Advertisement
দূরত্ব ঘুচিয়ে কীভাবে ঐশ্বর্যর সঙ্গে ১৮ বছরের দাম্পত্য? 'বেডরুম সিক্রেট' ফাঁস অভিষেকের
মেয়ে আরাধ্যাকে কীভাবে বড় করছেন, সে সম্পর্কেও মুখ খুললেন অভিষেক বচ্চন।
মন দেওয়া নেওয়া থেকে ঘর বাঁধা। ২০০৭ সালের ২০ এপ্রিল বিয়ে করেন অভিষেক-ঐশ্বর্য। এরপর মেয়ে আরাধ্যার জন্ম। কেরিয়ার গ্রাফের নানা ওঠাপড়ার মাঝে চোখের নিমেষেই যেন কেটে গিয়েছে বিয়ের ১৯টি বসন্ত। তবে তা সত্ত্বেও তাঁদের সম্পর্কের স্ট্যাটাস নিয়ে কৌতূহলের অন্ত নেই। সত্য়িই কি বৈবাহিক জীবনের সমীকরণ আজও একইরকম। নাকি ভিতরে ভিতরে নড়ে গিয়েছে সম্পর্কের ভিত, নানা প্রশ্নের জট।
কেউ কেউ বলেন, সম্পর্কের উষ্ণতা নাকি একেবারেই হারিয়ে গিয়েছে। তাই দু'জনে একসঙ্গে থাকেন না তাঁরা। আরাধ্যাকে আগলে দিনযাপন করেন ঐশ্বর্য। একাধিক অনুষ্ঠানে মেয়ের সঙ্গে দেখা গিয়েছে প্রাক্তন ব্রহ্মাণ্ডসুন্দরীকে। তাতে যেন গুঞ্জনের আগুনে আরও ঘি ঢেলেছে। তবে বিচ্ছেদ কিংবা বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কখনই সেভাবে মুখ খুলতে দেখা যায়নি তাঁদের।
যদিও সাম্প্রতিক অতীতে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল দম্পতিকে। রংমিলান্তি পোশাকেও দেখা গিয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও নাকি সম্পর্কের শীতলতা রয়েছে বলেই মনে করেন কেউ কেউ। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে সন্তান পালনে যৌথ দায়িত্ব - খুঁটিনাটি নিয়ে মুখ খুললেন অভিষেক।
বাবা-মায়ের বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে অভিষেক বলেন, "যখন আমার বাবা-মায়ের বিয়ে হয়, বাবার তুলনায় মা ছিলেন অনেক বড় তারকা। এমন কিছু অবাক করা বিষয় নয়। আসলে তাঁরা একে অপরের সঙ্গী। ঐশ্বর্যকে আমার কেরিয়ারের শুরু থেকে চিনি। দ্বিতীয় ছবিটি ওঁর সঙ্গে করেছি।" ২০০০ সালে 'ধাই আকসার প্রেম কে' ছবিতে জুটি বেঁধেছিলেন তাঁরা। সেই সময় তাঁরা দু'জনের বন্ধু ছিলেন। প্রেমের সম্পর্কে বাঁধা পড়েননি।
কাজের ফাঁকে ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দু'জনে ঘর বাঁধার সিদ্ধান্ত নেন। ২০০৭ সালের ২০ এপ্রিল, সাতপাকে বাঁধা পড়েন অভিষেক-ঐশ্বর্য। মুম্বইয়ের জুহুতে বসে বিয়ের আসর। তাঁদের মেহেন্দি এবং সঙ্গীতের দিকে নজর ছিল সকলের। ২০১১ সালে ঐশ্বর্যের কোল আলো করে আসে আরাধ্যা। বর্তমানে এক সন্তানের বাবা-মা তাঁরা। গত কয়েক বছর ধরে তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কের স্ট্যাটাস নিয়ে জোর গুঞ্জন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অবশ্য পুরনো স্মৃতি হাতড়ালেন অভিষেক। তিনি বলেন, "আমাদের এনগেজমেন্ট, বিয়ে হয়েছে। এটা পুরোটাই পার্টনারশিপ। আমাদের মধ্যে কখনও আলোচনা হয়নি আমি খাবার আনব। কিংবা বাড়ির খেয়াল রাখব। এটা খুব স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে। আমি মনে করি এই ভাবনাচিন্তা আসে ইগো থেকে।"
অভিষেক এই 'ইগো' শব্দটি অবশ্য নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করেননি। তিনি বলেন, "আমি মনে করি না কোনও প্রতিযোগিতায় জেতার জন্য অন্য কাউকে পিছন থেকে টেনে ধরে রাখতে হবে। আমার বাবা অমিতাভ বচ্চন আমাকে সিনেদুনিয়ার সঙ্গে পরিচয় করাননি। তিনি আমাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য কোনও ছবি তৈরি করেননি। ২০০৯ সালে 'পা' ছবিটি প্রযোজনা করেছেন মাত্র।"
অভিষেকের কথায়, "আমি 'ইগো' শব্দটি বলেছি কারণ, আমি সেরকম মানুষ নই যিনি বিশ্বাস করেন প্রতিযোগিতায় কেউ আমাকে জেতার সুযোগ করে দেবেন। এটাই আমার মানসিকতা। আমি বিয়ের ক্ষেত্রে ভাবি না যে স্ত্রীকে আমার জন্য কোনও কিছু বন্ধ করতে হবে। এবং স্ত্রীকেও ধন্যবাদ যে আমার স্ত্রী-ও তেমন মানসিকতার নন।"
শুধু বিয়ে কিংবা সম্পর্ক নয়। আরাধ্যর দেখভালে বাবা-মা হিসাবে যৌথ দায়িত্ব পালন নিয়েও সাক্ষাৎকারে মুখ খোলেন অভিষেক। বলেন, "আমরা দু'জনেই মেয়ের দেখভাল করি। বাবা হিসাবে আমি খুব বাজে শিক্ষক। কারণ, আবেগের বশে আমি অনেক সময় সেভাবে শাসন করতে পারি না। যা অবশ্য মহিলারা পারেন। আসলে পুরুষরা যা চায় তা প্রকাশ করতে পারে না।"
ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তাঁর মতে, "আমরা কখনও আরাধ্যাকে বলি না এটা ঠিক। এটা ভুল। আমরা বলি এটার বদলে এটা করা উচিত ছিল। আমরা আত্মনিরাপত্তা শিখিয়েছি। যদি আপনি তাঁর স্ত্রীর কথা বলেন তবে তিনিও নিজেই নিজের খেয়াল রাখতে পারেন।" একজন বাবা হিসাবে অভিষেক মনে করেন, "যখন বাবা-মায়েরা সততা এবং নৈতিকতা মেনে বাঁচেন। সন্তানরা দেখে। এবং উদ্বুদ্ধ হয়।"
Published By: Sayani SenPosted: 08:17 PM Apr 05, 2026Updated: 08:17 PM Apr 05, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
