প্রায় ৪০ দিন যুদ্ধ চলার পর ২ সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে ইরান-আমেরিকা। এদিকে ভেস্তে গিয়েছে ইরান-আমেরিকা শান্তি আলোচনা। ভারতীয় সময় রবিবার ভোরে এমনই ঘোষণা করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এই পরিস্থিতিতে বড় হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। জানিয়ে দিলেন, এবার হরমুজ প্রণালী (Strait Of Hormuz) দিয়ে জাহাজ ঢোকা ও বেরনো নিয়ন্ত্রণ করবে আমেরিকাই।
নিজের সোশাল মিডিয়া ‘ট্রুথ সোশাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাঁরা চান সমস্ত জাহাজই ঢুকুক। এবং বেরিয়েও যাক। কিন্তু ইরান সেটাই হতে দিচ্ছে না। তাঁর দাবি, মার্কিন নৌবাহিনীকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন জলসীমায় প্রতিটি জাহাজকে খুঁজে বের করতে, যারা ইরানকে শুল্ক দিয়ে সেখানে প্রবেশ করেছে। যারাই বেআইনি শুল্ক দিয়েছে গভীর সমুদ্রে তাদের নিরাপদে যাতায়াতের সুযোগ দিতে নারাজ ওয়াশিংটন।
শান্তি বৈঠক শুরুর আগে ট্রাম্প কার্যত হুমকি দিয়ে জানিয়েছিলেন, চুক্তি কিংবা না হোক আমেরিকা হরমুজ প্রণালী মুক্ত করেই ছাড়বে। তখন থেকেই প্রশ্ন উঠছিল ইরানে কি আরও বড় হামলার পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট? এখন শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর সেই প্রশ্নটিও জোরালো হচ্ছে। তার মধ্যেই ট্রাম্প জানালেন হরমুজে জাহাজ ঢোকা-বেরনো তাঁরাই নিয়ন্ত্রণ করবেন।
সংঘর্ষবিরতির পথে হাঁটলেও যুদ্ধে ইরানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিশাল। ইরানের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, হরমুজ প্রণালী থেকে যাতায়াত করা জাহাজগুলি থেকে সংগৃহীত অর্থ যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনে ব্যবহার করা হবে, কারণ এই সংঘাত দেশটির প্রতিরক্ষা, প্রশাসনিক ও বেসামরিক পরিকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে। সেই লক্ষ্যেই এবার প্রস্তুতি শুরু করেছে ইরান। জানা যাচ্ছে, অবাধ যাতায়াতে দাঁড়ি টেনে জ্বালানিবাহী জাহাজ থেকে ব্যারেল পিছু নেওয়া হবে এক ডলার করে। আরও জানা যাচ্ছে ক্রিপ্টো কারেন্সিতে নেওয়া হবে এই অর্থ।
