Advertisement
ধর্মেন্দ্র প্রথম নন, অতীতে খারাপ পারফরম্যান্সের 'শাস্তি' পেয়েছেন মোদির একাধিক মন্ত্রী, দিতে হয়েছে ইস্তফাও
নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন জনতার বা বিরোধীদের চাপে ইস্তফা দেওয়াটা দস্তুর নয়। তবে প্রধানমন্ত্রী নিজেই শাস্তি দেন খারাপ পারফর্মারদের।
পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকারের আমলে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের ইস্তফা স্বাভাবিক নিয়ম ছিল। মনমোহন জমানার ১২ বছরে মোট ৭ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় ইস্তফা দেন। তবে মোদি জমানায় ছবিটা অন্যরকম। নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন জনতার বা বিরোধীদের চাপে ইস্তফা দেওয়াটা দস্তুর নয়। বস্তুত ১২ বছরে জনতার চাপে মোদি মন্ত্রিসভার মাত্র দুই সদস্য ইস্তফা দিয়েছেন।
প্রথম জনের নাম এম জে আকবর। ২০১৮ সালে আকবরের বিরুদ্ধে একাধিক #MeToo অভিযোগ ওঠে। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক মহিলা অভিযোগ করেন, একাধিকবার বলপূর্বক তাঁদের যৌন হেনস্তা বা শ্লীলতাহানি করেছেন বিদেশমন্ত্রকের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী। শেষে বাধ্য হয়ে তিনি ইস্তফা দেন। সেই ছিল মোদি জমানায় জনতার চাপে পড়ে প্রথম ইস্তফা। যদিও পুরো বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেননি প্রধানমন্ত্রী।
দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসাবে ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। ‘ককরোচ’দের বিক্ষোভকে শুরুতে সেভাবে পাত্তাই দেয়নি কেন্দ্র। কিন্তু যত দিন গিয়েছে ততই যেন গতি পেয়েছে আন্দোলন। একে একে মূল সারির বিরোধী দলগুলিও আন্দোলনে যোগ দেয়। ধীরে ধীরে নাগরিক সমাজ, সেলেবরাও যোগ দেন আন্দোলনে। ককরোচদের আন্দোলন গণআন্দোলনে পরিণত হয়। শেষমেশ প্রবল চাপে ইস্তফা দিলেন প্রধান।
আসলে নরেন্দ্র মোদি কারও চাপে পড়ে ইস্তফা দেওয়াটা সমর্থন করেন না। বরং সমালোচনার মুখে বা কঠিন সময়ে তিনি মন্ত্রীদের পাশেই থাকেন। যদি কোনও মন্ত্রীর কাজ তাঁর পছন্দ না হয়, তাহলে পরে মন্ত্রিসভার রদবদলের মাধ্যমে নীরবে তাঁদের সরিয়ে দেন মোদি। এভাবে নীরবে শাস্তি পাওয়া মন্ত্রীর সংখ্যাটা দীর্ঘ। উল্লেখযোগ্যভাবে ২০২৪ মন্ত্রিসভা গঠনের সময় একলপ্তে ৩৭ জন মন্ত্রীকে সরান প্রধানমন্ত্রী।
২০২১ সালে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশ তখন মহা সংকটে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মৃত্যুর খবর। ভারত দ্রুততার সঙ্গে নাগরিকদের টিকাকরণের কাজও শুরু করেছে একই সঙ্গে। দ্রুত দেশের অধিকাংশ নাগরিক টিকাও পেয়ে যান। কিন্তু করোনা সংকটে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধনের কাজ প্রধানমন্ত্রীর পছন্দ হয়নি। শেষমেশ নিঃশব্দে তাঁকে সরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। ২০২১ মন্ত্রিসভার রদবদলের সময় হর্ষবর্ধনকে সরানো হয়।
২০২১ সালে রবিশংকর প্রসাদের মতো প্রথম সারির মন্ত্রীকেও নরেন্দ্র মোদি সরিয়ে দেন। সেসময় দেশে ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়। আবার দলের মুখপাত্র হিসাবেও বিতর্কে জড়ান প্রসাদ। তাঁকে একপ্রকার নীরবে সরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেসময় সরিয়ে দেওয়া হয়, আরেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকরকেও।
রাহুল গান্ধীকে হারানোর সুবাদে স্মৃতি ইরানি একসময় গোটা দেশে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে প্রবল জনপ্রিয় ছিলেন। কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী করা হয় তাঁকে। কিন্তু তাঁর পারফরম্যান্স পছন্দ হয়নি প্রধানমন্ত্রীর। ফলে প্রথমে তাঁকে সরানো হয় বস্ত্র মন্ত্রকে। পরে পুরোপুরি মন্ত্রিসভা থেকেই বাদ দেওয়া হয় ইরানিকে। একই ভাবে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য মন্ত্রিত্ব হারান অনুরাগ ঠাকুরও।
রেলমন্ত্রী হিসাবে সুরেশ প্রভু বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন শুরুর দিকে। তিনি সোশাল মিডিয়ায় যেভাবে সব সমস্যার সমধানের জন্য টুইটারে সক্রিয় থাকতেন, সেটা প্রশংসনীয় ছিল। কিন্তু পরে দেখা যায় পরিকাঠামো ক্ষেত্রে প্রত্যাশামতো পরিবর্তন করতে পারছেন না তিনি। শেষে সুরেশ প্রভুকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে সন্তোষ গাঙ্গোওয়ার, বাবুল সুপ্রিয়, সদানন্দ গৌড়া, অর্জুন মুন্ডাদের মতো মন্ত্রীদেরও খারাপ পারফরম্যান্সের শাস্তি দিয়েছে এই সরকার।
Published By: Subhajit MandalPosted: 05:21 PM Jul 25, 2026Updated: 05:21 PM Jul 25, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
