নেপালে নতুন সূর্যোদয়। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচনে জয়ের পর শুক্রবার দেশটির ৪৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন জেন-জির 'পোস্টার বয়' র্যাপার বলেন্দ্র শাহ। ৩৫ বছর বয়সি বলেন্দ্র নেপালের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার বলেন্দ্রর শপথ গ্রহণের পর তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারত ও নেপালের দীর্ঘ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন তিনি।
কাঠমান্ডু পোস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী শুক্রবার সকালে নেপালের রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত হয় এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। বলেন্দ্রকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাউডেল। রীতি মেনে ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আয়োজিত হয় শপথগ্রহণ পর্ব। শঙ্খধ্বনি, ১০৮ জন বটুকের স্বস্তিশান্তি পাঠ ও ১৬ জন বৌদ্ধ ভিক্ষুকের অষ্টমঙ্গল মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে শপথ নেন বলেন্দ্র। অনুষ্ঠানে নেপালের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা প্রধান সুশীলা কারকি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, নেপাল পণতন্ত্রের পথে হাঁটলেও বলেন্দ্র কিন্তু রাজতন্ত্রপন্থী। ২০০৮ সালে রাজতন্ত্রের বিলোপ হয়েছিল দেশটিতে। বলেন্দ্রর আগমন ফের নেপালে রাজতন্ত্র ফেরার জল্পনাকে উসকে দিচ্ছে।
বলেন্দ্রকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাউডেল। রীতি মেনে ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আয়োজিত হয় শপথগ্রহণ পর্ব। শঙ্খধ্বনি, ১০৮ জন বটুকের স্বস্তিশান্তি পাঠ ও ১৬ জন বৌদ্ধ ভিক্ষুকের অষ্টমঙ্গল মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে শপথ নেন বলেন্দ্র।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পর নেপালের তরুণ প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করায় শ্রী বলেন্দ্র শাহকে আন্তরিক অভিনন্দন। প্রধানমন্ত্রী পদে আপনার শপথগ্রহণ আপনার নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থারই প্রতিফলন। দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণের লক্ষ্যে ভারত-নেপাল বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে আমি আপনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে মুখিয়ে রয়েছি।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেন জি আন্দোলনের জেরে ওলি প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর দেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। এরপর ৫ মার্চ জাতীয় নির্বাচন হয় নেপালে। ১৬৫টি আসনে ভোটের লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিল ৬৫টি রাজনৈতিক দল। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলে এই নির্বাচনে কোনও দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সন্দেহ ছিল। কেউ ভাবতে পারেননি প্রাক্তন র্যাপার বলেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে নবগঠিত রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) সংসদীয় নির্বাচনে প্রথম সারির প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হবে। কিন্তু সেটাই হয়। কারণ, নেপালের জেন জি-র বড় অংশের পছন্দ ছিলেন বলেন্দ্র শাহ।
উল্লেখ্য, বলেন্দ্র পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর মেয়রও ছিলেন তিনি। মেয়র পদে বসার পর তাঁর কাজ সাধারণ মানুষের মধ্যে বালেন্দ্রর জনপ্রিয়তা ব্যাপক বাড়িয়ে তোলে। এর পাশাপাশি র্যাপার হিসেবেও বেশ জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। এই দক্ষতায় তরুণ প্রজন্মের কাছের মানুষ হয়ে ওঠেন। তাঁদের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ নিয়ে গান বাঁধেন। এবার নেপালবাসীর প্রত্যাশা বাড়িয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে বসলেন বলেন্দ্র।
