অগ্নিগর্ভ ইরানে সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে ফুঁসছে সেদেশের মানুষ। এদিকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, তেহরানের দিকে এগোচ্ছে মার্কিন রণতরী। এই পরিস্থিতিতে খামেনেই-সঙ্গী আবদুল মাজিদ হাকিম ইলাহি ভারতের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য রাখলেন। জানিয়ে দিলেন, ইসলামের চেয়েও পুরনো দুই দেশের সম্পর্ক। যে 'বন্ধুত্বে'র বয়স ৩ হাজার বছর প্রাচীন। তাই এই মন্তব্যকে কূটনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
ইলাহি বলেন, ''ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সবসময় ইরান ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক ও সহযোগিতার ওপর জোর দেন। আমি আশা করি যে, চাবাহারে ওরা ভালো ভাবেই কাজ করবে। ইরান ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক ও সহযোগিতার ইতিহাস ৩,০০০ বছরের পুরনো, যা ইসলামের আগমনেরও আগের। এমনকী সেই সময়েও আমরা ভারতের দার্শনিক গ্রন্থগুলি ব্যবহার করতাম। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে দর্শনগ্রন্থে অধ্যয়নের পাশাপাশি গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও চিকিৎসাশাস্ত্রও আপনাদের সভ্যতা থেকেই পেয়েছি। আমরা আমাদের স্কুল থেকেই ইরান ও ভারতের মধ্যেকার সম্পর্ক সম্পর্কে জেনেছি।''
প্রাক্তন শাহের ছেলে রেজাকে প্রকাশ্যে বলতে শোনা গিয়েছে, ''ইরান স্বাধীন হলেই আমরা ভারতের সঙ্গে একেবারে নতুন একটা অধ্যায়ের সূচনা করতে পারব।''
স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ইরান কেন আচমকাই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে এমন মন্তব্য করছে। আসলে তেহরানে ফের রাজশাহি ফেরানোর দাবি উঠেছে। পারস্যের মানুষ শাহের শাসন ফেরাতে চায়, এমনটাই জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি এমনও শোনা যাচ্ছে, এই বিষয়ে নয়াদিল্লির সঙ্গেও নাকি প্রাক্তন শাহের ছেলে রেজার গোপন বৈঠক হয়েছে। প্রকাশ্যে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ''ইরান স্বাধীন হলেই আমরা ভারতের সঙ্গে একেবারে নতুন একটা অধ্যায়ের সূচনা করতে পারব।''
এই পরিস্থিতিতে খামেনেইয়ের বার্তায় বুঝিয়ে দেওয়া হল, ইসলামেরও আগমনের আগে থেকে ভারত-ইরানের সম্পর্ক। কাজেই সেখানে ধর্ম কোনও অন্তরায় নয়। এদিকে এই মুহূর্তে ভারতের শাসক বিজেপি হিন্দুত্ববাদী দল। নয়া বার্তায় যেন সেদিকেও ইঙ্গিত যে, গেরুয়া শিবির যেন ধর্ম নিয়ে না ভেবে খামেনেইয়ের পাশে থাকে। সব মিলিয়ে ইলাহির মন্তব্য যে বর্তমান পরিস্থিতিতে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ তাতে সন্দেহ নেই।
