Advertisement
প্রশ্ন ফাঁসের আন্দোলন থেকেই উত্থান ধর্মেন্দ্রর! ২৯ বছর পর ছাত্ররোষে সেই শিক্ষামন্ত্রীই
যে প্রশ্ন ফাঁসের আন্দোলন থেকে ধর্মেন্দ্র রাজনৈতিক জীবনের উত্থান, আজ সেই প্রশ্ন ফাঁসেই 'অভিযুক্ত' হয়ে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী।
ধর্মেন্দ্র প্রধান। দেশজুড়ে সবচেয়ে চর্চিত নাম। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে পথে নেমেছে লক্ষাধিক পড়ুয়া। অনির্দিষ্ট কালের জন্য অনশনে বসেছেন সোনম ওয়াংচুক। দেশবাসীর একটাই দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিন ধর্মেন্দ্র। কারণ তাঁর সময়কালে নিটের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। গাফিলতি হয়েছে একাধিক সর্বভারতীয় পরীক্ষায়। মজার ব্যাপার হল ধর্মেন্দ্র যে আজ শিক্ষামন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছেন, তার নেপথ্যেও রয়েছে প্রশ্ন ফাঁসই!
সালটা ১৯৯৭। তখন ওড়িশায় কংগ্রেস সরকার। সেবার ফাঁস হয়ে গেল রাজ্য নিয়ন্ত্রিত এক পরীক্ষার প্রশ্ন। ক্ষোভে ফুঁসছে ছাত্রসমাজ। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটল মুখ্যমন্ত্রী জানকী বল্লভ পটনায়কের বাসভবনের সামনে। দেড় হাজার পড়ুয়া জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষোভের মূল উদ্যোক্তা-বিজেপির ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। আর বিক্ষোভকারীদের নেতা? ধর্মেন্দ্র প্রধান স্বয়ং!
মাত্র ১৮ বছর বয়স থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন ধর্মেন্দ্র। উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃতত্ত্বের ছাত্র ছিলেন। পড়াশোনার সঙ্গেই তাল মিলিয়ে চলছিল তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার। খুব অল্পদিনের মধ্যেই এবিভিপির নেতৃত্বে উঠে আসেন। ১৯৯৪ সালে এবিভিপির ন্যাশনাল সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। টানা তিন বছর ছিলেন এই পদে। সেসময়েই ওড়িশায় প্রশ্ন ফাঁস এবং ধর্মেন্দ্রর নেতৃত্বে পড়ুয়াদের সাড়া জাগানো আন্দোলন।
মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের খুব কাছে প্রতিবাদ শুরু করেন ধর্মেন্দ্ররা। সেই আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গী ছিলেন প্রশান্ত রাউত। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ধর্মেন্দ্রর জুনিয়র ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে আন্দোলনের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে তিনি বলছেন, "আমরা প্রায় হাজার দেড়েক পড়ুয়া একজোট হয়েছিলাম। কিন্তু শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে শুরু হয় পুলিশি লাঠিচার্জ। ধর্মেন্দ্রকেও মারধর করা হয়। সেসময়ে ওর বেশ কয়েকটা হাড়ও ভেঙেছিল।"
সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক কেরিয়ারে তরতর করে উত্থান হয় ধর্মেন্দ্রর। বিশ্লেষকদের মতে, ওড়িশায় বিজেপির ঘাঁটি শক্ত করতে ধর্মেন্দ্রর যথেষ্ট অবদান রয়েছে। বহু বছর ধরে গেরুয়া শিবিরকে একটু একটু করে শক্তিশালী করেছেন। তার সুফল মিলেছে ২০২৪ সালে। প্রথমবার সেরাজ্যে সরকার গড়েছে বিজেপি। তবে তার আগে থেকেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন ধর্মেন্দ্র।
যে প্রশ্ন ফাঁসের আন্দোলন থেকে ধর্মেন্দ্র রাজনৈতিক জীবনের উত্থান, আজ সেই প্রশ্ন ফাঁসেই 'অভিযুক্ত' হয়ে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। দেশজুড়ে পড়ুয়াদের রোষে পড়েছেন তিনি। নিটের প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে দিল্লিতে যন্তর মন্তরে যেভাবে পড়ুয়াদের আন্দোলন হচ্ছে, তাতে অনেকেরই মনে পড়ছে ২৯ বছর আগের ওড়িশার সেই আন্দোলনের কথা। তবে আকার-আয়তনে সেই প্রতিবাদ অনেকটাই ছোট ছিল।
দিল্লির গণ্ডি পেরিয়ে দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে নিটের প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ। গোটা দেশের যুবসমাজের মধ্যে ককরোচ নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। পড়ুয়াদের ওই আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা করছে বিরোধীরাও। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব-সকলেই জড়িয়েছেন ককরোচদের সঙ্গে।
তবে ১৯৯৭র থেকে এবারের আন্দোলনের তফাত রয়েছে। এবারের আন্দোলন শুরু হয়েছিল অরাজনৈতিকভাবে। প্রতিবাদের কেন্দ্রে সর্বভারতীয় পরীক্ষা। দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়েছে আন্দোলনের আঁচ। কিন্তু সেই প্রতিবাদে এতকিছু ছিল না। নিটের প্রশ্ন ফাঁসের জেরে একাধিক পড়ুয়া আত্মঘাতী হয়েছেন। কিন্তু ওড়িশার প্রশ্ন ফাঁসে সেরকম ঘটনার উল্লেখ নেই। প্রশ্ন ফাঁস থেকে উত্থান শেষে শিক্ষামন্ত্রী হয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র। সেই প্রশ্ন ফাঁসই তাঁর গদি কাড়বে না তো?
Published By: Anwesha AdhikaryPosted: 07:28 PM Jul 23, 2026Updated: 08:16 PM Jul 23, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
