Advertisement
মা হতে চান, বিয়ের ইচ্ছা আছে? লিঙ্গ পরিবর্তনের পর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা বাঙ্গারকন্যা
অস্ত্রোপচারের প্রায় চার মাস পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুলেছেন নতুন জীবনের পথে হাঁটা অনয়া।
এক সময়ে খেলেছিলেন যশস্বী জয়সওয়াল, মুশির খানের সঙ্গে। তাঁর আরেকটি পরিচয়, তিনি প্রাক্তন ক্রিকেটার সঞ্জয় বাঙ্গারের সন্তান। অনয়া বাঙ্গার। জেন্ডার অ্যাফার্মেশন বা লিঙ্গনির্ণায়ক অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে তাঁর। থাইল্যান্ডে অস্ত্রোপচারের প্রায় চার মাস পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুলেছেন নতুন জীবনের পথে হাঁটা অনয়া। তিনি জানিয়েছেন, মা হতে চান তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণ আদৌ কি সম্ভব?
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অনন্যা জানিয়েছেন, আপাতত বিয়ের কথা ভাবছেন না। অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠাই এখন তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। “এখনও সবটাই আমার কাছে নতুন। তাই আগে সুস্থ হয়ে উঠতে চাই। এখনই বিয়ের জন্য প্রস্তুত নই। আরও কিছুটা পরে বিয়ে করতে চাই। আমার কাছে এখন যেন নতুন জীবন শুরু হয়েছে,” বলেন অনন্যা।
মা হওয়ার স্বপ্ন কোনও নারীর জীবনের পবিত্র অনুভূতি। সেই স্বপ্ন দেখেন তিনিও। যদিও অস্ত্রোপচারের পর তাঁর পক্ষে স্বাভাবিক ভাবে সন্তান ধারণ সম্ভব নয়। সেই বাস্তবতা সম্পর্কেও অকপট তিনি। অনয়ার মন্তব্য, “আমিও সন্তান চাই। কিন্তু আমার জরায়ু বা ওভারি নেই। তাই গর্ভধারণ সম্ভব নয়। অস্ত্রোপচারের আগে শুক্রাণু সংরক্ষণ করলে সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান নেওয়া যায়। তা না হলে দত্তক নেওয়ার পথও খোলা।”
২০২১ সালে লিঙ্গ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। ‘হরমোনাল রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি’ও হয় তাঁর। ১০ মাসের প্রক্রিয়া শেষে আরিয়ান থেকে অনয়া হয়েছেন। যার জন্য অনেক লড়াই করতে হয়েছিল। একটা সময় মাথায় এসেছিল আত্মহত্যার ভাবনাও। কিন্তু সময় সব কিছু বদলে দিয়েছে। তাঁর বাবা সঞ্জয় বাঙ্গার শেষ পর্যন্ত তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। নিঃশর্ত সমর্থনের জন্য বাবাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাঙ্গারকন্যা।
অনয়ার চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহন করেছেন সঞ্জয়। গত মার্চে বাবার ভূমিকার কথা তুলে ধরে লিখেছিলেন, ‘জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাবাকে পাশে পেয়েছি।’ এবারও জানালেন, তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি পরিবারের সমর্থন। অনয়া জানান, অস্ত্রোপচারের পর বাবা-মা তাঁকে মেয়ে হিসাবেই গ্রহণ করেছেন। “এখন বাবা-মা আমাকে ‘শি’ বা ‘হার’ বলেই সম্বোধন করেন। একজন ট্রান্স ব্যক্তির কাছে পরিবারের এই স্বীকৃতি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ,” বলেন তিনি।
হরমোন থেরাপি নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা নিয়েও মুখ খুলেছেন অনয়া। তাঁর কথায়, “হরমোন আমার শরীরকে নারীর মতো করে তুলেছে। ত্বক, পেশি, শরীরের নানা পরিবর্তন হয়েছে। নারীদের মতো হরমোনের বিভিন্ন পর্যায় অনুভব করি। শুধু ঋতুস্রাব হয় না। লিঙ্গ-পরিচয় হল আপনি কে। আর যৌন আকর্ষণ হল আপনি কার প্রতি আকৃষ্ট। আগে আমি নারীদের প্রতি আকৃষ্ট ছিলাম। এখন পুরুষদের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করি।”
এই অস্ত্রোপচারের নাম ‘ভ্যাজিনোপ্লাস্টি’। এর মাধ্যমে পুরুষাঙ্গ অপসারণ করে কৃত্রিমভাবে যোনিপথ স্থাপন করা হয়। অনয়া কি মহিলাদের ক্রিকেটে খেলতে পারবেন? আইসিসি’র নিয়ম, কেউ যদি পুরুষ হিসাবে বয়ঃসন্ধি কাটান, তাহলে পরে মহিলা হিসাবে খেলতে পারবেন না। পাশাপাশি টেস্টোস্টেরন লেভেলও দেখা হবে। ২০২৩-এর নভেম্বরে আইসিসি জানায়, ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলিটদের মহিলা ক্রিকেটে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হবে না। তাই আপাতত মহিলা দলে খেলতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, মুম্বই অনূর্ধ্ব-১৬, পণ্ডিচেরি অনূর্ধ্ব-১৯ ট্রায়াল ও মুম্বই অনূর্ধ্ব-২৩ ট্রায়াল খেলেছেন তিনি। সেই অনয়া লিঙ্গনির্ণায়ক অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে নতুন স্বপ্ন বুনছেন। তবে এই অস্ত্রোপচারের পিছনে তাঁর মা হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে, তা তিনি আগেও যেমন বলেছেন, এখনও বললেন। এমনকী তাঁর এই লড়াই এলজিবিটিকিউ সমাজের অনেক রূপান্তরকামীদের লড়াই করার সাহস জোগাবে বলেই মনে করেন তিনি।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 05:13 PM Jul 25, 2026Updated: 05:13 PM Jul 25, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
