তন্ত্রশাস্ত্রে দশ মহাবিদ্যার গুরুত্ব অপরিসীম। এই দশ দেবীর অন্যতম হলেন মা বগলামুখী। ভক্তদের বিশ্বাস, তিনি অত্যন্ত জাগ্রত। ভক্তিভরে ডাকলে চোখের পলকে ভাগ্য বদলে দিতে পারেন দেবী। উত্তর ভারতে তিনি 'পীতাম্বরী' নামেও পরিচিত। সম্প্রতি সংক্রান্তির পুণ্য তিথিতে কালীঘাটে বগলামুখী মন্দিরের উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর থেকেই এই দেবীর মাহাত্ম্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল বেড়েছে।
পুরাণ মতে, সত্যযুগে একবার ব্রহ্মাণ্ডে প্রলয়ংকরী ঝড় উঠেছিল। সৃষ্টির বিনাশ রুখতে সব দেবতারা যখন ব্যাকুল, তখনই হরিদ্রা সরোবর থেকে আবির্ভূত হন দেবী বগলামুখী। তাঁর তেজে প্রশমিত হয় সেই ঝড়। মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া এলাকায় সেই পবিত্র হরিদ্রা সরোবর আজও বিদ্যমান। দেবীর প্রধান অস্ত্র মুগুর। তিনি ভক্তের ভ্রান্ত বুদ্ধি ও শত্রুর অশুভ শক্তি বিনাশের প্রতীক।
কেন তিনি পীতাম্বরী?
বগলামুখী দেবীর প্রিয় রং হলুদ। তাঁর গায়ের রং সোনালি। পরনের শাড়ি থেকে শুরু করে বসার আসন— সবই পীতবর্ণ বা হলুদ। এমনকী পুজোর উপকরণেও হলুদের ছোঁয়া থাকা জরুরি। জ্যোতিষশাস্ত্রেও বৃহস্পতি গ্রহের দোষ কাটাতে দেবীর আরাধনার নিদান দেওয়া হয়।
পুজো ও জয়ন্তী
প্রতি বছর বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে বগলামুখী জয়ন্তী পালিত হয়। চলতি বছর ২৪ এপ্রিল এই তিথি পালিত হবে। শাস্ত্র মতে, অষ্টমী তিথি শুরু ২৩ এপ্রিল রাত্রি ৮টা ৪৯ মিনিটে। শেষ হবে ২৪ এপ্রিল রাত্রি ৭টা ২১ মিনিটে। এ দিন হলুদ পোশাক পরে, হলুদ আসনে বসে দেবীর আরাধনা করলে সুফল মেলে।
সিদ্ধিলাভের উপায়
তন্ত্র মতে, আদালতে মামলা জেতা বা শত্রু দমনে দেবীর গুরুত্ব অপরিসীম। জয়ন্তীর দিন হলুদ বর্ণ ফুলের মালা অর্পণ করে বিশেষ মন্ত্র (Goddess Baglamukhi Mantra) জপ করলে মনস্কামনা পূরণ হয়। 'ওম বগলামুখী দেব্যায় হ্লীন ক্লীন শত্রু নাশম কুরু'— এই মন্ত্রটি জপ করলে জীবনের বাধা-বিপত্তি দূর হয় দ্রুত। হলুদ ফুল ও ফল নিবেদন করলে তুষ্ট হন মা। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, দেবীর আশীর্বাদে অসম্ভবও সম্ভব হতে পারে।
