যোগা এখন অনেকেরই প্রতিদিনকার অভ্য়েস। কেউ নিজেকে ফিট রাখতে, কেউ মানসিক শান্তি বা স্ট্রেস রিলিফের জন্য, কেউ আবার ব্যথা থেকে রেহাই পাবার জন্য় যোগা করেন। কিন্তু নিয়মিত অভ্যেসের পরেও অনেক সময় মনে হয়- কিছুই যেন ঠিকঠাক হচ্ছে না, প্রত্যাশিত ফল মিলছে না।
সমস্যাটা যোগায় নয়। যোগা কোনও দ্রুত ফল পাবার উপায় বা ট্রেন্ড নয়, আবার শুধু শরীরচর্চাও নয়। এটি এমন এক প্রক্রিয়া, যেখানে শরীর, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং মন একসঙ্গে কাজ করে। তৈরি করে শরীর ও মনের মধ্যে সেতুবন্ধন, যা আমাদের দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে সাহায্য় করে।
কিন্তু কোনও ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে যোগা শুরু করলে শরীর ও মনের সেই সংযোগটাই গড়ে ওঠে না। ফলে ধীরে ধীরে যোগায় আগ্রহ কমে, আর একসময় অভ্যেসটাই হারিয়ে যায়। তাই যোগা শুরুর আগে সেই ভুল ধারণাগুলো থেকে বেরিয়ে আসা অত্য়ন্ত জরুরি।
ছবি: সংগৃহীত
১. যোগা মানে শুধুই আসন
অনেকে ভাবেন যোগা মানেই কিছু নির্দিষ্ট ভঙ্গি। তা কিন্তু নয়। যোগা আসলে এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে শ্বাস-প্রশ্বাস, মনোযোগ এবং সচেতনতার বড় ভূমিকা রয়েছে। যদি শুধু শরীরচর্চার উপর জোর দেওয়া হয়, তাহলে তা একধরনের ব্য়ায়াম বা পারফরম্যান্সে পরিণত হয়। এতে শরীরের সঙ্গে মনের সংযোগ থাকে না, বাড়ে চাপ আর ক্লান্তি। বরং প্রতিটি ভঙ্গিকে অত্য়ন্ত সচেতনতার সঙ্গে ধীরে ধীরে শ্বাসের সঙ্গে মিলিয়ে করাই যোগায় ফল পাবার আসল চাবিকাঠি।
২. যোগা শুধু স্ট্রেচিং, এতে শক্তি বাড়ে না
এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। সঠিকভাবে যোগা করলে শরীরের শক্তি, ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা বাড়ে। প্ল্যাঙ্ক, চেয়ার পোজ বা সূর্য নমস্কারের মতো ভঙ্গিগুলোতে বোঝা যায়, এটি কতটা শক্তি-নির্ভর। শুধু নমনীয়তা নয়, পেশির ব্যবহার, জয়েন্টের সাপোর্ট- সবই তৈরি হয় নিয়মিত যোগাভ্যাসে। তাই এটিকে হালকা ব্যায়াম ভেবে অবহেলা করার কোনও জায়গা নেই।
৩. যোগা করলে ফল পেতে অনেক দেরি হয়
অনেকেই ভাবেন যোগার ফল খুব ধীরে আসে, তাই হতাশ হন। বাস্তবে যোগার ফল দু'ভাবে আসে- কিছু দ্রুত, কিছু ধীরে। নিয়মিত অভ্যেস করলে খুব দ্রুতই ঘুমের উন্নতি, মানসিক শান্তি, শ্বাসের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন দেখা যায়। আর শরীরের গঠন বা ব্যথার উপশম একটু সময় নিয়ে আসে। এখানে মূল বিষয় হল ধারাবাহিকতা এবং সঠিকভাবে যোগাভ্য়াস।
ছবি: সংগৃহীত
৪. যোগা শুরু করতে হলে আগে ফ্লেক্সিবল বা ফিট হতে হবে
এই ধারণা অনেককে যোগা শুরু করতে বাধা দেয়। যোগা কোনও নির্দিষ্ট শরীরের জন্য নয়। এটি এমনভাবে তৈরি, যাতে যে কেউ নিজের অবস্থান থেকে শুরু করতে পারে। শরীর যতটা পারবে, সেখান থেকেই শুরু করা উচিত। নমনীয়তা যোগার ফল, শর্ত নয়।
৫. যোগা সবসময় নিরাপদ এবং খুব সহজ
যোগা যতই উপকারী হোক, এটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয়। ভুলভাবে বা অতিরিক্ত কিছু করতে গেলে চোটের সম্ভাবনা থেকেই যায়। বিশেষ করে যারা নতুন বা কোনও শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। শরীরের সংকেত বুঝে থামা, প্রয়োজনে পরিবর্তন করা এবং অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে যোগা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
যোগাকে শুধু শরীরচর্চা হিসেবে না দেখে, বরং নিজের যত্ন নেওয়ার একটি উপায় হিসেবে দেখলে, এর প্রকৃত উপকার পাওয়া যায়। এটি নিজের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি পথ। নিয়মিত এবং নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী যোগাভ্যাসই আপনাকে দীর্ঘদিন ভালো থাকতে সাহায্য় করবে।
