Advertisement
'সুদর্শন' তেজস্বী বাদ, জেন জিকে কাছে টানতে বিজেপির ভরসা 'রাষ্ট্রবাদী' গুজরাটি, চেনেন হেমাঙ্গকে?
তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, 'টেক স্যাভি' মানসিকতায় মুগ্ধ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বয়ং।
নিটের প্রশ্নফাঁস নিয়ে জেন জির আন্দোলন। এই একটা ঘটনাতেই নড়েচড়ে বসেছে দেশের রাজনৈতিক দলগুলি। বিজেপি-কংগ্রেস সকলেই চাইছে তরুণ প্রজন্মের মন পেতে। পদ্ম শিবিরের সাংগঠনিক রদবদলেও জেন জি ফ্যাক্টরকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেই মত বিশ্লেষকদের একাংশের। সেই তত্ত্ব আরও জোরালো করছে তেজস্বী সূর্যর 'অপসারণ'। তাঁর পরিবর্তে 'জেন জি'র দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গুজরাটের হেমাঙ্গ যোশীকে।
বেঙ্গালুরুর 'সুদর্শন' সাংসদ তেজস্বী এতদিন পর্যন্ত ছিলেন ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার জাতীয় সভাপতি। কিন্তু সোমবার ওই পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে তেজস্বী জানান, ১৪ বছর ধরে যুব মোর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জাতীয় সভাপতি হবেন সেটা ভাবতেও পারেননি। পদ হারালেও যুব মোর্চার সঙ্গে আজীবন যুক্ত থাকবেন, বার্তা তেজস্বীর।
যুব মোর্চার জাতীয় সভাপতির পদে আনা হয়েছে ভদোদরার সাংসদ হেমাঙ্গকে। ৩৩ বছর বয়সি হেমাঙ্গ ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে গুজরাটে বিজেপির কনিষ্ঠতম প্রার্থী ছিলেন। ফিজিওথেরাপি নিয়ে পড়াশোনা করা হেমাঙ্গ প্রথমবার নির্বাচনী ময়দানে নেমেই জিতে যান। ভবিষ্যতের সম্ভাবনা হিসাবে তাঁকে দেখতে শুরু করে গেরুয়া শিবির। গতবছর অপারেশন সিঁদুরের পর নানা দেশে গিয়েছিলেন সাংসদরা। একমাত্র গুজরাটি হিসাবে ওই দলে জায়গা পেয়েছিলেন হেমাঙ্গ।
অপারেশন সিঁদুরের পরই বিদ্যুৎগতিতে উত্থান এই গুজরাটি সাংসদের। গুজরাট বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি হন, তারপরেই বিশেষ বিনিয়োগের ইনচার্জ করা হয় হেমাঙ্গকে। তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, 'টেক স্যাভি' মানসিকতায় মুগ্ধ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বয়ং। হেমাঙ্গর নেতৃত্ব, ফিটনেস নিয়ে সচেতনতার মতো বিষয়গুলিও বিজেপি হাইকমান্ডের মনে ধরে। ধারাবাহিকভাবে ভালো কাজ করেও 'লো প্রোফাইল' ধরে রাখা হেমাঙ্গের উপরই ভরসা রাখল গেরুয়া শিবির।
'ককরোচ'দের প্রতিবাদের পর জেন জি বিজেপির প্রতি খানিকটা বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে মনে করছে বিশ্লেষকমহল। সেই হারানো আস্থা ফেরাতে হেমাঙ্গ বিজেপির তুরুপের তাস হতে পারেন। যথেষ্ট শিক্ষিত হেমাঙ্গ মাতৃভাষা গুজরাটির পাশাপাশি হিন্দি এবং ইংরাজিতেও যথেষ্ট স্বচ্ছন্দ। প্রযুক্তির ব্যবহারেও দক্ষ। নিজের লোকসভা কেন্দ্রে ডিজিটাল এমপি অফিস তৈরি করে হইচই ফেলে দিয়েছেন।
ছাত্রজীবনে 'সানেড়া' লিখে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন হেমাঙ্গ। গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী আনন্দীবেন প্যাটেল নিজে ওই গানের প্রচার করেছিলেন। 'মন কি বাতে' প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও হেমাঙ্গের গানের উল্লেখ করেন। গান লেখার পর থেকেই গুজরাটের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন হেমাঙ্গ। স্নাতকোত্তর পর্যন্ত পড়াশোনা করা হেমাঙ্গ রাজনীতির আঙ্গিনায় পা রাখেন ২০২২ সালে। মাত্র চার বছরের মধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেলেন তরুণ সাংসদ।
মৃদুভাষী হেমাঙ্গ এখনও পর্যন্ত বড়সড় কোনও বিতর্কে জড়াননি। তবে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তাঁর শিক্ষিত-পরিছন্ন ভাবমূর্তিতে ভর করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জনপ্রিয় বাড়বে বিজেপির, এমনটাই আশ করছে দল। মনে করা হচ্ছে, জেন জির মানসিকতা বুঝে, সোশাল মিডিয়ায় সক্রিয়তা বাড়িয়ে দলের ভিত মজবুত করবেন হেমাঙ্গ।
বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিতে সোশাল মিডিয়ার গুরুত্ব বাড়ছে। সোশাল মিডিয়ায় জন্মানো দলের অরাজনৈতিক কর্মসূচিতে সাড়া দিয়েছে মানুষ। এহেন পরিস্থিতিতে বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিজেপিকেও সোশাল মিডিয়ার কার্যকলাপ পর্যালোচনা করতে হবে, মনে করছিলেন বিশ্লেষকদের একাংশ। সেই ‘পরামর্শ’ সম্ভবত মাথায় রেখেছেন সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন। দলের সোশাল মিডিয়া বিভাগকে ঢেলে সাজিয়েছেন। তরুণ ব্রিগেডের দায়িত্ব হেমাঙ্গের হাতে তুলে দেওয়াটাও সেই পরিকল্পনার অংশ?
Published By: Anwesha AdhikaryPosted: 03:31 PM Aug 18, 2026Updated: 03:31 PM Aug 18, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
