'অল্প দিনের লড়াই' বলে যুদ্ধের ময়দানে পা রেখে বড় বিপাকে আমেরিকা। ৩১ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং পরিস্থিতি আরও গুরুতর আকার নিয়েছে। মার্কিন কোষাগার থেকে জলের মতো ব্যয় হচ্ছে অর্থ। এই পরিস্থিতিতে এবার আরব দেশের ঘাড় ভেঙে যুদ্ধের খরচ তোলার পরিকল্পনা করল আমেরিকা। সোমবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিনা লেভিট জানালেন, ট্রাম্প চান এই যুদ্ধের খরচ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, বাহরিন, কুয়েতের মতো দেশগুলি বহন করুক।
সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের পরিচালক কেভিন হ্যাসেট জানিয়েছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে এখনও পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার খরচ হয়ে গিয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় তার পরিমাণ ৯,৯৬০ কোটি টাকা। এখানেই শেষ নয়, যুদ্ধ চালিয়ে যেতে আরও অর্থের প্রয়োজন হবে বলে জানিয়ে বাড়তি বরাদ্দ চেয়েছে মার্কিন যুদ্ধ দপ্তর। এহেন পরিস্থিতির মাঝেই সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিক বৈঠকে লেভিটকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আমেরিকা কি আরব দেশগুলির থেকে যুদ্ধের খরচ তুলতে পারে?
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে এখনও পর্যন্ত আমেরিকা ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার খরচ হয়ে গিয়েছে। আরও বরাদ্দের জন্য আবেদন জানিয়েছে মার্কিন যুদ্ধ দপ্তর।
উত্তরে লেভেট বলেন, "এই বিষয়ে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টই যা বলার বলবেন। তবে আমার মনে হয় প্রেসিডেন্ট ওদেরকে (মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি) এই প্রস্তাব দিতে আগ্রহী হবেন। আমি জানি বিষয়টি তাঁর মাথাতেও রয়েছে। খুব শীঘ্রই তাঁর কাছ থেকে এই বিষয়ে বিশদে জানতে পারবেন আপনারা।" অর্থাৎ হোয়াইট হাউসের ইঙ্গিত স্পষ্ট যে আরব দেশের থেকেই যুদ্ধের টাকা আদায় করতে যাচ্ছে আমেরিকা।
উল্লেখ্য, ইরানের মাটিতে ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলার পর গোটা মধ্যপ্রাচ্যে বেপরোয়া ভাবে হামলা শুরু করেছে তেহরান। এই অবস্থায় দেশ রক্ষার্থে আমেরিকার দ্বারস্থ হয়েছে আরব দেশগুলি। প্রকাশ্যে না বললেও, শোনা যাচ্ছে আরব দেশগুলি আমেরিকাকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছে। ঠিক সেই সুযোগকে হাতিয়ার করেই যুদ্ধের খরচ তাদের থেকে আদায় করতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
