রুশ তেল কেনার ছাড়পত্র 'কেড়ে' নিয়েছেন। তারপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা শোনা গেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump On PM Modi) মুখে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে গত মঙ্গলবার প্রায় ৪০ মিনিট ধরে ফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তারপরেই মোদির গুণগান গাইলেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, রুশ তেল কেনার 'ছাড়' প্রত্যাহার করায় ভারতের সমস্যা বাড়বে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের আবহে। তবে সেসব নিয়ে মাথা ঘামাননি ট্রাম্প, স্রেফ বন্ধুর প্রশংসা করেছেন।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন মোদির সঙ্গে ফোনালাপ নিয়ে। জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, "মোদি আমার ভারতীয় বন্ধু। ওঁর সাথে আমার বেশ ভালোই কথা হয়েছে। তিনি দারুণ আছেন, ভালো কাজ করছেন। আমাদের ফোনালাপও বেশ ভালোই হয়েছে।" কী ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে, সেই নিয়ে অবশ্য ট্রাম্প কিছু জানাননি। প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার প্রায় ৪০ মিনিট ফোনে কথা বলেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। মোদি এক্স হ্যান্ডেলে জানান, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা-সহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালীকে উন্মুক্ত এবং সুরক্ষিত রাখা নিয়েও কথা হয়েছে।
মনে রাখা দরকার, হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হলে ভারতের জ্বালানি সংকট তীব্র হবে। কারণ প্রয়োজনের প্রায় ৮৫ শতাংশ জ্বালানি আমদানি করে ভারত। সেটার বড় অংশ আসে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর সময়ে আমেরিকা ঘোষণা করেছিল, রুশ তেল কেনায় নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হল। প্রথমে ভারত, তারপর অন্য দেশগুলিকে রুশ তেল কেনার 'অনুমতি' দেয় আমেরিকা। পরিসংখ্যান বলছে, এই সময়ে বিপুল পরিমাণে রুশ তেল আমদানি করেছে ভারত। প্রায় ৩০ মিলিয়ান ব্যারেল রুশ তেল ভারতে এসেছে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে।
রুশ তেল আমদানির ছাড়ের মেয়াদ ফুরিয়েছে। সেই 'অনুমতি' আর দিতে নারাজ মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানি তেল কেনার ক্ষেত্রে যে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। নবীকরণ করা হবে না লাইসেন্স। এই ছাড় শুধু সেই তেলের জন্য ছিল, যা ১১ মার্চের আগে জাহাজে লোড হয়ে সমুদ্রে পৌঁছে গিয়েছিল। সেই তেল ইতিমধ্যেই ব্যবহৃত হয়ে গিয়েছে। যদি কোনও দেশ রুশ এবং ইরানি তেল কেনে, তাহলে 'সাজা' ভুগতে হবে।
