ভোটের আবহে বিজেপিতে যোগ দিলেন টেনিস কিংবদন্তি লিয়েন্ডার পেজ। অলিম্পিক পদকজয়ী টেনিস তারকার পদ্মশিবিরে যোগদানের জল্পনা চলছিল বেশ কয়েকদিন ধরে। গতকালই সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালে প্রকাশ করা হয়, গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন তিনি। সূত্রের খবর, সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রাক্তন টেনিস তারকা। গত সপ্তাহে তিনি বৈঠক করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের সঙ্গে। অবশেষে মঙ্গলবার তিনি যোগ দিলেন পদ্মশিবিরে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এবং বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন লিয়েন্ডার। তাঁর আগমনে দেশজুড়ে বিজেপির শক্তি বাড়বে, জানালেন সুকান্ত। তাঁর কথায়, লিয়েন্ডারের যোগদানে বাংলাতেও শক্তিশালী হবে গেরুয়া শিবির। বাংলায় পরিবর্তন আনতে সাহায্য করবেন। যোগ দেওয়ার পর লিয়েন্ডার বলেন, "আজ আমার জীবনে বড় দিন, নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। ৪০ বছর ধরে দেশের জন্য টেনিস খেলেছি। এবার নতুন খেলার সুযোগ পেয়েছি। দেশের সেবা করতে পারব।" লিয়েন্ডার জানিয়েছেন, ক্রীড়াক্ষেত্র এবং যুব সমাজের উন্নয়নের জন্য় তিনি কাজ করতে চান।
আগামী মাসে বাংলার পাশাপাশি অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরিতে রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। ভোটের মুখেই লিয়েন্ডারের বিজেপি যোগে প্রশ্ন উঠছে, এবার কি তাহলে নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন তিনি? অতীতেও অবশ্য বেশ কয়েকবার জল্পনা ছড়িয়েছিল, ভোটে লড়তে পারেন লিয়েন্ডার। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি বৈঠক করেন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে। দু’বছর পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে গোয়ার মাটিতে তৃণমূলে যোগ দেন লিয়েন্ডার। সেবারও শোনা গিয়েছিল, লিয়েন্ডারকে প্রার্থী করা হতে পারে। শেষ পর্যন্ত টিকিট পাননি।
এবার কি তাহলে শিকে ছিঁড়বে প্রাক্তন টেনিস তারকার কপালে? সূত্রের খবর, তেমনটা হয়তো হবে না। কিন্তু ক্রীড়া প্রশাসনে বিরাট পদ পেতে পারেন লিয়েন্ডার। ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের জন্য বহু চেষ্টা করছে ভারত। তার জন্য আহমেদাবাদকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে বহু পরিকাঠামো। পাশাপাশি তৈরি হয়েছে মিশন অলিম্পিক ২০৩৬। দশ বছর পর গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ থেকে ভারত যেন অন্তত ১০০টি পদক পায়, সেটা নিশ্চিত করতেই এই মিশন প্রতিষ্ঠা। নানা খেলায় ভারতীয়দের মানোন্নয়নেও জোর দেবে এই মিশন। সম্ভবত এই মিশনের শীর্ষ পদে বসানো হতে পারে লিয়েন্ডারকে।
