সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দেবাদিব মহাদেবের সহচর। যেখানে মহেশ্বর, সেখানেই নন্দী। সে কৈলাসের দ্বাররক্ষীও বটে! আজ পৃথিবীর যে প্রান্তে মহাদেবের মন্দির রয়েছে, সেখানেই দেখা যায় ভগবান শিবের সামনে হাঁটু মুড়ে বসে রয়েছে নন্দী। কিন্তু কেন?
হিন্দুশাস্ত্র মতে, নন্দী মহাদেবের থেকে আশীর্বাদ পেয়েছিলেন, তিনি সব সময় মহাদেবের সঙ্গে থাকবেন। শিবের মূর্তি স্থাপন করলে রাখতে হবে নন্দীকেও। মহাদেবের পুজোর পর, নন্দীরও পুজো করতে হবে, না হলে সেই পুজো অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। সেই থেকেই মহাদেবের সঙ্গী নন্দী।
নন্দী মহাদেবের বাহন। সে নন্দীকেশ্বর বা নন্দীদেব নামেও পরিচিত! নন্দীকে কেবল অলংকরণ বা প্রতীক হিসেবে শিব মন্দিরে রাখা হয় না। সে শিবের সবচেয়ে কাছের সঙ্গী। সর্বদা গর্ভগৃহে, মহাদেবের মুখ থাকে তাঁর। দৃষ্টি থাকে মহাদেবের উপর। কিন্তু তার কারণ কী? মনে করা হয়, মহাদেব অধিকাংশ সময়ই ধ্যান মগ্ন থাকেন। যাতে তাঁর কোনও ব্যাঘত না ঘটে সেই জন্য সদা সতর্ক দৃষ্টি রাখে নন্দী।
মহাদেবের পুজোর পাশাপাশি পুজো করা হয় নন্দীকেও। হিন্দু শাস্ত্রে বিশ্বাস করা হয়, নন্দী মহাদেবের কান! তাঁর পুজোর পর ভক্তরা মনের ইচ্ছা নন্দীর কানে বললে তা ঠিক শুনতে পারেন মহাদেব। শিবলিঙ্গের পুজো করার পর নন্দীর সামনে প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করার বিধানও রয়েছে। তারপর কারও সঙ্গে কোনও কথা না-বলে নন্দীর কানে নিজের মনস্কামনা বললে তা পূরণ হয়! ভক্তদের বিশ্বাস নন্দী চিরন্তন শ্রোতা। তার কাছে বলা কোনও কথা জলে যায় না! তাই তাঁর কানে নিজের ঠোঁট ঢেকে ফিসফিস করে ইচ্ছা প্রকাশের রীতি রয়েছে।
