স্মার্টফোনের এক ক্লিকেই অ্যাকাউন্ট সাফ। ওটিপি শেয়ার করে সর্বস্বান্ত হওয়ার গল্প এখন ঘরে ঘরে। ডিজিটাল জমানার এই অন্ধকার দিকটি সামাল দিতে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা ঘোষণা করলেন, ডিজিটাল জালিয়াতির শিকার হলে গ্রাহকদের ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। সবচেয়ে বড় খবর, ভুলবশত ওটিপি শেয়ার করে ফেললেও এই ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে।
ফাইল ছবি
আরবিআই জানিয়েছে, এই ক্ষতিপূরণের অর্থ দেওয়া হবে ‘ডিপোজিটর এডুকেশন অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস’ (ডিইএ) ফান্ড থেকে। বর্তমানে এই তহবিলে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। ১০ বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে থাকা দাবিহীন আমানত দিয়েই এই তহবিল তৈরি হয়েছে। ডেপুটি গভর্নর স্বামীনাথন জে জানিয়েছেন, এই বিপুল তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ দিলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিশেষ প্রভাব পড়বে না।
শর্ত কী কী?
সুবিধা যেমন আছে, তেমনই আছে কিছু কড়া নিয়ম। প্রথমত, একজন গ্রাহক জীবনে মাত্র একবারই এই ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য হবেন। দ্বিতীয়ত, জালিয়াতির নেপথ্যে গ্রাহকের কোনও অসৎ উদ্দেশ্য বা যোগসাজশ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। আরবিআই স্পষ্ট করেছে, গ্রাহকদেরও কিছুটা দায়বদ্ধতা বা ‘স্কিন ইন দ্য গেম’ থাকতে হবে। সেই কারণেই জালিয়াতি হওয়া অংকের ১৫ শতাংশ টাকা গ্রাহককেই বহন করতে হবে। বাকি ৮৫ শতাংশ টাকা মিলবে ক্ষতিপূরণ হিসেবে, যার ঊর্ধ্বসীমা ২৫ হাজার টাকা।
ফাইল ছবি
কেন এই পদক্ষেপ?
ব্যাঙ্ক কর্তাদের পর্যবেক্ষণ, দেশে ডিজিটাল জালিয়াতির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রই ৫০ হাজার টাকার নিচে। ফলে ২৫ হাজার টাকার এই সুরক্ষা কবচ সাধারণ মানুষের বড় অংশকে স্বস্তি দেবে। গভর্নর মালহোত্রার কথায়, “লেনদেনটি যদি অনিচ্ছাকৃত হয় এবং টাকা খোয়া যায়, তবে কোনও প্রশ্ন ছাড়াই এই টাকা দেওয়া হবে।”
এর পাশাপাশি প্রবীণ নাগরিকদের সুরক্ষায় বাড়তি যাচাইকরণ বা টাকা ক্রেডিট হওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সময়ের ব্যবধান (ল্যাগড ক্রেডিট) রাখার মতো একগুচ্ছ নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত খসড়া নিয়মাবলী সাধারণ মানুষের মতামতের জন্য প্রকাশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
