যে উদ্দেশ্যে ভারতীয় পণ্যে অধিক শুল্ক আরোপ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, তা সফল হয়েছে। তাই এবার শুল্কহার কমানো যেতেই পারে বলে মন্তব্য করলেন মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট। সুৎজারল্যান্ডে দাভোসে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মঞ্চে স্কট বলেন, "ভারতীয় পণ্যে ২৫ শতাংশ বেশি শুল্ক চাপানোর উদ্দেশ্য সফল। রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। কিন্তু এখনও অধিক শুল্ক কার্যকর রয়েছে। আমার মনে হয়, এবার তা কমানো যেতেই পারে।"
প্রসঙ্গত, দিন দুয়েক আগেই দাভোসের আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কের বার্তা দিয়েছিলেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বলেছিলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের একটি দুর্দান্ত ও মজবুত (বাণিজ্য) চুক্তি হবে।” ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও প্রশংসা করে তিনি বলেন, “আপনারা একজন দুর্দান্ত নেতা পেয়েছেন। আমি ওঁকে খুবই শ্রদ্ধা করি।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের পরেই কিছুটা আশার আলো দেখছিলেন ভারতীয় কূটনীতিকেরা। স্কটের মন্তব্যের পর তা আর একটু জোরালো হল বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল কেনার জন্য শাস্তি হিসেবে ভারতের উপরে বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। ফলে এ দেশের পণ্যের তাদের মোট শুল্ক ৫০ শতাংশ। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবেও রুশ তেলের আমদানি বন্ধ করার চাপ রয়েছে নয়াদিল্লির উপর। ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মুখে নয়াদিল্লি অবশ্য বার বারই জানিয়ে এসেছে, দেশের উপভোক্তাদের কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেবে তারা। কোন দেশ থেকে কতটা সস্তায় তেল পাওয়া যাচ্ছে, মাথায় রাখা হবে সেটাও।
রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরেই মস্কোর তেল বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল আমেরিকা। সেই সময় তেল বিক্রি অব্যাহত রাখতে মোটা টাকা ছাড় দেওয়া ঘোষণা করে ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন। ভারতও তেল কেনার বিষয়ে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির উপর নির্ভরতা খানিক কমিয়ে রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ ক্রমশ বাড়াতে থাকে। চিনের পর ভারতই রুশ তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে তেল বিক্রির টাকা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহার করছে রাশিয়া। বিশ্বে বহু যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব দাবি করলেও এখনও পর্যন্ত রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পারেননি ট্রাম্প। তাই পুতিনের দেশকে ‘ভাতে মেরে’ আলোচনার টেবিলে বসাতে চায় হোয়াইট হাউস। তবে পুতিনের দেশের উপর এখনও পর্যন্ত কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করেনি আমেরিকা। গত ডিসেম্বরে ভারতে এসেছিলেন পুতিন। সেই সময় রুশ প্রেসিডেন্টের বার্তা ছিল, আমেরিকা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনে। তা হলে কেন ভারতের সেই অধিকার থাকবে না? এ নিয়ে তাঁরা ট্রাম্পের সঙ্গেও কথা বলতে রাজি বলে জানিয়েছিলেন পুতিন।
