Advertisement
স্বাস্থ্যসাথী ও আয়ুষ্মান ভারতের পার্থক্য কোথায়? কোন প্রকল্প থেকে কী কী সুবিধা পাবে রাজ্যবাসী?
বিজেপি সরকার আসার পরই রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত চালুর ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
পরিবর্তনের পরই কেন্দ্র সরকারের আটকে থাকা বেশ কিছু প্রকল্প চালু হতে চলেছে রাজ্যে। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্নের প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারত চালুর কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যা এতদিন তৃণমূল আমলে আটকে ছিল। বিজেপি তাদের ইস্তেহারেই জানিয়েছিল যে সরকার গঠন হলে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করা হবে। সেই মতোই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই আয়ুষ্মান ভারত কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প, যেখানে নিখরচায় ৫ লক্ষ টাকার চিকিৎসা পরিষেবা মেলে। মূলত আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের পরিবারপিছু বার্ষিক পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় আয়ুষ্মান ভারতের অধীনে। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করেন।
আয়ুষ্মান ভারত ঘোষণা করলেও রাজ্য সরকার এতদিন যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু রেখেছিল, সেই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ স্পষ্ট নয়। যদিও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে চালু হওয়া কোনও জনকল্যাণমুখী প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি আয়ুষ্মান ভারত চালুর কথাও ঘোষণা করেছেন। সেক্ষেত্রে কোন স্বাস্থ্যবিমা বাংলায় চালু থাকবে, বা একই সঙ্গে দুটি চালু থাকবে কিনা স্পষ্ট নয়।
আয়ুষ্মান ভারত ঘোষণার পর ধন্দে রয়েছেন আমজনতার একাংশও। আগামী দিনে হয়তো আয়ুষ্মান ভারত চালুর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। কিন্তু প্রশ্ন হল, স্বাস্থ্য সাথী এবং আয়ুষ্মান ভারতের মধ্যে মূল পার্থক্যটা কী? কেনই বা আয়ুষ্মানের থেকে আলাদা স্বাস্থ্যসাথী? স্বাস্থ্যসাথী বাতিল হলে কারা চিন্তায় থাকবেন?
আসলে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও নাগরিক পান। এতে আয়ের কোনও নির্দিষ্ট সীমা নেই। ফলে রাজ্যের প্রায় সব নাগরিকই এর আওতায় পড়ে যেতেন। সব মিলিয়ে এর উপভোক্তা সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৪০ লক্ষ পরিবার। সাধারণত বাড়ির মহিলাদের ওই কার্ড দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের খরচ পুরোটাই দেয় রাজ্য সরকার। রাজ্যের সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে এই পরিষেবা পাওয়া যায়।
কেন্দ্র সরকারের আয়ুষ্মান ভারতের মূল 'সমস্যা'র জায়গাই হচ্ছে সেটা সবার জন্য নয়। বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। 'আর্থ-সামাজিক ও জাতি শুমারি অনুযায়ী যাঁরা গরিব শুধু তাঁরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পান। কেন্দ্রের নিয়ম অনুযায়ী, যে সকল পরিবারের বার্ষিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার কম, তারাই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
গ্রামীণ এলাকার যারা কাঁচা বাড়ি ও এক কামরার ঘরে বসবাসকারী বা যাঁদের পরিবারে প্রাপ্তবয়স্ক (১৬ থেকে ৫৯) কোনও সদস্য নেই বা প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সদস্য নেই তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পান। অন্যের জমিতে কর্মরত, ভূমিহীনেরা-সহ নিম্ন আয়ের নাগরিকরাও সুবিধা পান। শহরাঞ্চলে হকার, রিকশা বা ভ্যান চালক, সাফাইকর্মী, মালি, পরিচারিকা, রাজমিস্ত্রি, নিরাপত্তা রক্ষী, ঝাড়ুদার-সহ নিম্ন আয়ের নাগরিকরা এর সুবিধা পান।
এর বাইরে বিশেষ ভাবে সক্ষম, তফসিলি জাতি-উপজাতি (এসসি এবং এসটি), আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনাতে অন্তর্ভুক্তরা। পরিবারে সত্তর বছর বা তার থেকে বেশি বয়সের প্রবীণ সদস্যরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পান। ৭০ বছর বেশি বয়সি সব নাগরিক এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, তাতে কোনও আয়ের সীমা থাকবে না।
এই প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, প্রাপকদের ৬০ শতাংশ টাকা দেবে কেন্দ্র। বাকি টাকা দেবে রাজ্য। তাতে আনুমানিক রাজ্যের ১ কোটি ২৫ লক্ষ মতো উপভোক্তা সুবিধা পাবেন। বাকি সমস্ত নাগরিকদের এই প্রকল্পের সুবিধা দিতে হলে, পুরো টাকা রাজ্যকে দিতে হবে। যে কোনও রাজ্যের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে।
কার্ডের তালিকাভু্ক্ত হাসপাতালে ভর্তির জন্য নগদের প্রয়োজন নেই, অর্থাৎ ক্যাশলেস চিকিৎসা। চিকিৎসা, পরীক্ষা, অপারেশন ও ওষুধের খরচ সবটাই মেলে এর অধীনে। ভর্তি হওয়ার আগের ৩ দিন থেকে পরবর্তী ১৫ দিন পর্যন্ত ওষুধ ও পরীক্ষার খরচ দেওয়া হয় এই প্রকল্পের অধীনে।
আয়ুষ্মান ভারতে আবেদন করতে হলে প্রথমেই চলে যান PMJAY পোর্টালে। অথবা ডাউনলোড করে নিন Ayushman App। সেখানে মোবাইল নম্বর দিয়ে লগ ইন করুন। এরপর আধার অথবা রেশন কার্ডের নম্বর দিয়ে দেখতে হবে আপনি আদৌ যোগ্য কি না। যোগ্য হলে ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করুন। ওটিপি সাবমিট করুন। ডাউনলোড করে নিন নিজের আয়ুষ্মান ভারত কার্ড।
Published By: Subhajit MandalPosted: 08:57 PM May 12, 2026Updated: 11:12 PM May 12, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
