করেছে 'মতিলাল ওসওয়াল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস' (Motilal Oswal Financial Services)।
রিপোর্ট বলছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সোনার দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। যদিও সোনার এই উত্থান ছিল অনিয়মিত। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা এবং মার্কিন সুদের হারের অনিশ্চয়তার মতো বিষয়গুলি সোনার দামে প্রভাব ফেলছে। মতিলাল ওসওয়ালের কমোডিটি গবেষণা বিভাগের প্রধান নবনীত দামানি বলেন, "এই অবস্থায় স্বল্পমেয়াদে সোনায় বিনিয়োগ কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ লাভজনক হতে পারে।" তাঁর মতে, দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনা এখন এক নির্ভরযোগ্য সম্পদ। পাশাপাশি আরও জানা যাচ্ছে, বর্তমানে দেশে ইটিএফের মতো ক্ষেত্রে সোনায় বিনিয়োগের প্রবণতা বাড়ছে।
২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সোনার দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। যদিও সোনার এই উত্থান ছিল অনিয়মিত।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি প্রায় ৮৬০-৮৭০ টন সোনা কিনেছে। অর্থাৎ চাহিদা যে বাড়ছে তা নিয়ে সন্দেহ নেই। অবশ্য ২০২৪ সালের তুলনায় এই ক্রয় কিছুটা কম। তবে উচ্চমূল্যের জন্য দেশে গয়না বানানোর প্রবণতা কিছুটা কমেছে। কমোডিটি বিশ্লেষক মানব মোদি বলেন, “অক্ষয় তৃতীয়ার মতো উৎসবে সোনার চাহিদা থাকলেও, এখন বিনিয়োগকারীরা ধীরে ধীরে আরও স্বচ্ছ ও সহজলভ্য বিকল্পের দিকে ঝুঁকছেন।”
বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে সোনার দামে কিছুটা সংশোধন দেখা যেতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ লাভজনক হয়ে উঠতে পারে। ভূ-রাজনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধীরগতি এবং সম্ভাব্য সুদের হার কমার সম্ভাবনা সোনার দামে সহায়ক হতে পারে। তবে ডলারের দাম বৃদ্ধি সোনার দামে কিছুটা চাপ বাড়াতে পারে। এই অবস্থায় দীর্ঘমেয়াদে সোনায় বিনিয়োগেরই পরামর্শ দিচ্ছে মতিলাল ওসোয়াল।
(বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: শেয়ারবাজার ঝুঁকিপূর্ণ। বিনিয়োগের আগে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন।)
