কেরিয়ারের শুরুতে আকাশছোঁয়া স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। কিন্তু সেই স্বপ্নকে বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে আনা সহজ নয়। বিশেষ করে আটাশ বছর বয়সেই এক কোটি টাকার সম্পত্তির মালকিন হওয়া সাধারণ মধ্যবিত্তের কাছে রূপকথার মতো। তবে অসাধ্য সাধন করেছেন এক তরুণী। বিয়ের ঠিক এক সপ্তাহ আগে নিজের নেটওয়ার্থ বা মোট সম্পত্তির পরিমাণ এক কোটি টাকায় নিয়ে গিয়েছেন তিনি। পেশায় প্রযুক্তি সংস্থার বিপণনকর্মী ওই তরুণী প্রমাণ করেছেন, সঞ্চয় বৃদ্ধির জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। দরকার শুধু নিয়মমাফিক শৃঙ্খলা।
একুশ বছর বয়সে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন তিনি। সেই সময় থেকেই তিলে তিলে সঞ্চয় শুরু। কোনও প্রথাগত আর্থিক পরামর্শদাতা ছাড়াই নিজের পোর্টফোলিও সাজিয়েছিলেন। দীর্ঘ সাত বছরের নিরন্তর প্রচেষ্টায় আজ তিনি সাফল্যের শিখরে। তাঁর এই যাত্রাপথ কোনও ঝোড়ো ইনিংস নয়, বরং ছিল রক্ষণাত্মক ব্যাটিং! গত সাত বছর ধরে মিউচুয়াল ফান্ড, স্বর্ণ সঞ্চয় প্রকল্প, পিএফ এবং সরাসরি শেয়ার বাজারে টাকা রেখেছেন তিনি। তবে কোনও ম্যাজিক নয়, তাঁর সাফল্যের আসল চাবিকাঠি হল ধারাবাহিকতা।
ওই তরুণীর মতে, বিনিয়োগের কোনও নির্দিষ্ট বয়স বা বড় অঙ্কের প্রয়োজন হয় না। সামান্য টাকা দিয়ে শুরু করেও বড় তহবিল গড়া সম্ভব। আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগের অঙ্ক বাড়িয়েছেন তিনি। নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন জীবনযাত্রার খররচ। তবে সবটাই যে নির্ভুলভাবে হয়েছে তা নয়। শুরুর দিকে ঝুঁকি নিতে ভয় পেয়েছিলেন। দীর্ঘ মেয়াদে লাভের জন্য লার্জ-ক্যাপ ফান্ডের ওপর অতিরিক্ত ভরসা করা এবং সোনায় বেশি বিনিয়োগ করাকে নিজের ভুল হিসেবেই দেখছেন তিনি। তাঁর আফসোস, কেরিয়ারের শুরুতে সরাসরি শেয়ার বাজারে আরও কিছুটা সাহসী হলে আজ সম্পত্তির পরিমাণ অনেকটাই বেশি হতে পারত।
অবিশ্যি এক কোটিতে থেমে নেই তাঁর দৌড়। ১ কোটির লক্ষ্য পূরণ হওয়ার পর এবার তিনি ২ কোটির দিকে তাকিয়ে। এবার পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য আনতে চান তিনি। বিদেশের শেয়ার বাজার এবং জমি ক্রয় করতেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন তিনি। লগ্নির এই লড়াইয়ে তাঁর মূল বার্তা একটাই— শুরুটা আজই করুন। জটিল অঙ্ক না কষে অল্প অল্প করে সঞ্চয় শুরু করলে সময়ের ব্যবধানে তা বটবৃক্ষ হয়ে উঠতে বাধ্য। আটাশ বছরের এই তরুণীর সফরনামা আজ দেশের বহু তরুণ প্রজন্মের কাছে নয়া দিশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
