এমন বন্ধু আর কে আছে, যে বিপদে আপদে আনন্দে যে কোনও সময় আগাম খবর না দিয়েই এসে দাঁড়াতে পারে আপনার জীবনে! যার সঙ্গে সম্পর্ক এতটাই সহজ যে নিয়মিত ‘ক্যাচ আপ’ করার দরকার পড়ে না! নির্দ্বিধায় এমন বিশ্বাস রাখা যায় যে, রোজ রোজ কথা না হলেও বন্ধু পাশে আছে।
‘ডোরবেল ফ্রেন্ড’ আপনার ব্যস্ত জীবনের বন্ধ দরজায় আচমকা কড়া নাড়তে পারে
শুনে ভাবতেই পারেন যে এ আর এমন আহামরি কি? কিন্তু একটু ভেবে দেখলেই বোঝা যায়, রোজের ব্যস্ত জীবনে নিঃস্বার্থ বন্ধু মেলা সত্যিই মুখের কথা নয়। জীবনের কোনও পর্যায়ে যদি বন্ধু জুটেও থাকে, একটা সময়ের পর ছেড়ে যায় সবাই। কারণ সংসার হোক বা কর্মক্ষেত্র, সময়ের সঙ্গে ব্যস্ততা বাড়ে। আপনি হয়তো বাড়ি-বাইরে সামাল দিয়ে হিমশিম। বন্ধুর খোঁজ নেওয়ার মতো সামান্য সময়টুকুও বের করতে পারছেন না, ওদিকে বন্ধুটি ভেবে বসল, এ তার প্রতি আপনার আগ্রহহীনতা বই আর কিছু না। আপনার মনেও দানা বাঁধছে অভিমান, এতদিনের বন্ধু এটুকু ব্যস্ততা বুঝবে না? আর তা থেকেই দূরত্ব তৈরি হয়।
ফ্রেন্ডশিপ এক্সপার্ট ম্যাট রিটার তাই চালু করেছেন ‘ডোরবেল ফ্রেন্ড’ (doorbell friend) শব্দটি। কারা এই ধরনের বন্ধু? যারা আপনার শশব্যস্ত জীবনের বন্ধ দরজায় আচমকা কড়া নাড়তে পারে। যারা আপনাকে বোঝে, আগ বাড়িয়ে বোঝাতে হয় না। তারা জানে, আপনি ব্যস্ত। জানে, আপনি চেয়েও রোজকার আপডেট দিতে অথবা নিতে পারছেন না। উলটে উদ্বেগ-ডিপ্রেশনের মতো মানসিক সমস্যার শিকার হয়ে, দরজা বন্ধ করে দিচ্ছেন প্রিয়জনদের মুখের ওপর। আসলে দূরত্ব নয়, আপনি চান, কেউ এই অবস্থা বুঝুক। জোর করেই আপনাকে শামিল করুক স্বাভাবিক সামাজিকতায়।
আপনার ‘ডোরবেল ফ্রেন্ড’ কোনও কিছুর তোয়াক্কা করে না। আপনার বিরক্তির আড়ালে লুকিয়ে থাকা কাতর আকুতি সে বোঝে। তাই হঠাৎ করেই একদিন কল করে, অথবা সোজা চলে আসে দেখা করতে। আর তারপর এমনভাবে সুখ-দুঃখের কথা বলেন আপনারা, যেন কোনওদিন দূরেই যাননি একে অন্যের থেকে!
আসলে দূরত্ব নয়, আপনি চান, কেউ এই অবস্থা বুঝুক। জোর করেই শামিল করুক সামাজিকতায়।
যার জীবনে এমন বন্ধু রয়েছে, তার থেকে সৌভাগ্যবান মানুষ সত্যিই আর কেউ নেই। আপনার জীবনে এমন কোনও মানুষ রয়েছে কিনা, তা তো ভেবে দেখবেনই। পাশাপাশি আপনিও চেষ্টা করেই দেখুন না, যদি অপরদিকের কোনও মানুষের জীবনে হয়ে উঠতে পারেন ‘ডোরবেল ফ্রেন্ড’। ভুললে চলে না, শীতলতা ভেঙে বন্ধ দরজায় কড়া নাড়তে পারার সাহসই বাঁচিয়ে নিতে পারে বহু সম্পর্ক।
