Advertisement
গরমে প্রবীণদের মধ্যে বাড়ে ডিহাইড্রেশন, হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি, জানুন ১০টি সুরক্ষা টিপস
বাড়ছে তাপমাত্রার পারদ। মাঝেমধ্যে একটু-আধটু বৃষ্টি সাময়িক স্বস্তি দিলেও গরমে নাজেহাল দশা। প্রবীণদের জন্য এই সময়টা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিহাইড্রেশন, হিটস্ট্রোকসহ নানা শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। তাই এই সময় সতর্কতা খুব জরুরি। সামান্য পরিকল্পনা আর সচেতন থাকলেই বাড়ির প্রবীণ মানুষটিকে নিরাপদে রাখা সম্ভব।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা কমে যায়। ফলে গরমে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি রোগ বা নিয়মিত খাওয়া ওষুধও গরমের প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রবীণদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যত্ন নেওয়া প্রয়োজন, যাতে তারা নিরাপদে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে গ্রীষ্ম উপভোগ করতে পারেন।
গরমের সবচেয়ে বড় বিপদ হল ডিহাইড্রেশন এবং হিটস্ট্রোক। এর পাশাপাশি সূর্যের অতিরিক্ত তাপে ত্বকের সমস্যা বা ত্বক সংবেদনশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনাও থাকে। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শরীরে জলশূন্যতা বাড়ায়। তাই এই বিষয়গুলো আগে থেকে জানা এবং সতর্ক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বয়স বাড়লে শরীরের তেষ্টা অনুভবের ক্ষমতা কিছুটা কমে। ফলে অনেক সময় প্রবীণরা বুঝতেই পারেন না যে তারা ডিহাইড্রেশনের দিকে এগোচ্ছেন। ঘাম কম হওয়ায় শরীর নিজেকে ঠান্ডা করতে পারে না। এর ফলে গরমে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় এবং দ্রুত শারীরিক অবনতি ঘটতে পারে।
ডিহাইড্রেশন হলে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা বা প্রস্রাব কম হয়। হিট এগজশনে দুর্বলতা, অতিরিক্ত ঘাম, বমি ভাব হতে পারে। আর হিটস্ট্রোক হলে শরীরের তাপমাত্রা খুব বেড়ে যায়, ঘাম বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই লক্ষণগুলো দ্রুত চিহ্নিত করা জরুরি।
প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পর্যাপ্ত জলপান করা। তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত অল্প অল্প করে জলপানের অভ্যেস গড়ে তুলতে হবে। কফি বা অ্যালকোহল এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এগুলো শরীর থেকে জল কমিয়ে দেয়। ডাবের জল বা লেবুর শরবত ভালো বিকল্প হতে পারে।
পোশাকের ক্ষেত্রেও সচেতন হওয়া দরকার। হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক গরমে আরাম দেয়। সুতির পোশাক শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। বাইরে বের হলে টুপি বা ছাতা ব্যবহার করা এবং সানগ্লাস সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয়।
ত্বক রক্ষার জন্য সানস্ক্রিন ব্যবহার করা অত্যন্ত প্রয়োজন। প্রবীণদের ত্বক তুলনামূলকভাবে বেশি সংবেদনশীল হওয়ায় দ্রুত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন লাগানো উচিত এবং কয়েক ঘণ্টা পরপর তা আবার ব্যবহার করা দরকার।
বাইরের কাজের সময় বেছে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। সকালে বা বিকেলে হাঁটা বা অন্যান্য কাজ সারুন। দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টের মধ্যে বাইরে না যাওয়াই শ্রেয়। এতে শরীর অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শে আসা থেকে বাঁচে এবং ক্লান্তিও কম হয়।
বাড়ির ভেতরেও ঠান্ডা পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার বা ঠান্ডা ভেজা কাপড় ব্যবহার করে শরীর ঠান্ডা রাখা যায়। রোদের তাপ থেকে বাঁচতে জানলা, দরজা বন্ধ রাখুন বা পর্দা ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জায়গায় কিছু সময় কাটানো যেতে পারে।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 07:54 PM Apr 05, 2026Updated: 07:54 PM Apr 05, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
