Advertisement
ক্রিকেটে ভারতকে বয়কট, ঋণ পেতে 'ভারতীয়'রই পদলেহন! শাহবাজের ডিগবাজিতে হাসছে পাকিস্তান
কূটনৈতিক মহল মনে করছে, পাকিস্তানের হাবভাব ক্রমেই দ্বিচারিতার সমার্থক হয়ে উঠছে।
পাকিস্তান যেন দ্বিচারিতার সমার্থক। একদিকে তারা ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের ডাক দিচ্ছে, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে সই করা চুক্তির উপর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছে। সেটার জন্য ভারতবিদ্বেষ একেবারে ভুলে গিয়ে বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রধানকে কার্যত তৈলমর্দন করছে পাকিস্তান।
ম্যাচ বয়কটের পরেই সম্প্রতি পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। বৈঠক করেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং অর্থমন্ত্রী মহম্মদ ঔরঙ্গজেবের সঙ্গে। তবে কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, বাঙ্গার এই সফরের সরকারি গুরুত্ব সেরকম ছিল না। কিন্তু তাঁকে ঘিরে পাক সরকার যেভাবে মাতামাতি করেছে, তাতেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাঙ্গার সফর।
পাকিস্তানে গিয়ে নিজের পিতৃপুরুষের ভিটে ঘুরে দেখেন বাঙ্গা। স্বাধীনতার সময় পাকিস্তানের খুশাব ছেড়ে ভারতে পালিয়ে এসেছিলেন তাঁর বাবা হরভজন সিং বাঙ্গা। তবে বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রধানের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা ভারতে। পাকিস্তানে তাঁর পূর্বপুরুষের ভিটের বেশ কিছু নথি প্রতীকীভাবে বাঙ্গার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রধান যখন পিতৃপুরুষের ভিটে পরিদর্শনে যাচ্ছেন, রীতিমতো শোভাযাত্রার আয়োজন করেছিল পাক প্রশাসন। ব্যান্ড পার্টিতে বাজানো হচ্ছিল 'মেরা পিয়া ঘর আয়া' গান। বাঙ্গার ছবি দেওয়া ব্যানারে ঢেকে দেওয়া হয় গোটা পথ। একেবারে রাজকীয় মেজাজে অভ্যর্থনা জানানো হয় বাঙ্গাকে।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত বাঙ্গাকে কার্যত নিজের ঘরের ছেলে হিসাবে তুলে ধরতে চেয়েছে শাহবাজ সরকার, জাঁকজমকের বহর দেখে এমনটাই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। সেকারণেই রাজকীয় অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে তাঁকে। কারণ বর্তমানে পাকিস্তানের যা দশা তাতে বিশ্ব ব্যাঙ্কের নেকনজরে থাকাটা ইসলামাবাদের পক্ষে খুবই জরুরি।
কিন্তু এত আয়োজন কেন? আসলে গত বেশ কয়েকবছর ধরে দেনায় ডুবে পাকিস্তান। বিশ্ব ব্যাঙ্ক এবং আইএমএফের থেকে পাওয়া ঋণের উপরই টিকে রয়েছে শাহবাজের দেশ। আরও বেশি পরিমাণে ঋণ পেতে সর্বদাই সচেষ্ট থাকে পাকিস্তান, সেকারণেই বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রধানকে তুষ্ট করতে চাইছেন শাহবাজ, মনে করছে পাক প্রশাসনের একাংশই। বাঙ্গার 'গুড বুকে' থাকলে ঋণের শর্ত কিছুটা সহজ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছে পাক প্রশাসন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্রেফ দেনা নয়। এবার বাঙ্গাকে ঘিরে রাজকীয় আয়োজনের নেপথ্যে রয়েছে আরও গুরুতর একটি বিষয়-সিন্ধু জল চুক্তি। সিন্ধুর জলবন্টন নিয়ে ১৯৬০ সালে এই চুক্তি সেরেছিল নয়াদিল্লি-ইসলামাবাদ। কিন্তু অপারেশন সিঁদুরের পর এই চুক্তি স্থগিত করে দিয়েছে ভারত। তারপর থেকে বহু চেষ্টা করেও এই জট কাটাতে পারেনি পাকিস্তান।
এই চুক্তির ফলে দীর্ঘদিন ধরে সিন্ধুর জলের যে অংশ পেত পাকিস্তান, সেই জলেই দেশের ৮০ শতাংশ কৃষিকাজ হতো। কৃষির উপর অনেকখানি নির্ভর করে পাক অর্থনীতি। কিন্তু প্রায় একবছর ধরে চুক্তি স্থগিত থাকায় কার্যত শুকিয়ে মরছে পাকিস্তান। এখন তারা চাইছে চুক্তির উপর চাপানো স্থগিতাদেশ সরে যাক। বাঙ্গাকে তুষ্ট করতে শাহবাজের প্রাণপাতের নেপথ্যে এই চুক্তিও অন্যতম প্রধান কারণ।
আসলে সিন্ধু জলচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায়। তবে বাঙ্গা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, এই চুক্তি নিয়ে বিশ্ব ব্যাঙ্কের কোনও বক্তব্য নেই। তবুও পাক আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে বাঙ্গা সিদ্ধান্ত বদল করবেন, চুক্তি নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করবেন, সেই আশায় থাকতেই পারে পাকিস্তান।
Published By: Anwesha AdhikaryPosted: 04:47 PM Feb 06, 2026Updated: 04:47 PM Feb 06, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
