বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে শুধু ভারত নয়, বিশ্বজুড়েই প্রকট হয়ে উঠেছে উত্তেজনা, অনিশ্চয়তা। বাজারেও তার আঁচ পড়েছে বিলক্ষণ। এই পরিস্থিতিতে ইনভেস্টরদের করণীয় ঠিক কী? কী করলে থাকতে পারবেন কিছুটা হলেও চাপমুক্ত, পথ বাতলে দিচ্ছেন অনিমেষ সেন
এই ন্যারেটিভের একটা লম্বা নাম দিতে পারতাম। যেমন ধরুন 'সুদের হার, তেলের ধাক্কা ও আপনার বিনিয়োগ: এখন কী করবেন?' এত কিছু না বলে আমার বক্তব্য সংক্ষেপে রাখছি। ইনভেস্টরদের কী জানা দরকার, আর তাঁদের ঠিক কী করণীয়, এই দুই নিয়েই আজ বলব।
বিশ্ব-জোড়া চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এতে সুদের হার ও অন্য ফান্ডামেন্টালসের কী হবে, সাধারণ মানুষের বিনিয়োগে তার প্রভাব কোথায়? প্রথমেই বলি, এই সময়ে আবেগ নয়, সহজ যুক্তির উপর ভর করাই সবচেয়ে জরুরি। এই লেখায় আমি পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি আপনাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছি।
গোড়াতেই কী বদলেছে? সবচেয়ে বড় প্রভাব এসেছে অপরিশোধিত তেলের দামে। ইন্ডিয়া প্রায় ৮০% তেলের চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। ফলে তেলের দাম বাড়লেই তা সরাসরি আমাদের মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলে। যখন মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসছিল, ঠিক তখনই এই নতুন পরিস্থিতি আবার চাপ তৈরি করেছে।
- এর ফলে অন্য নানা সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের মত, আমাদের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া এক কঠিন অবস্থায় পড়েছে। কিছুদিন আগে হয়তো আরও একটু সুদের হার কমানোর সুযোগ ছিল, কিন্তু এখন পলিসি মেকারদের সতর্ক অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
- আমার মতে এখন একটা "দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার" (Higher for Longer) পর্যায়ে ঢুকছি আমরা। তার মানে সুদের হার কমানোর প্রক্রিয়া দেরি হতে পারে, তবে তা একেবারেই বাতিল করা হবে না।
- বন্ডের ইল্ড অস্থির থাকতে পারে, এবং ঊর্ধ্বমুখী ঝোঁক, মানে চড়া থাকার বায়াস, থাকতে পারে
তাহলে বিনিয়োগকারীদের কী করা উচিত?
এই পরিস্থিতিতে আতঙ্ক নয়, ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। সঙ্গের পয়েন্টগুলো দেখুন।
১. স্থির আয় (Fixed Income): এখন নতুন সুযোগ আসছে। রক্ষণশীল বা কনজারভেটিভ বিনিয়োগকারীদের জন্য আজ তুলনামূলকভাবে অনুকূল বা পজিটিভ সময়।
২. কোনও পক্ষপাত ছাড়া বলছি। আজ Shriram Finance বা Bajaj Finance বা অন্য ভাল কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের ডিপোজিটে কিছুটা আকর্ষণীয় সুদের হার পাওয়া যাচ্ছে। পরখ করে দেখতে পারেন।
৩. দীর্ঘ বা মধ্য হতে মেয়াদে সব একসঙ্গে বিনিয়োগ না করে তিন থেকে পাঁচ বছরের 'ল্যাডারিং কৌশল' (laddering strate gy) মেনে চলুন। এই বিষয়ে নির্দিষ্ট ভাবে জেনে নেবেন।
৪. মিউচুয়াল ফান্ডে তুলনায় স্বল্প মেয়াদি (short duration) বা banking & PSU debt funds বিবেচনা করুন। তবে এর জন্য আপনার রিস্ক টলারেন্স কেমন, তা বোঝা দরকার।
৫. ইক্যুইটির জন্য ধৈর্যই মূল ভূমিকা নেবে, জানেনই তো। বাজারে অস্থিরতা থাকতে পারে, কিন্তু এখন বেরিয়ে যাওয়ার সময় নয়। বরং আপনার নির্ধারিত অ্যাসেট অ্যালোকেশন বজায় রাখুন। মার্কেট পড়লে কেনার সুযোগ আসে। এনার্জি, ডিফেন্স, ইলেকট্রনিক্স, কেমিক্যালস ও কমোডিটি খাতে সম্ভাবনা থাকতে পারে বলে মনে হয়।
সোনার কথা বলে শেষ করি। এটা এক বিশেষ 'হেজ' (hedge)। তার মানে এই অ্যাসেট আপনার পোর্টফোলিওয় ভারসাম্য দেবে। আমার মতে, সাধারণ মানুষ নিজের পোর্টফোলিওর ৫-১৫% সোনায় রাখতে পারেন। পরিশেষে, নতুন ফিনান্সিয়াল বছরের গোড়াতে 'বিগ পিকচার' দেখতে বলছি সকলকে।
লেখক পার্সোনাল ফিনান্স প্র্যাকটিশনার
