সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ১৯ বছর পর মিলল সাফল্য। গোধরা কাণ্ডের (Godhra Case) অন্যতম মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল গুজরাট পুলিশ। নাম রফিক হুসেন ভাটুক। গ্রেপ্তারি এড়াতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গা-ঢাকা দিয়ে থাকছিল সে। অবশেষে নিজের এলাকায় ফিরতেই তাকে হাতেনাতে পাকড়াও করল গুজরাট পুলিশ (Gujarat Police)।
গ্রেপ্তারি এড়াতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে গা-ঢাকা দিত সে। গুজরাটে নিজের সম্পত্তি, রিকশা সমস্ত কুিছু বিক্রি করে দিয়েছিল সে। দিল্লিতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করত। গ্রেপ্তারির সম্ভাবনা তৈরি হলেই সে ফের পালিয়ে আসত গুজরাটে। শেষ কিছুদিন ধরে গুজরাটের সুলতান ফালিয়ায় থাকছিল সে। ফল বিক্রি করে দিন গুজরান করত। গোপন সূত্রে সেই খবর পৌঁছে গিয়েছিল পুলিশের কাছে। তার পরই রফিককে গ্রেপ্তারির জাল বেছায় তারা। অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করে গুজরাট পুলিশ।
[আরও পড়ুন : পুলওয়ামায় হামলা হতে পারে, সতর্কবার্তা সত্ত্বেও শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন মোদি, খোঁচা রাহুলের]
২০০২ সালে গোধরা স্টেশনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় যাত্রিবাহী সবরমতী এক্সপ্রেস ট্রেনে৷ তদন্তে প্রকাশ হয়, পেট্রল ঢেলে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় সবরমতী এক্সপ্রেসের এস-সিক্স কোচ৷ কোচের মধ্যে জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ৫৯ জন যাত্রীর৷ নিহতদের সিংহভাগই ছিল করসেবক৷ মৃতদের মধ্যে বহু মহিলা এবং শিশুও ছিল৷ অভিযোগের তির ওঠে ফারুক বান্নার দিকে৷ এই ঘটনার পরই সারা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা৷ তাতে মৃত্যু হয় এক হাজার ১০০ জনের৷ ২০১১ সালে বিশেষ আদালত দোষী সাব্যস্ত করে ৩১ জনকে৷ ১১ জনকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয় এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় ২০ জনকে৷ বান্না ছাড়াও এখনও পলাতক পাঁচ জন৷ প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস হয় ৬৩ জন৷
এর মধ্যে অভিযুক্ত ফারুক বান্না গ্রেপ্তার হয় ২০১৪ সালে। এবার ২০২১-এ পুলিশের জালে ধরা পড়ল রফিক হুসেন ভাটুক। তবে এখনও তিনজন পলাতক। তাদের মধ্যে সেলিম পানওয়ালা, সওকত চরখা পাকিস্তানে পালিয়ে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস জারি করা হয়েছে।