Advertisement
ডাকাবুকো হয়েও বিনয়ী! সন্তানদের 'আদর্শ' হতে পারে ১৫ বছরের বৈভবের দর্শন, অভিভাবকরা শুনছেন?
ক্রিকেট প্রতিভা সবার থাকে না। তবে বৈভবের থেকে জীবনের পাঠ শিখতে পারে কিশোর-কিশোরীরা।
বৈভব সূর্যবংশী। নামটার সঙ্গে নতুন করে পরিচয় করানোর দরকার নেই। ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বত্র এখন একজনকে নিয়েই চর্চা। জশপ্রীত বুমরাহ হোক বা জশ হ্যাজেলউড, কারও বলকেই পাত্তা দিচ্ছে না ১৫ বছরের বিস্ময় প্রতিভা। ক্রিকেট না হলেও তার থেকে আজকের কিশোররা জীবনের পাঠ শিখতে পারে।
ক্রিকেট-পাগল এই দেশে প্রতি মরশুমের নতুন তারকার আবির্ভাব ঘটে। কিন্তু মাঝে মাঝে এমন কিছু নাম উঠে আসে, যা শুধু প্রতিভার জন্য নয়, বরং মানসিকতার জন্যও পরিচিত। বৈভব সূর্যবংশী এমনই একটি নাম। বয়স মাত্র ১৫। কিন্তু এখনই তরুণ প্রজন্মের কাছে 'আদর্শ' হয়ে উঠেছে বৈভব।
সদ্য রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ২৮ বলে ৭৬ রান করে রাজস্থান রয়্যালসকে ম্যাচ জিতিয়েছে। ১৫ বছর বয়সে ১৫ বলে হাফসেঞ্চুরি করে রেকর্ড গড়েছে। তার দ্যুতিতে ম্লান 'কিং' বিরাট কোহলিও। ‘কন্ডিশন’, পিচ, আবহাওয়া- সম্ভবত এগুলো ভেবে মাঠে নামে না ১৫ বছরের বিস্ময় প্রতিভা। তার দর্শন খুব সহজ। বল দেখো, মারো। সামনে কে আছে, কী বল করবে, অতো ভেবে লাভ নেই।
বিহারের ক্রিকেট মাঠ থেকে আইপিএলের মতো চাপের ম্যাচে তার সফল যাত্রা। জিতেছে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপও। বিষয়টা কিন্তু শুধু ক্রিকেট প্রতিভা বা গায়ের জোরের নয়। তার এই যাত্রা ছিল দ্রুত, নির্ভীক এবং সুস্পষ্ট পরিকল্পনার ফসল। যার প্রচুর উদাহরণ ছড়িয়ে আছে। যার প্রশংসা করছে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রাও।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ১৪ বলে ৩৯ রান করেছিল। প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়েছিল বৈভব। তারপর ভুবনেশ্বর কুমার বা জশ হ্যাজেলউডের প্রথম বলে চার মারে। ইরফান পাঠান যেমন বলেই দিচ্ছেন, বৈভব বেছে বেছে বড় বোলারদের টার্গেট করছে। অভিভাবকরা শিখতে পারেন, সন্তানদের কীভাবে এই বয়সেই সাহসী ও লড়াকু মানসিকতা তৈরি করা যায়।
কারণ বৈভব একদিনে আজকের তারকা হয়ে ওঠেনি। মাত্র ১২ বছর বয়সে বিহারের হয়ে রনজি ট্রফিতে অভিষেক করে এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হয়ে ওঠে। নিঃসন্দেহে 'সময়ের আগে' পরীক্ষার মুখে পড়েছে সে। তার জন্য প্রতিভা দরকার। কিন্তু সেই চাপ সামলানোর কোনও সঠিক বয়স হয় না। অনেকেই অপেক্ষা করে 'সঠিক' সময়ের। বৈভব ১৫ বছর বয়সেই দেখিয়েছে, 'সঠিক' সময় নয়, 'সঠিক' মানসিকতা দরকার। প্রতীকী ছবি
অবশ্যই তার উপর প্রত্যাশার চাপ রয়েছে। প্রতি ম্যাচে তা আরও বাড়ছে। সাফল্যের শিখরে ওঠা যায়, কিন্তু সেখানে টিকে থাকা মুশকিল। বৈভব কিন্তু একেবারেই চাপে থাকে না। এটা যেমন তার পরিবারের কৃতিত্ব, তেমনই রাজস্থান রয়্যালস কর্তৃপক্ষও তাকে সেই জায়গা দিয়েছে। সব সময় হাসিখুশি থাকে। এতো বড় তারকা হয়েও ভিতরের 'বাচ্চামি' ছাড়েনি সে।
দু'টো গল্প বলা যাক। ম্যাচ জেতানো ইনিংসের পর বৈভব সকলকে আশ্বস্ত করে শুক্রবার রাতে বলে গেল, “সবাই আমাকে বারবার বলে এই সফরটা অনেকটা লম্বা। আমার ফোকাস শুধুমাত্র খেলাতেই। অন্য কিছুতেই নয়।” এই বয়সে এত সাফল্য, এত বৈভব, মাথা ঘুরে যাবে না তো? এ আশঙ্কা গোটা দেশের ক্রিকেট মহলের। সেটা কিন্তু উড়িয়ে দিল বৈভব। অর্থাৎ মাটিতে পা রেখে চলতেই ভালোবাসে।
আরেকটা গল্প বেশ কিছুটা আগের। যা নিয়ে বিহার দলে তার একসময়ের সতীর্থ আদিত্য ঠাকুর বলেন, "বৈভব সকালে তিন ঘণ্টা, রাতে তিন ঘণ্টা অনুশীলন করত। একবার মাথায় বল লেগে পড়ে গিয়েছিল। পাটনায় তার এমআরআই করা হয়। তারপরই ও ডাক্তারকে বলে, 'স্যর, কাল থেকে ক্রিকেট খেলতে পারব তো?' প্রতীকী ছবি
Published By: Arpan DasPosted: 07:56 PM Apr 11, 2026Updated: 07:56 PM Apr 11, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
