দেশের আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্যান কার্ডের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে আগামী ১ এপ্রিল থেকে এই সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়মে বড়সড় রদবদল ঘটতে পারে। কেন্দ্রীয় আয়কর দফতর ইতিমধ্যেই ২০২৬ সাল পর্যন্ত কার্যকর হওয়ার যোগ্য একটি খসড়া বিধি প্রকাশ করেছে। আয়কর আইন ২০২৫-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে কর ব্যবস্থাকে আরও সরল করাই এর মূল লক্ষ্য। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জনসাধারণের মতামত নেওয়া হবে এবং তারপরই চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হতে পারে। প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে ব্যাঙ্ক ডিপোজিট থেকে শুরু করে গাড়ি কেনা-বেচার মতো প্রতিদিনের আর্থিক কাজে।
ছবি: সংগৃহীত
ডিপোজিটে কমবে ঝক্কি
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসে এক দিনে ৫০ হাজার টাকার বেশি নগদ জমা দিলে প্যান কার্ড বাধ্যতামূলক। প্রস্তাবিত নতুন নিয়মে এই দৈনিক সীমা তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরিবর্তে আনা হচ্ছে বার্ষিক সীমা। কোনও আর্থিক বছরে যদি মোট জমার পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যায়, তবেই প্যান কার্ডের তথ্য দিতে হবে। এর ফলে ছোট আমানতকারীদের বারবার প্যান দেওয়ার ঝক্কি কমবে।
গাড়ি কেনা-বেচায় স্বস্তি
এখন যে কোনও যানবাহন, তা দু’চাকা হোক বা চার চাকা, কেনা বা বিক্রির সময়ে প্যান কার্ড আবশ্যিক। তবে নতুন খসড়া অনুযায়ী, যদি গাড়ির দাম ৫ লক্ষ টাকার কম হয়, তবে প্যান কার্ড ছাড়াই লেনদেন করা যাবে। অর্থাৎ মধ্যবিত্তের সস্তার গাড়ি কেনায় প্যান কার্ডের বাধা আর থাকছে না।
ছবি: সংগৃহীত
রেস্তোরাঁ বিল ও স্থাবর সম্পত্তি
হোটেল বা রেস্তোরাঁয় এখন ৫০ হাজার টাকার বেশি বিল হলেই প্যান কার্ড দেখাতে হয়। নতুন প্রস্তাবে এই সীমা বাড়িয়ে ১ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে, জমি বা বাড়ি কেনা-বেচার ক্ষেত্রে প্যান ব্যবহারের উর্ধ্বসীমা ১০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ লক্ষ টাকা করার কথা ভাবা হচ্ছে। অর্থাৎ উচ্চমূল্যের লেনদেন না হলে এখনকার তুলনায় বেশি ছাড় মিলবে।
বিমা ও নজরদারি
বিমা প্রিমিয়ামের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকার ঊর্ধ্বসীমা বদলানোর পাশাপাশি বিমা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য লেনদেনকেও প্যান কার্ডের আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আয়কর দফতরের মূল লক্ষ্য হল উচ্চমূল্যের লেনদেনগুলিকে আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা। এর ফলে একদিকে যেমন কর ফাঁকি দেওয়া রোখা সম্ভব হবে, তেমনই সাধারণ করদাতার কাছে আর্থিক নথিকরণ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে এই সংশোধিত নিয়মগুলি কার্যকর হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
