shono
Advertisement
Bharat Sevashram Sangha

১০০১ প্রদীপ আর ১৩১ ধুনুচিতে কালনাগিনী বন্দনা, রাজকীয় গঙ্গা আরতির সাক্ষী দক্ষিণ ২৪ পরগণা

বেনারস, দক্ষিণেশ্বর, বেলুড় মঠ ও ওঙ্কার মঠ থেকে আগত বিশিষ্ট পুরোহিতরা এই আরতি সম্পন্ন করেন।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 01:13 PM Jan 19, 2026Updated: 02:09 PM Jan 19, 2026

দক্ষিণ ২৪ পরগণার ঢোলাহাট এখন যেন এক টুকরো বেনারস। কালনাগিনী নদীর তীরে মকর সংক্রান্তির পুণ্যলগ্নে অনুষ্ঠিত হল রাজকীয় গঙ্গা আরতি। ঢোলাহাট থানার বাঁশতলা নদী ঘাটে শ্রীশ্রী প্রণব সংস্কৃতি মেলা ও গঙ্গা আরতিকে কেন্দ্র করে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। মন্মথপুর প্রণব মন্দিরের এই উদ্যোগে নদীর দুই পাড়ে তখন জনজোয়ার।

Advertisement

গঙ্গাসাগর মেলার আবহে এই আয়োজনের বিশেষত্ব ছিল এর বিশালতা। ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজের ১৩১তম জন্মবর্ষ উপলক্ষে এই বিশেষ আয়োজন। আরতির দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। ১০০১টি প্রদীপ, ১৩১টি ধুনুচি এবং ১৩১টি মশাল হাতে নিয়ে মায়েরা যখন সমবেত আরতি শুরু করলেন, তখন গোটা নদীতীর আলোয় ঝলমলিয়ে ওঠে। মন্ত্রোচ্চারণ, শঙ্খধ্বনি আর ধুনোর গন্ধে তৈরি হয় এক মায়াবী আধ্যাত্মিক পরিবেশ।

বেনারস, দক্ষিণেশ্বর, বেলুড় মঠ ও ওঙ্কার মঠ থেকে আগত বিশিষ্ট পুরোহিতরা এই আরতি সম্পন্ন করেন। বেনারস বা হরিদ্বারের গঙ্গা আরতির সেই চেনা আভিজাত্য এবার ধরা দিল কালনাগিনীর বুকে। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, "বাড়ির কাছেই এমন দৃশ্য দেখতে পাব ভাবিনি। মনে হচ্ছিল গঙ্গার ঘাটেই দাঁড়িয়ে আছি।"

ধর্মীয় আচার ছাড়াও চার দিনব্যাপী এই উৎসবে ছিল সংস্কৃতির ছোঁয়া। ভজন, কীর্তন ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মূর্ছনায় মেতে ওঠেন ভক্তরা। আয়োজকদের দাবি, এই উৎসব কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন। স্বেচ্ছাসেবী ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় মেলা প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ছিল আঁটোসাঁটো। ভক্তদের ভিড় আর ভক্তি মিলেমিশে কালনাগিনী নদী যেন এক নতুন প্রাণ ফিরে পেল। আগামী বছর এই আয়োজন আরও বড় করার শপথ নিয়ে শেষ হল এবারের শ্রীশ্রী প্রণব সংস্কৃতি মেলা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement