আপনার প্রেমিকা কি আপনার প্রতি আগ্রহ হারিয়েছে? সম্পর্কটিতে আর সে আগ্রহী নয়? ব্রেক-আপ করতে চায়, কিন্তু বলতে পারছে না মুখ ফুটে (Is Your Girlfriend Trying to Break Up?) কী করে বুঝবেন?
প্রতিটি সম্পর্কেই উত্থান-পতন থাকে। ব্যস্ততা, মানসিক চাপ বা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে কখনও কখনও সম্পর্কে থাকা একজন অন্যজনকে আগের মতো সময় দিতে পারে না। কিন্তু যদি দীর্ঘ সময় ধরেই সঙ্গিনীর সম্বন্ধে এমন প্রশ্ন জাগে মনে, তবে খতিয়ে দেখা দরকার।
আপনার সারাদিন কেমন কাটল, তা শুনতে সে কি আগ্রহী নয়?
১. সঙ্গিনী কি আর আগের মতো ফোন-মেসেজ করে না? প্রসঙ্গ উঠলে, নানান রকম ব্যস্ততার কথা বলে। কথোপকথন দ্রুত শেষ করে দিতে চায়।
২. দেখা করার প্ল্যান নানা অজুহাতে বাতিল করে। এক্ষেত্রে খেয়াল করতে হবে যে, সে সত্যিই ব্যস্ত হয়ে পড়েনি তো? হয়তো কেরিয়ারের চাপ তাকে সামাজিকভাবে একা করে তুলছে। ভুলে গেলে চলবে না, এমন লক্ষণ যাচাইয়ের অর্থ অকারণে সন্দেহ করা নয়।
৩. ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা এড়িয়ে যায় সঙ্গিনী। দীর্ঘমেয়াদি কোনও পরিকল্পনার প্রসঙ্গ উঠলেই যেনতেনপ্রকারেণ কথা বদলে ফেলে।
৪. ছোট বিষয়েই বিরক্ত হয়ে যায় আজকাল। হাসির কথাতে আগের মতো হাসে না। নিজেও যেচে কোনও মজার ঘটনা ভাগ করে নেয় না আপনার সঙ্গে।
৫. আপনার সারাদিন কেমনভাবে কাটছে, তা জানতে আর সে আগ্রহী নয়। কোনও বিষয় যদি নিজের থেকেও জানতে চায়, তবুও তার উত্তর শোনার মতো অপেক্ষা করে না। আপনার সমস্যার কথাতেও দু-এক শব্দে উত্তর দিয়ে এড়িয়ে যায়।
৬. একসঙ্গে সময় কাটানোর চেয়ে একা থাকতে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করে সঙ্গিনীটি। অথবা ঘন ঘন বন্ধুদের সঙ্গে মিট-আপের প্ল্যান করলেও আপনাকে সেসবের অংশ করতে চায় না। ‘মি টাইম’ সকলেরই দরকার, কিন্তু সে কি আপনার প্রতি সামগ্রিকভাবেই অনাগ্রহী?
৭. সে আর আগের মতো ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখায় না। হাত ধরে না, প্রশংসা করে না। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কথাও আর বলে না আপনাকে। এমনকী ঝগড়া মেটানর চেষ্টাও করে না।
সরাসরি কথা বলুন সঙ্গিনীর সাথে, এর কোনও বিকল্প নেই।
কী করবেন এমন অবস্থায়?
কেবল প্রেমিকা নয়, সম্পর্কে থাকা যে কারও দিক থেকেই এমন নিঃস্পৃহতা লক্ষ করা যেতে পারে। মনোবিদরা বলেন, সবার প্রথম প্রশ্নটি নিজেকে করতে হবে— এমন নয় তো যে আপনারই কোনও আচরণ দূরত্ব তৈরি করেছে সম্পর্কে? আবার এমনও হতে পারে যে ব্রেক-আপ করতে চাওয়ার কারণটি সঙ্গিনীর দিক থেকেই।
কারণ যাই হোক, শান্তভাবে, দোষারোপ না করে, খোলামেলা আলোচনা করা। নিজের অনুভূতির কথা বলুন এবং তাঁর কথাও মন দিয়ে শুনুন। অনেক ভুল বোঝাবুঝি শুধুমাত্র কথোপকথনের মাধ্যমেই দূর করা সম্ভব।
