বাগদেবী বিদ্যার দেবী। বেশিরভাগ গৃহস্থ বাড়িতে দেবী সরস্বতীর আরাধনা হয়। ফুল, ফল দিয়ে দেবীর আরাধনা করেন অনেকেই। পুজো করলে সুফল মিলবে বলেই আশা। তবে শুধু আরাধনা করলেই হবে না। কোথায় দেবীকে রেখে পুজো করছেন তার উপরেও নির্ভর করে পুজোর অনেক কিছু। তাই বাগদেবীর আরাধনার আগে জেনে নিন কোথায় রাখবেন বিগ্রহ। কেমন ভঙ্গিমার দেবী আরাধনা করা উচিত, তাও জেনে নেওয়া যাক।
- বাড়ির উত্তর এবং উত্তর-পূর্ব দিকে রাখতে পারেন। কারণ, ওই দু'দিক জ্ঞান এবং ইতিবাচক শক্তির আধার হিসাবে বিবেচিত হয়। তাই ওই কোণে সরস্বতীর মূর্তি কিংবা ছবি স্থাপন অত্যন্ত শুভ। শিশুর ভবিষ্যতের কথা ভেবে এই দুই কোণে বিগ্রহ স্থাপন করুন।
- দেবী মূর্তি কিংবা ছবি নিচু স্থানে রাখবেন না। মাটি থেকে কিছু উঁচুতে রাখতে হবে। বাড়িতে কখনই দাঁড়ানো ভঙ্গিতে সরস্বতী বিগ্রহ পুজো করবেন না।
ছবি: সংগৃহীত
- অবশ্যই পদ্মফুলের উপর বসে থাকা সরস্বতীর মূর্তি কিংবা ছবি বেছে নিন। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, সরস্বতীর মৃন্ময়ী রূপ যেন শান্ত ও স্নিগ্ধ হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
- কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সরস্বতী মূর্তি কিংবা ছবি বাড়িতে রাখবেন না। তাতে বাড়িতে নেতিবাচক শক্তির ছায়া পড়তে পারে।
- বিগ্রহের সামনে বই, কলম, ডায়েরি কিংবা বাদ্যযন্ত্র রাখতে পারেন। তা অত্যন্ত শুভ।
- পুজোর আগে অবশ্যই জায়গাটি পরিষ্কার করে নিতে হবে।
- দেবী সরস্বতীকে সাদা কিংবা হলুদ ফুল অর্পণ করুন।
ছবি: সংগৃহীত
এই দিনটি কেবল পুজোর দিন নয়, বরং ঋতুরাজ বসন্তের শুভাগমন বার্তা। বসন্ত পঞ্চমী থেকেই প্রকৃতির রূপ বদলাতে শুরু করে। মনে করা হয়, এই দিনেই দেবী সরস্বতীর আবির্ভাব ঘটেছিল। তাই বাগদেবীর পাশাপাশি এদিন গণেশ, লক্ষ্মী ও বাদ্যযন্ত্রেরও পুজো করা হয়। এদিন থেকেই শীতের প্রকোপ কমে বসন্তের হালকা হাওয়ার ছোঁয়া লাগে। বাঙালির লোকসংস্কৃতিতে এদিন কুল খাওয়ার রীতিটিও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কুলের অম্লতা যাতে শরীরে রোগ না ঘটায়, তাই পুজোর আগে কুল না খাওয়ার ধর্মীয় বিধান আসলে স্বাস্থ্য সচেতনতারই নামান্তর। সব মিলিয়ে ভক্তি, সংস্কৃতি আর নতুনের আবাহনে ২০২৬-এর বসন্ত পঞ্চমী হতে চলেছে অনন্য।
ছবি: সংগৃহীত
