Advertisement
আগুন লাগে, প্রাণ যায়, হুঁশ ফেরে না! দু'দশকে যে ৮ বড় অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী থেকেছে তিলোত্তমা
নিউ মার্কেটের হোটেলের অগ্নিকাণ্ড আর কোনও ঘটনার কথা মনে করাল?
ঘিঞ্জি গলিপথ। তারই মাঝে বিশাল বহুতল। তাতেই হোটেল। মির্জা গালিব স্ট্রিটের অগ্নিদগ্ধ এই হোটেল থেকে নিউ মার্কেট থানা মাত্র ১ কিলোমিটার। পুরসভা থেকে দূরত্ব ৯৫০ মিটার। হোটেলের ৫০ মিটারের মধ্যে দমকলের সদর দপ্তর। তাও রোখা যায়নি প্রাণহানি। আগুনে দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু ৯ জনের। হোটেলে প্রাণ হারিয়েছেন তাঁরা। জখম আরও ৬ জন।
কার গাফিলতিতে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে চলছে চাপানউতোর। নির্দেশিকা জারি, প্রশাসন, পুলিশের একের পর এক পদক্ষেপের পরেও অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা থেকে রেহাই মিলছে কই? গত ২০ বছরে কমপক্ষে ৮টি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সাক্ষী তিলোত্তমা। সবমিলিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২০০ মানুষ।
২০০৬ সালের ২২ নভেম্বর, তখন রাজ্যে বাম শাসন। তপসিয়ায় চামড়া কারখানায় আগুন লেগে যায়। সেই সময় ৪০ জন কাজ করছিলেন। কারখানার একটিমাত্র দরজা বন্ধ ছিল। তালা ভেঙে কয়েকজন বেরিয়েছিলেন। তবে প্রাণহানি রোখা যায়নি। মৃত্যু হয় ৯ জনের।
তার ঠিক বছর চারেক পর পার্ক স্ট্রিটের স্টিফেন কোর্ট অগ্নিকাণ্ড। দাউদাউ করে জ্বলেছিল আকাশছোঁয়া বাড়ি। কেউ কেউ আতঙ্কে উপর থেকে ঝাঁপ দেন। ধোঁয়া, আগুন সঙ্গে আতঙ্ক সবমিলিয়ে প্রাণ হারান ৪৩ জন। আহত কমপক্ষে কয়েকশো।
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই জতুগৃহের চেহারা নেয় ঢাকুরিয়ার আমরি হাসপাতাল। ২০১১ সালের ৯ ডিসেম্বর, বেসমেন্টে আগুন লাগে। সেখানে ছিল দাহ্য পদার্থ। তাই আগুন নিমেষে গ্রাস করে গোটা হাসপাতাল। অসহায় রোগীরা বেরনোর হাজারও চেষ্টা করেন। কয়েকজন চিকিৎসক, নার্স, রোগীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে সকলকে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে যাওয়া যায়নি। অসহায় ঘুমন্ত রোগীদের মধ্যে অন্তত ৯৪ জনের মৃত্যু হয়।
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩। শিয়ালদহের সূর্য সেন স্ট্রিটের কাগজ-প্লাস্টিক বাজারে ভোরবেলা আগুন লেগে যায়। ঘুমের ঘোরে শ্রমিকরা পান বিপদ সংকেত। তড়িঘড়ি ঘটনাস্থল ছাড়ার চেষ্টা করেন। তবে সকলে বেরতে পারেননি। প্রাণ হারান অন্তত ২০ জন।
২০২১ সালের ৯ মার্চ স্ট্র্যান্ড রোডের নিউ কয়লাঘাট বিল্ডিংয়ে আগুন লাগে। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয় ৯ জনের। মৃতদের মধ্যে ছিলেন রেলের ডেপুটি চিফ কর্মাশিয়াল ম্যানেজার, দমকলের ৪ কর্মী, একজন পুলিশ আধিকারিক এবং একজন আরপিএফ জওয়ান। জানা গিয়েছে, নিহতের মধ্যে অনেকেই ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।
বড়বাজারে মেছুয়াবাজারের হোটেলে ২৯ এপ্রিল, ২০২৫ সালে আগুন লেগে যায়। তাতে প্রাণ হারান ২ শিশু-সহ মোট ১৪ জন। সেই সময় কলকাতার ঘিঞ্জি এলাকায় হোটেল তৈরি এবং সেগুলির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে তা সত্ত্বেও কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড রোখা সম্ভব হয়নি।
Published By: Sayani SenPosted: 09:01 PM Aug 19, 2026Updated: 09:01 PM Aug 19, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
