Advertisement
নিষেধাজ্ঞার পর ভোল বদলে 'সক্রিয়' ক্রিকেটের ফ্যান্টাসি অ্যাপগুলো, এখনও টাকা কামানো যায়?
এখন কীভাবে চলছে ফ্যান্টাসি গেমিং অ্যাপগুলো?
ক্রিকেটের ফ্যান্টাসি গেম খেলে কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন অনেকেই। প্লে-স্টোর থেকে ফ্যান্টাসি অ্যাপ নামিয়ে বহু মানুষই খেলায় ডুবে থাকতেন। তবে এবারের আইপিএলের ছবিটা আলাদা। কেন্দ্রের আইনে অনলাইন বেটিং অ্যাপগুলো বন্ধ। তাহলে কীভাবে চলছে অ্যাপগুলো? এখনও কি টাকা আয় করা যায়?
প্লে-স্টোর ঘাঁটলে ড্রিম ১১, মাই ১১ সার্কেল ক্রিকেট বা এমপিএলের মতো অ্যাপগুলো এখনও সক্রিয়। তবে সেই জৌলুস আর নেই। ক্রিকেট বা বলিউডের সেলিব্রিটিরা আর বিজ্ঞাপন দেন না। আইপিএলের সময়ও এই অ্যাপগুলোর বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে না।
তাহলে কীভাবে কাজ করছে এই অ্যাপগুলো? সেখানে এখনও দল বানানো যাচ্ছে। আগের মতোই দুই টিমের প্লেয়ারদের নিয়ে নিজের একাদশ তৈরি করা যায়। অধিনায়ক বা সহ-অধিনায়কদের জন্য বাড়তি পয়েন্ট থাকে। তবে ড্রিম ১১-র মূল সংস্থা ড্রিম স্পোর্টস এখন ক্রিকেট আলোচনা বা ফ্যানদের সংযুক্ত করার কাজ করছে।
সমর্থকরা নিজেদের মধ্যে কথা বলতে পারবে, মত বিনিময় করতে পারবে। একসঙ্গে লাইভ খেলা দেখে প্রতিক্রিয়া দিতে পারবেন। সোশাল মিডিয়ার ইনফ্লুয়েন্সাররাও অনেকে থাকেন। এছাড়া বিভিন্ন রকম ক্যুইজও হবে। অনেকটা ট্যুইচের মতো একসঙ্গে খেলা দেখা ও আলোচনার প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে এই অ্যাপটি।
এছাড়া অন্য ফ্যান্টাসি অ্যাপগুলোতে ক্রিকেট সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর, অভিজ্ঞদের মতামত থাকছে। এমনকী ক্রিকেট নিয়ে রিল বা মিমও পাওয়া যাবে একাধিক অ্যাপে। কিন্তু আগে যেভাবে সরাসরি টাকা দিয়ে ম্যাচে অংশগ্রহণ করা যেত, সেই ব্যবস্থা এখন আর নেই। আগে প্রলোভন থাকত, টাকা দিয়ে ম্যাচ খেলে কোটিপতি হওয়ার।
কিন্তু 'পুরস্কার' জেতার সুযোগ এখনও থাকছে। অন্তত অ্যাপগুলোতে সেরকম বিজ্ঞাপন দেওয়া থাকছে। তবে টাকার বিনিময়ে নয়। নিজেদের 'স্কিল' ব্যবহার করে অনুমান করতে হবে। কিংবা আগের মতোই প্লেয়ারদের নির্বাচন করে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পেতে হবে। তাতে লক্ষ-লক্ষ টাকা বা গাড়ি জয়ের সুযোগও থাকছে বলে বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। তবে এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, গত বছরই অনলাইনে গেমে বিপুল লেনদেন, প্রতারণা এবং আসক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে নয়া বিল এনেছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। রিয়াল মানি অ্যাপ পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই এর আওতায় এসেছে ড্রিম ইলেভেনের মতো ফ্যান্টাসি অ্যাপও।
অনলাইন গেমে বাজি ধরার পিছনে প্রতি মাসে ভারতে গড়ে ১০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হত। এর থেকে মোটা জিএসটিও পেত সরকার। তারপরও কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র সরকার। বাদল অধিবেশনে পাশ হওয়া ‘দ্য প্রমোশন অ্যান্ড রেগুলেশন অব অনলাইন গেমিং বিল’-এর সুবাদে ড্রিম ১১, মাই ১১ সার্কেলের মতো ফ্যান্টাসি অ্যাপগুলোতে 'বেটিং' বন্ধ হয়।
তবে ঘটনা পরম্পরা এখানেই শেষ হয়নি। ড্রিম ১১ ছিল ভারতীয় ক্রিকেট দলের স্পনসর। ড্রিম ১১-এর সঙ্গে ২০২৩ থেকে এ বছরের মার্চ পর্যন্ত বিসিসিআইয়ের চুক্তি ছিল। প্রধান স্পনসর হিসাবে তিন বছরে ৩৫৮ কোটি টাকার চুক্তি ছিল দু’পক্ষে। ভারতের পুরুষ এবং মহিলা ক্রিকেট দলের পাশাপাশি অনূর্ধ্ব ১৯ দলের জার্সিতেও থাকে ড্রিম ১১-এর লোগো।
Published By: Arpan DasPosted: 06:15 PM Apr 03, 2026Updated: 06:15 PM Apr 03, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
