Advertisement
কেবলই কুসংস্কার! আর পাঁচজন বাঙালির মতো আপনারও এই অন্ধবিশ্বাস রয়েছে?
ছোট থেকে আমরা এমন কিছু জিনিস বিশ্বাস করি, যার কোনও যুক্তি নেই। নেই কোনও বাস্তবতা। তা-ও আমরা দিনের পর দিন চোখ বন্ধ করে সেগুলি বিশ্বাস করি।
কথায় বলে, বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহু দূর...। ছোট থেকে আমরা এমন কিছু জিনিস বিশ্বাস করি, যার কোনও যুক্তি নেই। নেই কোনও বাস্তবতা। তা-ও আমরা দিনের পর দিন চোখ বন্ধ করে সেগুলি বিশ্বাস করি। আর সেটিই হল কুসংস্কার। প্রত্যেক বাঙালির কিছু না কিছু কুসংস্কার বিশ্বাস করেন। আপনিও তার ব্যতিক্রম নন নিশ্চয়ই?
বাড়ি থেকে বেরিয়ে কিংবা কোথাও গিয়ে, দিনের যেকোনও সময় এক শালিক দেখলেই মনখারাপ। এই বুঝি কিছু একটা ক্ষতি হল। অনেকেই এই ধারণা নিয়ে বাঁচেন। দুই শালিক না দেখা পর্যন্ত মন খুঁতখুঁত। যদিও সারাদিন দুই শালিক না দেখলে সত্যি কোনও সমস্যা হয় কিনা, তা কারও বোধহয় জানা নেই।
কালো বিড়ালকে অশুভ বলেই মনে করেন কেউ কেউ। তাই কালো বিড়াল রাস্তার মাঝখান দিয়ে গেলে অনেকে দাঁড়িয়ে পড়েন। যতক্ষণ না সেই রাস্তা দিয়ে কেউ যাচ্ছেন ততক্ষণ সেখান দিয়ে যেতে চান না। অনেকে বিশ্বাস করেন, বিড়ালে 'কাটা' রাস্তা দিয়ে গেলে বিপদ হতে পারে।
অনেকেই চুল এবং নখ কাটার ক্ষেত্রে কিছু কুসংস্কার মেনে চলেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন রাতে চুল কাটতে নেই। নখও রাতে কাটেন না অনেকে। এছাড়া মঙ্গল, বৃহস্পতি এবং শনিবারেও চুল ও নখ কাটেন না বহু বাঙালি। অনেকেই বিশ্বাস করেন, অসময়ে নখ ও চুল কাটলে নাকি আর্থিক সমস্যা দেখা দেয়। সঞ্চয়ে কোপ পড়ে। লক্ষ্মীলাভে নাকি দেখা দেয় ভাঁটার টান।
কেউ কেউ বিশ্বাস করেন ঝাঁটা দেখে বাড়ি থেকে বেরতে নেই। তাতে নাকি কোনও কাজই সফল হয় না। পথেঘাটে বিপদে পড়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাই বেরনোর পথে ঝাঁটা সাধারণত রাখা হয় না।
বাড়ি থেকে বেরচ্ছেন। আর কেউ হাঁচলেন। সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের বয়জ্যেষ্ঠরা বেরতে বারণ করেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন, হাঁচি মানে কাজে বিঘ্ন। পথেঘাটে কোনও বিপদ হতে পারে। কিংবা শুভ কাজে বাধা আসতে পারে। তাই ঘরে ঢুকে অল্প সময় বসে বেরতে বলা হয়। তাতেই নাকি দোষ কেটে যায়।
আবার ধরুন কোনও কাজে বাড়ি থেকে বেরনোর সময় আপনাকে কেউ পিছু ডাক দিলেন। বিশেষত কোনও শুভ কাজে যাওয়ার আগে এই ডাক শুনলেই গন্ডগোল। তাতেই নাকি পণ্ড হয়ে যাবে শুভ কাজ। তাই পিছু ডাক শুনলে বাড়ি ফিরে আসতে বলেন বয়জ্যেষ্ঠরা। কিছুটা সময় বাড়িতে কাটিয়ে তারপর আবার বেরতে বলেন তাঁরা।
বাড়ির সামনে খুলে রাখা চপ্পল কখনও নাকি উলটে রাখতে নেই। তাতেও সমস্যা হতে পারে। কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, এভাবে জুতো রাখলে নাকি বাড়িতে নেতিবাচক শক্তির বাড়বাড়ন্ত হয়। পরিবারের লোকজনের মধ্যে সুসম্পর্ক নষ্ট হয়। ঝগড়াঝাটিও হয় একে অপরের।
হাতের তালু চুলকানোর সঙ্গেও আর্থিক অবস্থার যোগ রয়েছে। দুই হাতের দু'টি তালু চুলকানোর আবার আলাদা তাৎপর্য। অনেকেই বিশ্বাস করেন, ডান হাতের তালু চুলকানোর অর্থ আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি। আবার বাম হাতের তালু চুলকানোর অর্থ লোকসান হওয়া। তাতে নাকি খরচ হয় বলেই মনে করেন কেউ কেউ। যদিও তার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
মাথার বালিশ পা দিয়ে দোমড়ানো মোচড়ানোও নাকি উচিত নয়। অনেকেই বলেন, পা দিয়ে বালিশ দোমড়ানোর অর্থ কাউকে অসম্মান করা। তার ফলে ভাগ্যদেবী নাকি মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। তাই এসব কাজ করেন না অনেকেই। এই কাজ করলে আদৌ ক্ষতি হবে কিনা, সে সম্পর্কে অবশ্য কিছু জানা যায়নি এখনও।
রাতে কী করবেন, আর কী করবেন না - তা নিয়েও নানা অন্ধবিশ্বাস রয়েছে কারও কারও। যেমন - কেউ কেউ বিশ্বাস করেন রাতে ঘরে ঝাড়ু দেওয়া উচিত নয়। আবার রাতে বাড়ির বাইরে জামাকাপড় শুকোতে দেওয়াও অনুচিত বলেও মনে করেন কেউ কেউ। এই দু'টি কাজেই নাকি লক্ষীদেবী অপ্রসন্ন হন। তার ফলে আপনার দিক থেকে মুখ ফেরাতে পারেন ধনদেবী।
Published By: Sayani SenPosted: 08:31 PM Apr 16, 2026Updated: 08:31 PM Apr 16, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
