Advertisement
রক্তে শর্করা বেড়েছে? ওষুধের পাশাপাশি চুমুক দিন এই ৬টি পানীয়তে
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ২৬% ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষ রয়েছেন ভারতবর্ষে।
আপনি কি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত! মুঠো মুঠো ওষুধ খেতে হয় প্রতিদিন? এরপরেও যদি আপনার সুগার নিয়ন্ত্রণে না থাকে তাহলে বুঝবেন আপনার জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনার দরকার রয়েছে। ডায়াবেটিস রোগীদের যথেষ্ট নিয়ম মেনে চলা উচিত। বিশেষ করে খাদ্যাভাসের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন না আনলে কিছুতেই রোগটিকে দূর করা যায় না।
এই মুহূর্তে বিশ্বের এক চতুর্থাংশ ডায়াবেটিস রোগী ভারতে বসবাস করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ২৬% ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষ রয়েছেন ভারতবর্ষে। এই পরিসংখ্যান নিছক হেলাফেলার নয়। তা যথেষ্ট উদ্বেগের।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের জন্য শুধুমাত্র ওষুধের উপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। আপনাকে মেনে চলতে হবে বেশ কিছু নিয়ম। এক্ষেত্রে পরিমিত আহার, ব্যায়াম ও মানসিক চাপ কমানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে, ঘরোয়া উপায়ে তৈরি বেশ কিছু পানীয় আপনার সুগার নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা নিয়ে থাকে। আপনি যদি সুগার কন্ট্রোলে রাখতে চান, তাহলে ওষুধের পাশাপাশি এই পানীয়গুলিও আপনার প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় যোগ করুন।
মেথি ভেজানো জল: মেথি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করা ধীরে ধীরে শোষণ করতে সহায়তা করে। এটি ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগে বিশেষ ফলপ্রদ। ১-২ চামচ মেথি সারারাত এক কাপ জলে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে জলটি ছেঁকে খালি পেটে পান করুন। চাইলে ভেজানো মেথি চিবিয়েও খেতে পারেন।
করলার রস: করলায় পলিপেপটাইড-পি নামক একটি প্রোটিন থাকে, যা প্রাকৃতিকভাবে রক্তে শর্করা কমাতে সাহায্য করে। এটি হজম ক্ষমতা বাড়াতেও সহায়ক। একটি মাঝারি আকারের করলা ধুয়ে ছোট টুকরো করে নিন। বীজ ফেলে দিয়ে মিক্সারে সামান্য জল সহ ব্লেন্ড করুন। ছেঁকে রস বের করে খালি পেটে পান করুন। তেতো কমাতে সামান্য লেবুর রস মেশাতে পারেন।
গরম দারুচিনি জল: দারুচিনিতে থাকা যৌগগুলি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এক কাপ গরম জলে ১/২ চামচ দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে ভালোভাবে নাড়ুন। ৫-১০ মিনিট রেখে ঠান্ডা হলে তা পান করুন। সতেজ দারুচিনি স্টিকও জলে ফুটিয়ে জলটি পান করতে পারেন।
আমলকির রস: আমলকি ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, যা অগ্ন্যাশয়ের কার্যকারিতা উন্নত করে ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। ২-৩টি আমলকি ছোট টুকরো করে বীজ ফেলে দিন। মিক্সারে সামান্য জল দিয়ে ব্লেন্ড করে রস বের করে নিন। এই রস ছেঁকে নিয়ে খালি পেটে পান করুন।
অ্যালোভেরা: অ্যালোভেরা রক্তে শর্করা এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এতে থাকা যৌগগুলো ইনসুলিনের মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক। অ্যালোভেরার একটি সতেজ পাতা থেকে জেল বের করে নিন। প্রতিদিন সকালে ২-৩ চামচ অ্যালোভেরা জেল সরাসরি অথবা এক গ্লাস জলের সঙ্গে মিশিয়ে পান করুন।
তুলসী: তুলসী পাতায় অ্যান্টি-ডায়াবেটিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি মানসিক চাপ কমাতেও কার্যকর, যা পরোক্ষভাবে সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। প্রতিদিন সকালে ৫-৬টি কচি সবুজ তুলসী পাতা ধুয়ে চিবিয়ে খেতে পারেন। অথবা এক কাপ জলে তুলসী পাতা ফুটিয়ে সেই জলটি ঠান্ডা করে পান করতে পারেন।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 07:41 PM Jul 11, 2025Updated: 07:41 PM Jul 11, 2025
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
