Advertisement
দেওয়ালের কানে কথা বলে ইতিহাস! এবার ছুটিতে গন্তব্য হোক ব্রিটিশ আমলের এই সব ভবন
প্রাসাদ বা প্রাসাদোপম এই সব বাড়ির স্থাপত্য অসামান্য তো বটেই, তাদের ঐতিহাসিক গুরুত্বও অপরিসীম।
বেড়ানো মানে কি কেবলই সমুদ্র-পাহাড়-জঙ্গল? সেসব তো অনেক হল। ইতিহাসের অন্দরে যাবেন নাকি? ব্রিটিশরা চলে গেলেও সেই আমলের বহু নিদর্শন আজও ছড়িয়ে রয়েছে এদেশে। সেসব প্রাসাদ বা প্রাসাদোপম বাড়ির স্থাপত্য অসামান্য তো বটেই, তাদের ঐতিহাসিক গুরুত্বও অপরিসীম। ইট-কাঠ-পাথরে যেন খোদাই করা ইতিহাসের কণ্ঠস্বর। একবার কান পাতলেই হল! রইল তেমনই কিছু স্থানের হদিশ।
লক্ষ্মীবিলাস প্যালেস: ৩ কোটি বর্গফুটের বিশাল আয়তনবিশিষ্ট এই প্রাসাদ বিশ্বের বৃহত্তম ব্যক্তিগত বাসভবন! বাকিংহাম প্যালেসের আয়তনের চেয়েও ৩৬ গুণ বড়! ভদোদরায় অবস্থিত এই ঐতিহাসিক ভবন ১৮৭৮ সালে স্থাপিত হয়। মহারাজা তৃতীয় শিবাজিরাও গায়কোয়াড়ের নির্দেশে নির্মিত এই ভবনে হিন্দু মন্দির-স্থাপত্যের নকশায় মিশেছে ইউরোপীয় শৈলীও। যার মধ্যে অন্যতম সেই ঘড়ি মিনারটি, যা আজও রাজপরিবারের সদস্যরা এখানে এলে লাল আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে।
অবন্তী নাগরথের পারিবারিক বাংলো: পাঁচ প্রজন্মের নানা গল্প ও স্মৃতিতে সমৃদ্ধ এই বাংলো অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান ঔপনিবেশিক স্থাপত্যশৈলীর এক চমৎকার নিদর্শন। স্থাপিত ১৯৩২ সালে। ১১,০০০ বর্গফুটের জমির ওপর গড়ে ওঠা এই বাংলোটিতে নিও-ক্লাসিক্যাল বা নব্য-ধ্রুপদী রীতির সঙ্গে ভারতীয় নকশার শৈল্পিক সংমিশ্রণ ঘটেছে। এই বাংলোর অভ্যন্তরে মিশে রয়েছে এক ধরনের সংযত ও রাজকীয় গাম্ভীর্য।
ট্যাঙ্কুরে: এই বাংলোয় ধ্রুপদী ও সমসাময়িক শৈলীর মেলবন্ধন ঘটেছে। ১৯২৩ সালে নির্মিত এই বাংলোটি পূর্বে 'ইকেলশাম' নামে পরিচিত ছিল। তখন এর মালিকানা ছিল ব্রিটিশ আর্মেনিয়ান বংশোদ্ভূত ব্রিগেডিয়ার আপকারের মালিকানাধীন। পরে বিখ্যাত শিল্প-নকশাবিদ সুজাতা কেশবানে এটি কেনেন। নীলগিরি পাহাড়ের কুন্নুর শহরের কেন্দ্রস্থলে পাহাড়ের উপরে অবস্থিত এই বাংলোতেও ইতিহাস আর সৌন্দর্য যেন হাত ধরাধরি করে চলে।
চেট্টিনাদ: চেট্টিনাদ এমআরএম হাউস তামিলনাড়ুর কানাডুকাথান গ্রামে অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী প্রাসাদ। ইউরোপীয়, ঔপনিবেশিক এবং আর্ট ডেকোর সঙ্গে দেশীয় অভিব্যক্তির সংমিশ্রণে এক স্বতন্ত্র স্থাপত্যশৈলী এখানে দৃশ্যমান। সাদা-কালো মেঝে, ইতালীয় মার্বেল, বার্মিজ সেগুন কাঠের খোদাই করা স্তম্ভ, বেলজিয়ান কাচ মুগ্ধ করবেই। তবে ১২৫ বছরের পুরনো এই বাড়ি থেকে তৈরি জাদুঘরে বেড়াতে আসতে চাইলে আগামী বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
কুনুরের বাংলো: গত শতকের চারের দশক। তখনও দেশে ব্রিটিশরাজ। সেই সময়ে নির্মিত দক্ষিণ ভারতের কুনুরের এই বাংলোটিও এখন সুজাতা কেশাবনের মালিকানাধীন। তিনি একে নতুন করে গড়ে তুলেছেন। রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে বাড়িটি আলো-ছায়ার পরিবর্তনশীল ছন্দে নেচে ওঠে। পরিবর্তনের পর তা যেন নতুন করে শ্বাস নিচ্ছে। তার ঔপনিবেশিক অতীতকে মিশিয়ে নিচ্ছে বর্তমান সময়ের সঙ্গে। একবার এখানে এলেই মন ভালো হয়ে যাবে।
শিক্ষাক্ষেত্র অনেকসময়ই হয়ে ওঠে বাণিজ্যের আঁতুড়ঘর। শিক্ষাব্যবস্থার বাণিজ্যিকীকরণের নেতিবাচক দিক তুলে ধরে হয়েছে 'চক এন ডাস্টার'-এ। দুই শিক্ষকের শিক্ষাক্ষেত্রের অব্যবস্থা-অনাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন দুই শিক্ষক। শিক্ষকদের মর্যাদা ও শিক্ষার প্রকৃত মূল্যবোধকে রক্ষা করতে এই লড়াই কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটাই প্রতিফলিত হয়েছে।
অস্কারজয়ী 'হোমবাউন্ড'ও এই আবহে উপযুক্ত সিনেমা। এই ছবিতেও শিক্ষাব্যবস্থার একটি কঠিন দিক উন্মোচিত হয়েছে। দুই বন্ধু পুলিশের চাকরির এই পরীক্ষায় বসে। কারণ হাজার বছরের যন্ত্রণা অতিক্রম করে, আকণ্ঠ অভাব পেরিয়ে সাধারণ একটি জীবন বাঁচতে চায়। চোখ চেয়ে থাকে পুলিশি উর্দির দিকে, 'যেটা পরলেই ধর্ম ও বর্ণ সব গায়েব।' পরীক্ষার পর একবছর সময়কাল পেরলেও রেজাল্ট বেরয় না। সংসারে দারিদ্রের তাড়নায় শোয়েব একটা বেসরকারি অফিসের সেলস বিভাগে চাপরাশির একটি অস্থায়ী কাজে যোগ দেয়, আর সম্মুখীন হয় চরম ধর্মান্ধতার।
Published By: Biswadip DeyPosted: 05:10 PM Jul 21, 2026Updated: 05:51 PM Jul 21, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
