Advertisement
কনকনে ঠান্ডায় স্নানে অনীহা? 'রোজ দরকার নেই, কিন্তু...', কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
ঠান্ডার ভয়ে অনেকেই স্নান করতে চান না। বড়রা বলেন স্নান না করলে শরীর অশুদ্ধ হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্নানের সঙ্গে শুদ্ধিকরণের সম্পর্ক যতটা না শারীরিক, তার চাইতেও বেশি মানসিক।
শীত মানেই গরম জামাকাপড় আর আলস্য। ঠান্ডার ভয়ে অনেকেই রোজ স্নান করতে চান না। বাড়ি থেকে বড়রা বলেন স্নান না করলে শরীর অশুদ্ধ হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্নানের সঙ্গে শুদ্ধিকরণের সম্পর্ক যতটা শারীরিক, তার চেয়ে বেশি মানসিক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজ স্নান করার কোনও কঠোর বাধ্যবাধকতা নেই। বিজ্ঞানের নিরিখে শরীর রোজ ধুয়েমুছে সাফ করার বিশেষ প্রয়োজন পড়ে না। আমাদের ত্বক নিজেই নিজেকে পরিষ্কার রাখতে সক্ষম।
আমাদের ত্বকের উপরিভাগে এক ধরনের প্রাকৃতিক তেল বা 'সিবাম' থাকে। এটি ত্বককে বাইরের ধুলোবালি ও সংক্রমণ থেকে বাঁচায়। রোজ সাবান দিয়ে স্নান করলে এই প্রতিরক্ষামূলক স্তরটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে ত্বক রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে।
ত্বকের প্রথম স্তরে অনেক উপকারী ব্যাকটেরিয়া ও 'মাইক্রোবস' থাকে। এগুলি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। অতিরিক্ত স্নানে এই উপকারী অণুজীবগুলি ধুয়ে যায়। এতে ত্বকের নিজস্ব বাস্তুতন্ত্র বা মাইক্রোবায়োম বিঘ্নিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে।
শীতকালে বাতাস এমনিতেই শুষ্ক থাকে। এই সময়ে রোজ গরম জলে স্নান করলে ত্বকের আর্দ্রতা দ্রুত হারিয়ে যায়। ফলে ত্বকে চুলকানি, জ্বালা বা একজিমার মতো চর্মরোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। যাঁদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাঁদের জন্য অতিরিক্ত স্নান ক্ষতিকারক।
২০১৮ সালের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে ত্বকের পরিবেশগত পরিবর্তন হলেও এর মাইক্রোবায়োম স্থির থাকে। অর্থাৎ, একদিন বা দু’দিন স্নান না করলে ত্বকের স্বাস্থ্যের বিশেষ কোনও অবনতি ঘটে না।
রোজ স্নান করা প্রয়োজন কি না, তা নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশের ওপর। যদি আপনি খুব ঘামেন বা ধুলোবালির কাজ করেন, তবেই স্নান জরুরি। নতুবা শীতে মাঝেমধ্যে বিরতি নেওয়া যেতেই পারে।
ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে আমরা খুব গরম জলে স্নান করি। এই উচ্চ তাপমাত্রার জল ত্বকের কেরাটিন কোষগুলিকে নষ্ট করে দেয়। ফলে চামড়া কুঁচকে যাওয়া বা অকাল বার্ধক্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ঈষদুষ্ণ জলই শ্রেয়।
প্রতিদিন সম্পূর্ণ স্নান না করলেও শরীরের কিছু বিশেষ অংশ পরিষ্কার রাখা জরুরি। মুখ, বগল এবং ব্যক্তিগত অঙ্গগুলি নিয়মিত সাফ করা উচিত। কারণ এখানে ঘাম ও ব্যাকটেরিয়া জমার প্রবণতা বেশি থাকে। এতে পরিচ্ছন্নতাও বজায় থাকে।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 07:45 PM Jan 13, 2026Updated: 07:45 PM Jan 13, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
