Advertisement
পৃথিবীর মানচিত্রে ১০ রহস্যময় স্থান, যেখান থেকে আর ফিরে আসা যায় না!
পৃথিবীর মানচিত্রে এমন কিছু বিন্দু রয়েছে, যেখানে বিজ্ঞান অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে। থমকে দাঁড়ায় যাবতীয় যুক্তি। এই রহস্যময় জায়গাগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষকে আকর্ষণ করে চলেছে। আবার ভয়ে সিঁটিয়েও রেখেছে। এখানে কেউ একবার প্রবেশ করলে, ফিরে আসে না আর কখনওই। কেউ কেউ মনে করেন, এই সব স্থানে প্রকৃতির কোনও নিয়ম খাটে না। আবার কেউ বলেন, এগুলি নাকি ভিনগ্রহীদের গোপন আস্তানা! যুক্তি আর লোকগাথার সেই ধূসর সীমান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে পৃথিবীর অজানা এই ১০ বিভীষিকা।
আওকিগাহারা ফরেস্ট, জাপান: মাউন্ট ফুজি-র পাদদেশে এই ঘন অরণ্য 'সুইসাইড ফরেস্ট' নামে পরিচিত। গাছের শিকড় এখানে মাটির ওপর জালের মতো ছড়িয়ে থাকে। কম্পাস এখানে কাজ করে না। প্রতি বছর বহু মানুষ এই জঙ্গলে ঢোকেন, যাঁদের হদিস আর কোনওদিন কেউ পান না।
বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল: আটলান্টিক মহাসাগরের এই নির্দিষ্ট অংশটি জাহাজ এবং বিমান নিখোঁজ হওয়ার জন্য কুখ্যাত। ফ্লোরিডা, পুয়ের্তো রিকো এবং বারমুডার মধ্যবর্তী এই এলাকায় প্রবেশ করে বহু যান স্রেফ হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছে। কোনও ধ্বংসাবশেষের চিহ্নও কোনওদিন উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি কারও পক্ষে।
হোইয়া বাসিউ ফরেস্ট: রোমানিয়ার এই বনভূমিকে বলা হয় ট্রানসিলভানিয়ার বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল। এখানকার গাছগুলোর আকার অদ্ভুতভাবে বাঁকানো। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, এই বনে প্রবেশ করলে সময়ের জ্ঞান হারিয়ে যায়। অনেকে দাবি করেন, এখানে অদ্ভুত আলোর ছটা এবং ইউএফও দেখা যায়। আদতে যে সত্যিটা কী তা আজও রহস্যে ঢাকা।
বেনিংটন ট্রায়াঙ্গেল: আমেরিকার ভার্মন্ট রাজ্যের এই পাহাড়ি এলাকাটি বেশ রহস্যময়। ১৯৪৫ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে এখান থেকে বহু মানুষ হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ছিল কিশোরী থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ শিকারিও। বনের ভেতরে ঠিক কী ঘটেছিল, তা আজও অজানা।
নাহান্নি ভ্যালি: কানাডার এই উপত্যকাকে বলা হয় 'অস্থিহীন মানুষের উপত্যকা'। বহু বছর আগে এখানে সোনার সন্ধানে গিয়ে বহু মানুষ প্রাণ হারান। সবথেকে ভয়ের বিষয় হল, তাঁদের দেহ পাওয়া গেলেও মাথা ছিল না। প্রাচীন জনজাতিরা বিশ্বাস করে, এখানে অশুভ কোনও শক্তির বাস রয়েছে।
দ্য ডেভিলস কেটল: আমেরিকার মিনেসোটা রাজ্যে একটি নদী দুভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। একদিকের জল স্বাভাবিকভাবে নিচে পড়লেও অন্যদিকের জল একটি বিশাল গর্তে ঢুকে হারিয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা আজ পর্যন্ত ডাই বা জিপিএস ব্যবহার করেও সেই জল কোথায় যায় তা খুঁজে বের করতে পারেননি।
মারিয়ানা ট্রেঞ্চ: প্রশান্ত মহাসাগরের অতল গভীরে অবস্থিত এই খাতটি পৃথিবীর গভীরতম বিন্দু। এর অন্ধকার তলদেশে জলের চাপ এতটাই বেশি যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ অসম্ভব। সেখানে কী ধরনের অতিকায় প্রাণী বা অজানা জগত রয়েছে, তা আজও আধুনিক বিজ্ঞানের কাছে এক পরম বিস্ময়।
ডোর টু হেল: তুর্কমেনিস্তানের কারাকুম মরুভূমিতে অবস্থিত একটি বিশাল গর্ত। ১৯৭১ সাল থেকে এই গর্তে আগুন জ্বলছে যা নেভানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোভিয়েত বিজ্ঞানীরা মিথেন গ্যাস আটকাতে আগুন জ্বালিয়েছিলেন। সেই আগুনের লেলিহান শিখা আজও নরকের দরজার মতোই ভয়ংকর রূপ নিয়ে জ্বলছে।
রূপকুণ্ড হ্রদ, ভারত: উত্তরাখণ্ডের হিমালয়ের বুকে অবস্থিত এই হ্রদটি 'কঙ্কাল হ্রদ' নামে পরিচিত। বরফ গললেই এখানে শত শত মানুষের প্রাচীন কঙ্কাল ভেসে ওঠে। কয়েকশ বছর আগে এক বিশাল শিলাবৃষ্টিতে এত মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে গবেষকরা দাবি করেন। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, সেই মৃত আত্মারা আজও সেখানে নিঃশব্দে হেঁটে বেড়ায়।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 08:39 PM Apr 09, 2026Updated: 08:39 PM Apr 09, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
