পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আগুন আরও গনগনে। এবার দুবাইয়ে কুয়েতের ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কারে হামলা করল ইরান। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অন্যতম ভয়াবহ হামলা মনে করা হচ্ছে এই হামলাকে।
জানা গিয়েছে, আল-সালমি নামের এক তেলবাহী জাহাজে ড্রোন কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়। প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত জাহাজ থেকে তেল সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওই জাহাজটি ‘ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার’, অর্থাৎ এতে কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছিল। তাই দূষণের পরিমাণ সাংঘাতিক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আমেরিকার ও ইজরায়েলের তরফে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে কার্যত তাণ্ডব চালাচ্ছে ইরান। এরইমাঝে তেহরানকে যুদ্ধবিরতির ১৫ দফা শর্ত দিয়ে ১০ দিনের জন্য সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা করেছিল আমেরিকা। সেই মেয়াদ শেষের আগেই ফের একবার হামলা চালাল তেহরান।
আল-সালমি নামের এক তেলবাহী জাহাজে ড্রোন কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়। প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত জাহাজ থেকে তেল সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে এদিনই ইরানের মাটিতে ভয়ংকর হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। মঙ্গলবার ভোররাতে ইরানের পরমাণু ঘাঁটি ইসফাহানে বাঙ্কার বাস্টার বোমা ফেলে মার্কিন বোমারু বিমান। হামলার পর ভয়ংকর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা শহর। এদিন হোয়াইট হাউসের শীর্ষ আধিকারিকের উদ্ধৃতি তুলে ধরে এই তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। হামলার পর বিস্ফোরণের ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।
এমন পরিস্থিতিতেও যুদ্ধবিরতি নিয়ে জল্পনা চলছে। যদিও হরমুজ প্রণালী নিয়ে সুর চড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে হুমকি দিয়ে তিনি বললেন, “দ্রুত হরমুজ খুলুন, না হলে দেশের সমস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং তেল ভাণ্ডার ধ্বংস করে দেব।” প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে ১৫ দফা শর্ত দিয়েছেন ট্রাম্প। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্পের সেই শান্তি প্রস্তাব ফুৎকারে উড়িয়ে দেয় ইরান। ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ডের শীর্ষ মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাকারি বলেন, “আমরা আগেও বলেছি এখনও বলছি, আপনাদের সঙ্গে আমরা কোনও চুক্তি করব না।”
