বসন্ত আগমনে প্রকৃতি যখন নবসাজে সেজে ওঠে, ঠিক তখনই শুরু হয় মহাশক্তির আরাধনা। শাস্ত্র মতে, চৈত্র নবরাত্রি হল দেবী দুর্গার নয়টি রূপের আরাধনার এক মহেন্দ্রক্ষণ। ১৯ মার্চ শুরু হয়েছে এই উৎসব। চলবে ২৭ মার্চ পর্যন্ত। শাস্ত্রে, নবরাত্রির প্রতিটি দিনের ভিন্ন গুরুত্ব রয়েছে। শুধু ভক্তি ভরে পুজো করলেই হয় না, পুজোর উপচারে সামান্য ভুলভ্রান্তি হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। বিশেষ করে দেবীর প্রিয় এবং অপ্রিয় বস্তু সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা এই পুজোয় একান্ত প্রয়োজন।
পুরাণ অনুসারে, দেবী আদ্যাশক্তি অত্যন্ত স্নেহময়ী হলেও তাঁর পুজোয় শুদ্ধাচার পালন করা আবশ্যিক। চলতি বছর চৈত্র নবরাত্রির পূর্ণ তিথি উদযাপিত হচ্ছে রাম নবমীর পুণ্যলগ্নে। গৃহস্থের মঙ্গল কামনায় অনেকেই এই নয় দিন ব্রত পালন করেন। কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন, সব ফল বা ফুল দেবীর চরণে অর্পণ করা যায় না। যেমন, নবরাত্রির দিনগুলিতে দেবীকে ভুলেও নাশপাতি, শুকনো নারকেল বা আতা অর্পণ করবেন না। আনারস বা ডুমুর জাতীয় ফলও এই সময়ে বর্জনীয়। এছাড়া লেবু বা তেঁতুলের মতো অত্যধিক টক জাতীয় ফল দেবীর পুজোয় অশুভ বলে গণ্য করা হয়। সবসময় মনে রাখবেন, পাখি খাওয়া বা পোকা ধরা ফল অর্পণ করা শাস্ত্রবিরুদ্ধ।
ছবি: সংগৃহীত
পুষ্পাঞ্জলির ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ বিধিনিষেধ। শাস্ত্র অনুযায়ী, কেতকী, করবী এবং ধুতরা ফুল দেবী দুর্গার পুজোয় নিষিদ্ধ। তুলসী পাতা সাধারণত নারায়ণের প্রিয় হলেও দেবী দুর্গার আরাধনায় তা ব্যবহার না করাই শ্রেয়। এর পাশাপাশি নাগেশ্বর বা আকন্দ ফুল দিয়েও পুজো করবেন না। বাসি বা শুকিয়ে যাওয়া ফুল অর্পণ করলে গৃহস্থের অমঙ্গল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পরিবর্তে রক্তজবা বা যেকোনও সতেজ লাল ফুল দেবীর অত্যন্ত প্রিয়।
ভোগ নিবেদনের ক্ষেত্রেও শুচিতা বজায় রাখা জরুরি। দেবীর অন্ন বা অন্য কোনও ভোগ রান্নার সময় ভুলেও পেঁয়াজ বা রসুন ব্যবহার করবেন না। আমিষ তো বটেই, এমনকী সাধারণ লবন যুক্ত খাবারও পুজোর ভোগে দেওয়া অনুচিত। ভোগের রান্নায় সৈন্ধব লবন ব্যবহারের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। রান্নার জন্য তামা, পিতল বা মাটির বাসন ব্যবহার করা সবচেয়ে প্রশস্ত। কাচ বা প্লাস্টিকের পাত্রে কখনওই দেবীকে নৈবেদ্য দেবেন না। ভক্তি এবং সঠিক নিয়ম নিষ্ঠাই হল শক্তি আরাধনার আসল মন্ত্র। এই নিয়মগুলি মেনে চললে দেবী দুর্গার আশীর্বাদে জীবন সুখ ও শান্তিতে ভরে উঠবে।
