Advertisement
প্রচণ্ড গরমে ডিহাইড্রেশনের ভয়! ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল থাকতে চান? রইল বারোটি সেরা পানীয়ের হদিশ
গরমকাল মানেই তীব্র রোদ, অতিরিক্ত ঘাম এবং শরীরে দ্রুত জলশূন্যতার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া। এই সময়টায় আমাদের শরীর স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি জল হারায়, ফলে ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, এমনকি ত্বকের বিভিন্ন সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই শুধু জল খেলেই হবে না, বরং এমন কিছু পানীয় বেছে নিতে হবে যা শরীরকে ঠান্ডা রাখবে, শক্তি দেবে এবং একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় পুষ্টিও সরবরাহ করবে।
গরমে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে শুধু জল নয়, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজও বেরিয়ে যায়। এর ফলে শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালান্স নষ্ট হতে পারে এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শুধুমাত্র জল পান করলেই সবসময় শরীরের প্রয়োজন পূরণ হয় না। এমন পানীয় দরকার যা শরীরকে হাইড্রেট করার পাশাপাশি হারানো খনিজগুলোও ফিরিয়ে দিতে পারে এবং শরীরকে সতেজ রাখে।
ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ অনেক সময় খুব সাধারণ মনে হলেও তা উপেক্ষা করা ঠিক নয়। শুষ্ক ত্বক, ঠোঁট ফেটে যাওয়া, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া, এমনকী মনোযোগ কমে যাওয়া- এসবই শরীরে জলের ঘাটতির লক্ষণ। যদি সময়মতো এই লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে। তাই গরমের শুরু থেকেই নিয়মিত জল এবং স্বাস্থ্যকর পানীয় গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
ডাবের জল গরমের দিনে একেবারে আদর্শ পানীয়। এতে প্রচুর পটাশিয়াম ও অন্যান্য ইলেক্ট্রোলাইট থাকে, যা শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি দ্রুত শরীরকে ঠান্ডা করে এবং ক্লান্তি দূর করে। এর প্রাকৃতিক মিষ্টতা থাকার কারণে এটি সফট ড্রিঙ্কের একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবেও কাজ করে এবং শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ অনুভূতি দেয়।
লেবুর শরবত গরমে একেবারে তাজা ও প্রাণবন্ত অনুভূতি দেয়। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং হজমে সাহায্য করে। এতে যদি সামান্য নুন ও মধু মেশানো হয়, তাহলে এটি শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালান্স ঠিক রাখতে আরও কার্যকর হয়। এটি দ্রুত তেষ্টা মেটায় এবং শরীরকে শক্তি জোগায়, ফলে গরমের ক্লান্তি অনেকটাই কমে আসে।
ঘোল বা বাটারমিল্ক গরমে শরীর ঠান্ডা রাখার অন্যতম সহজ এবং কার্যকর উপায়। দই থেকে তৈরি এই পানীয় হজমে সাহায্য করে এবং পেটের সমস্যা কমায়। এতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি১২ ও পটাশিয়াম থাকে, যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। সামান্য জিরে গুঁড়ো, নুন বা ধনেপাতা যোগ করলে এর স্বাদ আরও বেড়ে যায় এবং এটি আরও স্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে।
কোকুম জুস তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত হলেও এটি গরমের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি পানীয়। এটি শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং হজমের সমস্যা কমায়। এতে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। গরমের দিনে ক্লান্তি দূর করতে এবং শরীরকে সতেজ রাখতে এই পানীয় খুবই কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
তরমুজের রস গরমে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সহজলভ্য পানীয়গুলোর একটি। এতে প্রায় ৯০ শতাংশ জল থাকে, যা শরীরকে দ্রুত হাইড্রেট করে। এটি শরীর ঠান্ডা রাখে, ক্লান্তি কমায় এবং হজমে সাহায্য করে। তরমুজে থাকা প্রাকৃতিক চিনি শরীরকে দ্রুত শক্তি দেয়, ফলে এটি গরমে একটি আদর্শ ফল ও পানীয়।
আখের রস গরমে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগানোর জন্য খুবই জনপ্রিয়। এতে প্রাকৃতিক শর্করা, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম থাকে, যা শরীরকে দ্রুত এনার্জি দেয়। তবে অবশ্যই পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যসম্মত জায়গা থেকে এটি খাওয়া উচিত। এটি শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি হজমের সমস্যাও কমাতে সাহায্য করে এবং শরীরকে সতেজ রাখে।
বেলের শরবত বা উড অ্যাপল জুস গরমে শরীরের জন্য খুবই উপকারী একটি পানীয়। এতে প্রাকৃতিক ফাইবার থাকে, যা হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। এটি শরীর ঠান্ডা রাখে এবং পেটের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করে। নিয়মিত বেলের শরবত খেলে শরীর ভেতর থেকে সুস্থ ও হালকা থাকে।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 08:44 PM Apr 01, 2026Updated: 08:44 PM Apr 01, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
