খাঁ খাঁ রোদ্দুর আর খামখেয়ালি আবহাওয়া জানান দিচ্ছে বিপদ আসন্ন। জলবায়ু পরিবর্তনের সেই ভ্রুকুটিকে উপেক্ষা না করে, যুক্তি আর বিজ্ঞানের হাত ধরে লড়াইয়ের ডাক দিল আগরপাড়া পরিবেশ চেতনা মঞ্চ। শনিবার থেকে বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরে শুরু হল ‘পরিবেশ ও বিজ্ঞান মেলা ২০২৬’। আয়োজক পরিবেশ চেতনা মঞ্চ ও সহযোগী সংগঠনসমূহ। মেলা চলবে রবিবার, ১ মার্চ, রাত ৮.৩০ পর্যন্ত।
শনিবার দুপুর ৩টে নাগাদ প্রদীপ জ্বালিয়ে মেলার উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. তুষার চক্রবর্তী। মেঘনাদ সাহা মঞ্চে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। পরিবেশ রক্ষা কেবল আবেগ নয়, এটি বিশুদ্ধ বিজ্ঞানের বিষয়। বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনটাই জানান তিনি। মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ‘জৈব হাট’। যেখানে রাসায়নিকমুক্ত ফসলের পসরা সাজিয়ে বসবেন কৃষকরা। মেলা প্রাঙ্গণে ঘুরলেই চোখে পড়বে পরিবেশ বিষয়ক বইয়ের সম্ভার, বিজ্ঞান মডেল এবং ছাত্রছাত্রীদের তৈরি হরেক রকমের পোস্টার।
এদিন বিকেলের মূল আকর্ষণ বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে বিশেষ আলোচনা। ‘ডারউইন ও জনমানস’ শীর্ষক এই সভায় বক্তব্য রাখবেন আইআইএসইআর-এর অধ্যাপিকা অনিন্দিতা ভদ্র। বিবর্তনবাদ আজও কেন প্রাসঙ্গিক তা এই মঞ্চের আলোচনার বিষয়। প্রকৃতির প্রভু নয়, মানুষ যে প্রকৃতিরই অংশ— এই সত্য বুঝতে হবে। অনুষ্ঠানে রয়েছে তাৎক্ষণিক বক্তৃতা ও বসে আঁকো প্রতিযোগিতা। খুদেদের তুলিতে উঠে আসবে সবুজ পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন। সন্ধ্যায় পালিহাটি শঙ্খচিল কালচারাল সোসাইটির পরিবেশনা। রয়েছে ড. শঙ্কর নাথের মহাকাশ বিষয়ক আলোচনা।
রবিবার মেলার দ্বিতীয় দিন। এদিন থাকছে বিজ্ঞানে মেয়েদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা এবং কুসংস্কার বিরোধী বিশেষ অনুষ্ঠান। পানিহাটি বিজ্ঞান মঞ্চের পক্ষ থেকে অলৌকিক ঘটনার পিছনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। পরিবেশ আইনের জটিল মারপ্যাঁচ নিয়ে আলোকপাত করবেন শ্রী বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়। সব শেষে হিমালয় ও আরাবল্লীর বর্তমান সংকট নিয়ে প্রদর্শিত হবে তথ্যচিত্র।
পরিবেশ চেতনা মঞ্চের সম্পাদক অনির্বাণ মজুমদার জানান, যুক্তিবাদী সমাজ গঠনই এই মেলার মূল লক্ষ্য। সভাপতি দুলাল চক্রবর্তীর কথায়, বিজ্ঞানবিমুখতা কাটাতে এ ধরনের মেলা প্রতি বছর প্রয়োজন। আগরপাড়ার এই মেলা কেবল প্রদর্শনী নয়, বরং আগামী প্রজন্মের কাছে এক সচেতনতার পাঠশালা হয়ে উঠেছে।
