shono
Advertisement
Donald Trump

চুলোয় যাক হরমুজ, যুদ্ধ ছেড়ে পালাতে পারলেই বাঁচেন ট্রাম্প! বলছে রিপোর্ট

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ নিয়ে ঘনিষ্ঠমহলে ট্রাম্প নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, বলপূর্বক হরমুজের ‘তালা’ খুলতে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। শুধু তা-ই নয়, এই সংঘাত আরও দীর্ঘ হতে পারে। ট্রাম্প প্রথামিকভাবে অনুমান করেছিলেন, ইরান যুদ্ধ চার সপ্তাহের মধ্যে গুটিয়ে যাবে। কিন্তু একমাস পেরিয়ে গেলেও এখনও যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ নেই।
Published By: Subhodeep MullickPosted: 02:42 PM Mar 31, 2026Updated: 03:04 PM Mar 31, 2026

‘তৈল ধমনী’ হরমুজ প্রণালীকে অন্ধকারে রেখেই ইরান যুদ্ধ শেষ করতে তৎপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার মার্কিন কর্তাদের উদ্ধৃত করে এমনটাই দাবি করেছে আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’। সোমবারই ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, তেহরান যদি হরমুজে জাহাজ চলাচল করতে না দেয় তাহলে ইরানের সমস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং তৈল ভাণ্ডার ধ্বংস করে দেবে আমেরিকা। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই ‘ডিগবাজি’ খেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

Advertisement

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ নিয়ে ঘনিষ্ঠমহলে ট্রাম্প নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, বলপূর্বক হরমুজের ‘তালা’ খুলতে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। শুধু তা-ই নয়, এই সংঘাত আরও দীর্ঘ হতে পারে। ট্রাম্প প্রথামিকভাবে অনুমান করেছিলেন, ইরান যুদ্ধ চার সপ্তাহের মধ্যে গুটিয়ে যাবে। কিন্তু একমাস পেরিয়ে গেলেও এখনও যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ নেই। পালটা মার দিচ্ছে ‘আহত বাঘ’ ইরান। তাই এই পরিস্থিতিতে বলপূর্বক হরমুজ মুক্ত করা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ, তা বুঝে গিয়েছে ওয়াশিংটন।     

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ নিয়ে ঘনিষ্ঠমহলে ট্রাম্প নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, বলপূর্বক হরমুজের ‘তালা’ খুলতে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হল - ইরানের সামরিক পরিকাঠামো ধ্বংস করে যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ গুটিয়ে নেওয়া। সেক্ষেত্রে হরমুজ যদি আপাতত রুদ্ধ থাকে, তাহলে আপত্তি নেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের। তবে হরমুজের 'তালা' ভাঙতে পরে কোনও অভিযান চালাতে পারে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে, প্রতিবেদনে এ-ও বলা হয়েছে, যদি আমেরিকা কোনও অভিযান না-ও চালায় তবে হরমুজ মুক্ত করতে ট্রাম্প ইউরোপ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের 'বন্ধু'দের আহ্বান জানাতে পারে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জলপথ হরমুজ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝামাঝি অবস্থিত এই সংকীর্ণ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়।

উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জলপথ হরমুজ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝামাঝি অবস্থিত এই সংকীর্ণ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়। এটি বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে সরবরাহ হওয়া মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক পঞ্চমাংশ। সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত, কাতার, বাহরিন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এই প্রণালির মাধ্যমে তেল রপ্তানি করে থাকে। তেলের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস—বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এই পথ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে পৌঁছয়। কাতার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ। তারা হরমুজের মাধ্যমে গ্যাস রপ্তানির ওপরেই নির্ভরশীল। এই সব কারণেই হরমুজকে ‘বিশ্বের জ্বালানির লাইফলাইন’ বলা হয়। ভারত, চিন, রাশিয়া, ইরাক এবং পাকিস্তানকে ‘ছাড়পত্র’ দিয়ে বাকি দেশগুলির জন্য হরমুজ বন্ধ করে রেখেছে ইরান। ফলে তৈরি হয়েছে জ্বালানি সংকট।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement