Advertisement
প্রসববেদনা থেকে মাইগ্রেনের ব্যথা, সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায় এই ৮ যন্ত্রণা
মানবদেহে এমন কিছু ব্যথা আছে, যা কেবল অস্বস্তিকর নয়, বরং অসহনীয় কষ্ট দেয়। এই ধরনের ব্যথা শুধু শরীর নয়, মানসিকভাবেও মানুষকে ভেঙে দিতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন কয়েকটি ব্যথাকে সবচেয়ে তীব্র বলে ধরা হয়, যেগুলো হঠাৎ শুরু হয় এবং সহ্য করা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে অনেকের কাছে।
ক্লাস্টার হেডেক বা মাথার একপাশে ব্যথা। এটি সাধারণ মাথাব্যথার মতো নয়, চোখের চারপাশে, মাথার একপাশে তীব্র যন্ত্রণা হয়। ব্যথার আক্রমণ ১৫ মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে এবং দিনে একাধিকবার ফিরে আসতে পারে, যা দৈনন্দিন জীবনযাপনকে কঠিন করে তোলে। এই ব্যথার সঙ্গে চোখ দিয়ে জল পড়া, নাক বন্ধ হওয়ার মতো অস্বস্তি দেখা দেয়। হঠাৎ স্নায়ুর তীব্র উত্তেজনার কারণে এই ব্যথা হয়।
ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া আরেকটি ভয়ংকর ব্যথা। এটি মুখের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ুকে প্রভাবিত করে এবং হঠাৎ তীব্র বৈদ্যুতিক শকের মতো ব্যথা হয়। এই ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে, রোগী অনেক সময় কথা বলা বা খাওয়াও বন্ধ করে দেন। এমনকি হালকা স্পর্শ, দাঁত ব্রাশ করা বা চিবোনোর মতো সাধারণ কাজও এই ব্যথার ট্রিগার হতে পারে। সাধারণত স্নায়ুর ওপর চাপের কারণে এটি ঘটে।
কিডনিতে পাথর হওয়াও অত্যন্ত তীব্র ব্যথার কারণ হিসেবে পরিচিত। যখন এই পাথর সরু মূত্রনালীর মধ্যে দিয়ে নড়াচড়া করে, তখন তীব্র চাপ ও পেশির সংকোচন তৈরি হয়। এই ব্যথা অনেক সময় পিঠ থেকে পেট বা কুঁচকি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে এবং হঠাৎ করেই অসহনীয় হয়ে ওঠে। ব্যথার তীব্রতা এতটাই বেশি হতে পারে যে, রোগী স্থির হয়ে বসে থাকতে পারেন না এবং দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন পড়ে।
প্রসববেদনা বা চাইল্ড বার্থের ব্যথা তীব্র একটি অভিজ্ঞতা। প্রসবের সময় জরায়ুর সংকোচন, হরমোনের পরিবর্তন এবং শিশুর জন্মের চাপ মিলিয়ে এই ব্যথা তৈরি হয়। এটি ধাপে ধাপে বাড়ে, কখনও কমে, আবার হঠাৎ বেড়ে যায়- এই ওঠানামাই এটিকে আরও কঠিন করে তোলে। শরীরের সহনশীলতা, মানসিক প্রস্তুতি এবং চিকিৎসা সহায়তার ওপর অভিজ্ঞতা ভিন্ন হতে পারে।
হাড় ভাঙা বা সিভিয়ার বোন ফ্র্যাকচারও ভয়াবহ ব্যথা সৃষ্টি করে। দুর্ঘটনা বা আঘাতে হাড় ভেঙে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রে হাড় সরে যায় বা ভেতরের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা ব্যথাকে আরও জটিল করে। নড়াচড়া করলেই ব্যথা বেড়ে যায়, এমনকি সামান্য স্পর্শেও অসহ্য লাগতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা, প্লাস্টার বা অস্ত্রোপচারের দরকার পড়ে।
মাইগ্রেন এক ধরনের তীব্র মাথাব্যথা, যা সাধারণ মাথাব্যথার থেকে অনেক আলাদা। এতে মাথার একপাশে দপদপ ব্যথা হয়, সঙ্গে বমি ভাব, আলো ও শব্দে অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা দেখা দেয়। অনেক সময় চোখে ঝাপসা দেখা বা আলোর ঝলকও অনুভূত হতে পারে। এই ব্যথা কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং কাজ করার ক্ষমতা প্রায় বন্ধ করে দেয়। অনেকেই অন্ধকার ঘরে চুপচাপ শুয়ে থাকতেই বাধ্য হন।
দগ্ধ হওয়া বা বার্ন ইনজুরিও ভয়াবহ যন্ত্রণা তৈরি করে। এতে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সংবেদনশীল স্নায়ুর প্রান্তগুলো উন্মুক্ত হয়ে যায়। ফলে ব্যথা শুধু তাৎক্ষণিক নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে এবং ধীরে ধীরে সেরে ওঠার সময়ও কষ্ট দেয়।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 09:29 PM Mar 29, 2026Updated: 09:29 PM Mar 29, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
