গর্ভনিরোধক, তাও পুরুষদের! এতদিন যা মূলত মহিলারাই ব্যবহার করতেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে কন্ডোম বা ভ্যাসিকটমির মতো পদ্ধতি থাকলেও ওষুধ বা ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি ছিল মহিলাদের জন্যই। কিন্তু এবার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা দাবি করলেন, তাঁরা আবিষ্কার করে ফেলেছেন নিরাপদ ও একশো শতাংশ কার্যকরী পুরুষ গর্ভনিরোধক (Male Contraceptive)। এবং এতে কোনও হরমোনও লাগবে না।
জানা গিয়েছে, ছ'বছরেরও বেশি সময় ধরে বিজ্ঞানীরা এই নিয়ে গবেষণা করছিলেন। যে পদ্ধতিতে যৌনকোষ উৎপন্ন হয় তার নাম মায়োসিস। সেই পদ্ধতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপকে বাধা দিলে সন্তান উৎপাদন করা সম্ভব হবে না বলেই মনে করেছিলেন তাঁরা। তারপর শুরু হয় সেই বাধাদানের প্রয়াস। আর সেজন্য জেকিউ১ নামের অণু, যা ক্যানসার ও প্রদাহজনিত অসুখের পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হয়, সেটাকেই কাজে লাগানো হয়। 'দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস'-এ সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে এই বিষয়ে বিশদে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে জানা যাচ্ছে, মায়োসিসের 'প্রফেজ ১' ধাপটিকে ব্যাহত করে সাময়িক ভাবে শুক্রাণুর উৎপাদন রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ইঁদুরদের মধ্যে গবেষণা করে দারুণ সাড়া মিলেছে বলেই দাবি।
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা দাবি করলেন, তাঁরা আবিষ্কার করে ফেলেছেন নিরাপদ ও একশো শতাংশ কার্যকরী পুরুষ গর্ভনিরোধক। এবং এতে কোনও হরমোনও লাগবে না।
গবেষণাপত্রটির অন্যতম লেখক পলা কোহেন জানিয়েছেন, ''শুক্রাশয়ের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুকে কাজে লাগিয়ে শুক্রাণু উৎপাদন বন্ধ করা এক বাস্তবসম্মত উপায়। আমাদের গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা স্বাভাবিক মায়োসিস এবং শুক্রাণুর পূর্ণাঙ্গ কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এর ফলে সৃষ্ট বংশধররা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়।''
কীভাবে ব্যবহার করা হবে ওই গর্ভনিরোধক? কোহেন জানিয়েছেন, মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে গড়ে তোলার পর এই ধরনের পুরুষ গর্ভনিরোধক প্রতি তিন মাস অন্তর একটি ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
