Advertisement
রাবাংলা পার্বণ থেকে বিহু, এপ্রিলে অন্তত একবার সাক্ষী থাকুন দেশের এই ১৩ উৎসবের
বসন্তের বিদায়বেলা থেকে বৈশাখ আবাহনের সন্ধিক্ষণ। এই সময়টা যেন উৎসবের এক মহামিলন ক্ষেত্র।
বসন্তের বিদায়বেলা থেকে বৈশাখ আবাহনের সন্ধিক্ষণ। এই সময়টা যেন উৎসবের এক মহামিলন ক্ষেত্র। উত্তরের তুষারশুভ্র শৃঙ্গ থেকে দক্ষিণের নীল সমুদ্র সৈকত— এপ্রিলে ভারতবর্ষ এক বহুবর্ণিল কোলাজ হয়ে ধরা দেয়। কোথাও নববর্ষের শঙ্খধ্বনি, কোথাও বা সোনালি ফসল ঘরে তোলার গান। প্রতিটি প্রান্তেই ছড়িয়ে আছে মাটির টান আর লোকজ ঐতিহ্যের সুবাস। ভারতের এই বিচিত্র রূপকে ছুঁয়ে দেখতে বেরিয়ে পড়ার এখনই শ্রেষ্ঠ সময়।
ছাম্বি মহোৎসব, সিকিমের সংস্কৃতি: এপ্রিলের মাঝামাঝি সিকিমের আকাশে-বাতাসে এক অন্য সুর অনুরণিত হয়। সিকিমের নিজস্ব ঐতিহ্য, লোকসঙ্গীত এবং হস্তশিল্প নিয়ে এই উৎসবটি পালিত হয়। বৌদ্ধ বিহারগুলোর আঙিনায় বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা মুখোশ পরে রঙিন নাচ পরিবেশন করেন। সিকিমের নিজস্ব সংস্কৃতিকে আরও কাছ থেকে দেখার জন্য এই সময়ের গ্যাংটক সফর একদম সার্থক।
বিশু উৎসব, কিন্নরের নববর্ষ: হিমাচল প্রদেশের কিন্নর উপত্যকায় এপ্রিল মাসে এক আশ্চর্য উৎসব উদযাপিত হয়। এর নাম বিশু। গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে সাবেকি পোশাকে ঐতিহ্যবাহী নাচে মেতে ওঠেন। দেবতাদের পালকি নিয়ে শোভাযাত্রা বের হয়। নতুন বছরের শুরুতে এখানে পুরনোকে বিদায় জানানোর জন্য গ্রামজুড়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
বৈশাখী, পাঞ্জাবের প্রাণশক্তি: ১৩ বা ১৪ই এপ্রিল পাঞ্জাব ও হরিয়ানার মাঠগুলো সোনালি শস্যে ভরে ওঠে। শিখদের কাছে এটি শুধু ফসলের উৎসব নয়, এটি তাদের নববর্ষ। পবিত্র গুরুদ্বারে প্রার্থনা দিয়ে দিনটি শুরু হয়। এরপর ঢোলের আওয়াজে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে। এই সময়ে পাঞ্জাবের গ্রামগুলোতে গেলে ভাঙড়া আর গিদ্ধা নৃত্যশৈলীর আসল রূপ দেখা যায়।
গাজন, পশ্চিমবঙ্গের লোকসংস্কৃতি: এপ্রিলের শেষলগ্নে চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে পালিত হয় গাজন উৎসব। এটি মূলত গ্রামবাংলার শিব ও ধরিত্রী মাতার মিলনের উৎসব। সন্ন্যাসীরা কৃচ্ছ্রসাধনের মাধ্যমে দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনা করেন। ঢাকের শব্দে গ্রাম মুখরিত হয়। মেলা, ছৌ নাচ এবং বিভিন্ন লোকজ আচার-অনুষ্ঠান বাংলার এই প্রাচীন ঐতিহ্যকে এক অনন্য পরিচয় দিয়েছে।
থ্রিসুর পুরম, কেরালা: কেরালার মন্দির নগরী থ্রিসুরে এপ্রিল মাসে আয়োজিত হয় বিশ্বের অন্যতম বড় উৎসব। সাজানো হাতি আর বাদ্যযন্ত্রের সমারোহ দেখার মতো। প্রায় ৩০টিরও বেশি হাতি তাদের স্বর্ণখচিত সাজ নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। সারারাত ধরে চলে আতশবাজির প্রদর্শনী। কেরালা সংস্কৃতির প্রকৃত বৈভব দেখতে হলে এই উৎসবে সামিল হওয়া আবশ্যিক।
রঙ্গোলি বিহু, অসম: অসমের নববর্ষ বা ব'হাগ বিহু এপ্রিলের প্রাণ। ঢোল আর পেঁপার সুরে গোটা রাজ্য মেতে ওঠে। রঙিন পোশাকে বিহু নাচের দৃশ্য অপূর্ব। এই সময় অসমীয়া পরিবারগুলো বিশেষ পিঠে-পুলি তৈরি করে অতিথিদের আপ্যায়ন করে। অসমের গ্রাম্য প্রকৃতিতে নয়া প্রাণের সঞ্চার ঘটে।
পুথান্ডু, তামিলনাড়ু: ১৪ই এপ্রিল তামিলনাড়ু নতুন বছরকে স্বাগত জানায়। প্রতিটি বাড়ির সামনে রঙিন কোলাম বা আল্পনা আঁকা হয়। মন্দিরে বিশেষ পুজোর আয়োজন হয়। এদিন তামিল পরিবারগুলোতে নিমের ফুল আর গুড় দিয়ে তৈরি এক বিশেষ প্রসাদ দেওয়া হয়। জীবনের তিক্ততা আর মিষ্টতাকে সমানভাবে গ্রহণ করাই এই উৎসবের মূল বার্তা।
বিষু, কেরালা: কেরালার নববর্ষ বা বিষু মূলত ১৪ই এপ্রিল পালিত হয়। এদিন ভোরে বাড়ির বড়রা ছোটদের চোখে হাত দিয়ে তাকে নীরবে নিয়ে যায় আয়নার সামনে। একে বলে 'বিষুকানি'। আয়নার সামনে ফলমূল, সোনা এবং ফুল সাজিয়ে রাখা হয়। বছরের প্রথম দিনেই এমন শুভ দর্শন আগামী বছরের সুখ ও সমৃদ্ধির প্রতীক বলে মনে করা হয়।
মহাবীর জয়ন্তী: এপ্রিল মাসেই পালিত হয় জৈন ধর্মের প্রবর্তক ভগবান মহাবীরের জন্মদিন। ভারতের বিভিন্ন তীর্থস্থান বিশেষ করে রাজস্থান এবং গুজরাটের জৈন মন্দিরগুলোতে উপচে পড়ে ভিড়। অহিংসা এবং শান্তির বার্তা নিয়ে ভক্তরা শান্ত শোভাযাত্রা বের করেন। আধ্যাত্মিক শান্তির খোঁজে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এ এক বড় সম্পদ।
আত্তুকল পোঙ্গালা, কেরালা: এপ্রিলের শুরুর দিকে তিরুবনন্তপুরমের আত্তুকল মন্দিরে মহিলারা সমবেত হন। হাজার হাজার মহিলা মন্দির প্রাঙ্গণে মাটির হাঁড়িতে নতুন চালের পায়েস তৈরি করেন। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম নারী সম্মেলন হিসেবে পরিচিত। ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়নের এক অপূর্ব মেলবন্ধন এই উৎসবে দেখা যায়।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 05:21 PM Apr 01, 2026Updated: 05:23 PM Apr 01, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
